জগন্নাথের পুরী ধামে ভোজন

0
90

জগন্নাথদেবের পুরী ধামে ভোজন-
পুরান মতে ভগবান জগন্নাথ চার ভাবে
এই বিশ্বে প্রতিভাত হলেও তিনি ভোজনের জন্য পুরী ধামে আবিভূত হয়েছেন-

ক) বদ্রীনাথ ধামে তিনি ধ্যান মগ্ন
খ) রামেশ্বরম ধামে স্নান লীলা
গ) দ্বারকায় শয়ন এবং
ঘ) পুরী ধামে ভোজন
এই চার ধামের মধে তিনি শ্রীক্ষেত্র পুরী
ধামেই নিত্য আহার করেন, তাই পুরী ধামের
ভোগের মহত্ব এত অসীম।
এই পুরী ধামে শ্রী ভগবানের নিত্য সেবা হয় ৫৬
রকমের ভোগ দিয়ে।
স্বয়ং মাতা লক্ষী দেবীই যেন প্রতিদিন প্রভু
জগন্নাথের জন্য এই ভোগ রান্না করেন।
জগন্নাথ দেবের ভোগ গ্রহনের পর মাতা বিমলা
দেবী সেই প্রসাদ গ্রহণ করেন। তাই এই প্রসাদ
মহাপ্রসাদ নাম জগত বিখ্যাত। এই মহাপ্রসাদে
থাকে ৯ রকমের চালের পদ, ১৪ রকমের সবজি
৯ রকমের দুধের জিনিস, ১১ রকমের মিষ্টি,২৩ রকমের পিঠা-পুলি, মালপোয়া ও অনন্য জিনিস।

একবার ইস্কন প্রতিষ্ঠাতা শ্রীলপ্রভুপাদ
আমেরিকায় রথযাত্রার সময় উপস্থিত ছিলেন
সেখানে ওয়াশিংটনে প্রথম ইস্কনের
রথযাত্রা শুভ সূচনার সময়। ৫৬ ভোগ দিতে গিয়ে
দেখা যায় বহু বিদেশীরাই ভারতীয় রান্নার
এতগুলি নিরামিষ পদ আয়ত্ত করতে পারছিলেন
না। তখন তিনি নিজে দাড়িয়ে নিরামিষ পদ
কেক, প্যাটিস বানানো শিখিয়েছিলেন বিদেশী ভক্তদের।

তবে শ্রীক্ষেত্র পুরীতে যারা গেছেন তারা
সকলেই অবগত আছেন পুরীধামের রান্নাঘরের মাহাত্ম্যা সম্পর্কে।
সে এক দেখার মতই রান্নাঘর, প্রতিদিন ৭৫২টি
উনুনে রান্না হয়, ৬০০জন রাঁধুনি, আর ১,০০০
সহকারী এই কাজ করেন নিষ্ঠা সহকারে।
জগন্নাথ দেবের রান্নায় সব সবজি লাগলেও
কিছু সবজি একেবারেই নিষিদ্ধ যেমন –
সাধারণ আলু (একমাত্র ক্ষামআলু ব্যবহার করা হয়)
লঙ্কা, গাজর, রসুন, পিয়াজ, টমেটো প্রভৃতি।
আশ্চর্যের বিষয় এই পাকশালায় কোনো
বৈদ্যুতিক বাতি নেই। কুপি বা লম্ফ জ্বেলে দক্ষ
পাণ্ডারা এই রান্না করে যাচ্ছেন সেই
আদ্দিকাল থেকে আজ একই ভাবে। সব রান্নাই
হয় মাটির হাড়িতে করে, কোনো ধাতব পাত্র
ব্যবহার হয়না।
সব থেকে আশ্চর্যের বেপার হলো উনোনের উপর
একটা হাড়ির উপর আর একটা হাড়ি চাপিয়ে
দেওয়া হয়, এই ভাবে পর পর ৯টি হাড়ি
চাপানো থাকে আর শেষ হাড়ির নিচে
থাকে গনগনে উননের আচ কিন্তু সব থেকে
উপরের হাড়ির রান্না শেষ হয় সবার প্রথমে।
এমন বিচিত্র লীলা লীলাময়ের দ্বারাই একমাএ সম্ভব।

জয় জগন্নাথ। জয় জগন্নাথ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here