জগতের সৃষ্টি কীভাবে হলো?

0
103

ড. প্রেমাঞ্জন দাস:
আমার প্রথম প্রশ্ন: পৃথিবী কী করে তৈরি হল? বৈজ্ঞানিকেরা সাধারণত বলেন, সূর্য থেকে।
আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন: সূর্য কিভাবে সৃষ্টি হল? বৈজ্ঞানিকেরা সাধারণত বলেন, শক্তি থেকে।
আমার তৃতীয় প্রশ্ন: শক্তি কিভাবে সৃষ্টি হল? এভাবে যদি আমি প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতে থাকি, একজায়গায় এসে বৈজ্ঞানিকরা থেমে যেতে বাধ্য। এক জায়গায় এসে তাদের বলতেই হবে, শক্তিটা আগে থেকেই ছিল। কিংবা কিছু না কিছু আগে থেকেই ছিল। অনেক বৈজ্ঞানিক মনে করে প্রকৃতি থেকেই সবকিছুর সৃষ্টি। যদি প্রশ্ন করা হয়, প্রকৃতি কী করে সৃষ্টি হল? তারা উত্তর দেয়, প্রকৃতি আগে থেকেই ছিল। অর্থাৎ কিছু না কিছু আগে থেকেই ছিল। যারা বিগ ব্যাং তত্ত্বে বিশ্বাসী, তারা মনে করেন, জগৎ সৃষ্টি হয়েছে একটি পিণ্ড থেকে। যদি প্রশ্ন করা হয়, সেই পিণ্ডটি কীভাবে সৃষ্টি হল? তারা বলেন, পিণ্ডটা আগে থেকেই ছিল। সুতরাং বিজ্ঞানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হল: কিছু না কিছু আগে থেকেই ছিল। ধরুন, আমরা বিজ্ঞানের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে মেনে নিলাম যে কিছু না কিছু আগে থেকেই ছিল। এবার আমাদের পরবর্তী প্রশ্ন : যা আগে থেকেই ছিল তা কেমন বস্তু? তা কি বুদ্ধিমান চেতন বস্তু নাকি নিরেট জড় বস্তু?
মনে করুন, আমার হাতে একটা dictionary আছে যদি প্রশ্ন করা হয় এটি কীভাবে সৃষ্টি হল? কেউ হয়তো বলল, এটি আগে থেকেই ছিল। আবার আরেকজন ব্যক্তি বললেন যে, একজন বা একদল বুদ্ধিমান মানুষ রচনা করেছেন। তাহলে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হল, এটি সৃষ্টি হয়েছে একজন বা একদল বুদ্ধিমান মানুষের তত্ত্বাবধানে। একটি জটিল ও নিখুঁত dictionary যেমন কোনো জড় পিণ্ড থেকে সৃষ্টি হতে পারে না, ঠিক তেমনি মানুষের জটিল ও নিখুঁত মস্তিষ্কও কোনো জড় পিণ্ড থেকে সৃষ্টি হতে পারে না।
একটি সুন্দর ছবি যেমন কোনো জড় পিণ্ড থেকে সৃষ্টি হতে পারে না, কারণ চিত্রশিল্পী জড় নয়। ঠিক তেমনি শত শত সুন্দর নরনারী, সুন্দর সুন্দর সুগন্ধি ফুল, ময়ূরের মতো নানাবিধ রঙ বেরঙের পাখী কখনো জড় পিণ্ড থেকে সৃষ্টি হতে পারে না। ধরুন, একটা টেলিভিশনকে আমি জিজ্ঞেস করলাম: কে তোমাকে সৃষ্টি করেছে? এটি কোনো উত্তর দিল না। কিন্তু এটির সঙ্গে একটা ম্যানুয়েল বই রয়েছে। তাতে অনেক তথ্য দেওয়া আছে । ঠিক তেমনি পরম বৈজ্ঞানিক, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করার পর বৈদিক শাস্ত্র দান করলেন, ঠিক একটা বিশাল ম্যানুয়েলের মতো।
জড় পিণ্ড চুপ করে বসে থাকতে পারে, কিন্তু চিন্ময় ভগবান চুপ করে বসে নেই। তিনি গীতা-ভাগবতে ঘোষণা করেছেন: যারা শতভাগ পবিত্র জীবনযাপন করবে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলি। দর্শন দেই। যারা অপবিত্র, পাপী আমি তাদের কাছে মায়ার দ্বারা নিজেকে ঢেকে রাখি। এই মায়া থেকে আমরা কীভাবে মুক্ত হব?
গীতায় (৭/১৪) শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, “কিন্তু যাঁরা আমাতে প্রপত্তি করেন, তাঁরাই এই মায়া হতে উত্তীর্ণ হতে পারেন।” কলিযুগের পাবনাবতার, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পথ দেখিয়েছেন, “কীর্তনীয় সদা হরি” আমরা যদি ধর্মের প্রধান চারটি স্তম্ভ (আমিষ বর্জন, নেশা বর্জন, অবৈধ যৌনসঙ্গ বর্জন ও দ্যূতক্রীড়া বর্জন) মেনে চলি এবং সদ্গুরু গ্রহণ করে প্রতিদিন ষোল মালা জপ অনুশীলন করি তবেই আমাদের জড়জগৎ হতে মুক্তি সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here