জগতের দ্বন্দ্ব ভাবের উর্ধ্বে

0
33

”এইতাে সেই, যা আমি খুঁজেছি….আর এখন আপনাদের পেয়েছি!”

আমি কিভাবে কৃষ্ণভক্ত হলাম
শ্রীমৎ ইন্দুদ্যুম্ন স্বামী মহারাজ

আমার জীবন কাহিনী হল মােট দুটি জীবনের কাহিনী। এক, আমার পারমার্থিক গুরুদেব যে জীবনটি থেকে উদ্ধার করেছিলেন, এবং দুই, যেটি তিনি আমাকে দিয়েছিলেন। দুটি জীবনই একজন ব্যক্তিকেই নিয়ে, কিন্তু একটি জীবন ছিল সাময়িক, অজ্ঞানতাময় এবং দুর্দশায় পূর্ণ এবং অন্যটি হল নিত্য, সৎ জ্ঞান ও আনন্দময়। ভবসমুদ্র থেকে কিভাবে আমি উদ্ধার পেলাম-এটি হল সেই অলৌকিক ঘটনার ইতিবৃত্ত, অন্তত আমার কাছে তাই। লােকে বলতে পারে আমার কাহিনীর শুরু মাতৃগর্ভ থেকে। কিন্তু আমি জানি, এই গল্পের শুরু বহু জন্মের পূর্ব থেকে, এতই দূরের অতীত থেকে, যা আমার পক্ষে জানা বা বােঝা অসম্ভব। যদি ততকাল আগে ক্যামেরা থেকে থাকত, তাে মন হয়, এই পৃষ্ঠায় জীবনের চার পর্যায়ের চারটি ছবির সাথে আরও দেখতাম রাজার ছবি, ভিখারির ছবি, জন্তু-জানােয়ার, মানুষের ছবি-বিখ্যাত এবং সাধারণ-সব মারা যাচ্ছে, আবার জন্ম নিচ্ছে। কিন্তু আমার কাহিনীর এই অধ্যায়টি, অন্য আর সকল জীবন কাহিনীর মতােই শুরু হচ্ছে সেই সময় থেকে যখন আমি সদ্য এলাম, মা বাবা ভাই বােন আত্মীয়বর্গের মাঝে। প্রথম থেকেই জীবনটা কঠিন….পেছনে একটি চাপড় দিয়ে শুরু। কিন্তু চার বছর বয়সে পেলাম বাস্তব জীবনের প্রথম কঠিন স্বাদ ও স্পাইনাল মেনিনজাইটিস দ্বারা আক্রান্ত হলাম। ডাক্তাররা নতুন নতুন ওষুধ দিয়ে গবেষণা করছিলেন, কিন্তু তাদের কোনটাই নির্ভরযােগ্য হয়নি। আমার মনে পড়ে, আমার মা কাঁদছিলেন যখন ওরা জানাল আমার কি হয়েছে। আমার কেবল এইটুকু মনে আছে-বেদম জ্বর এবং হাসপাতালে একাকী মাসের পর মাস কাটানাে-যখন চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছিলেন আমাকে বাঁচানাের জন্য। মনে পড়ে, একবার নার্স সেবিকাদের কানাকানি করতে শুনি যে, আমার মৃত্যু অনিবার্য। আশ্রয়ের জন্য উদ্ভ্রান্ত হয়ে আমি ভেবেছিলাম, “আমার মা এখন কোথায়?” কিন্তু কয়েক মাস পর ওষুধগুলি কার্যকরী হল। আগের থেকে খানিকটা বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে হাসপাতাল ছাড়লাম। আমার বয়স মাত্র চার, কিন্তু কি প্রত্যাশা করা যেতে পারে, সেই সম্বন্ধে আমি বেশিই জেনেছিলাম। গল্পের বইগুলিতে যা সব লেখা থাকে, জীবনটা মােটেই সেইরকম হবে না। যখন আমার বয়স ছবছর, পুরনাে দোস্ত বুড়াে ইয়েলার মারা গেল। সে ছিল পাড়ার পােষা হাউন্ড জাতির কুকুর, আমাদের ব্লকের সব ছেলেদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু, সারাদিনের নিত্য সঙ্গী সেই দিন পর্যন্ত, যে দিন সে রাস্তাটা পার হতে একটু দেরি করেছিল। যে গাড়িটা তাকে ধাক্কা মেরেছিল, সেটা দাঁড়ালও না। কিছু ছেলে তার পেছনে ছুটেছিল ইট-পাটকেল ছুঁড়তে ছুঁড়তে। আমরা দলের বাকি ছেলেরা বুড়াে ইয়েলারের পাশে বসে কেঁদেছিলাম যখন তার প্রাণটা ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল। রাস্তা দিয়ে আসা আইসক্রীমওলা মি. ফ্র্যাঙ্কলিনকে অনুরােধ করেছিলাম বুড়াে ইয়েলারকে বাঁচানাের জন্য। তিনি শুধুই চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন, কারণ তখন খুব দেরি হয়ে গিয়েছিল। আবার একটি সুদূর চিন্তা আমার মনে উকি দিলঃ “সাহায্যের জন্য আমরা কার পানে চাইতে পারি?” যত বড় হতে লাগলাম, আমার শিক্ষার অধিকাংশই ছিল কিভাবে টিকে থাকতে পারা যায়। স্কুলকে অপ্রাসঙ্গিক লাগত। মনের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু, সুখ ও দুঃখের দ্বন্দ্বের দোলায় আমি চট করে বিভ্রান্ত হতে পারতাম। কিছুই চিরকাল থাকবে না। সেটা আমি দেখেছি-মাতৃগর্ভের আশ্রয়টুকু না, বুড়াে ইয়েলার, বা সেই সূত্রে আমিও না। আমি লক্ষ্য করতে শুরু করলাম যে, অন্যরাও দিগভ্রান্ত এবং ক্লেশ ভোগ করছে। শুধু মানুষ নয়, জীবজন্তুুরাও। কিন্তু সব কিছুর প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গি আর সকলের কাছে সহানুভূতি পেত না। একবার বারাে বছর বয়সে স্কুলে আমাদের বলা হয়েছিল-আগত এক ভােজ-সভায় খাবার টেবিলে কি থাকলে আমরা উৎসাহিত বােধ করব, তা আঁকতে। আমি আনাজ-সবজি এঁকেছিলাম, কোনরকম মাংস-টাংস নয়। আমার সহপাঠীদের কাছে তা হয়েছিল কৌতুকের বিষয়, আমার শিক্ষকেরা এটাকে অস্বাভাবিক ভেবেছিলেন। আর যেদিন আমি মাংস খাব না জেদ ধরলাম, আমার বাবা সেটাকে নিতান্তই অভদ্র আচরনের আখ্যা দিলেন এবং সেই রাত্রে আমাকে না খাইয়েই বিছানায় পাঠিয়ে দিলেন। শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম, জীবন কতই না কঠিন, তুমি ঠিক কাজটি করতে চাইলেও। ষােল বছর বয়সে আমি মােড় ঘুরলাম। ভাবলাম, “হয়ত বা সব জায়গাতে এই রকম নয়।” হয়ত অন্য কোথাও আমি তৃপ্তিময় জীবন খুঁজে পাব। মাঝে মাঝে অনুভব করতাম যেন কাছাকাছি এসে গেছি, বিশেষ করে যখন বন্ধুদের সাথে সানফ্রান্সিসকোর কাছে স্টিস সমুদ্রতটে সাগর ঢেউয়ে সার্ফিং খেলতাম। সেই উন্মুক্তে আমরা স্বাধীন গতিশীলতার সসে উন্মাদ হতাম। উচ্চ আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সেই গ্রীষ্মে জিনিসিপত্র গুছিয়ে দক্ষিণ অভিমুখে রওনা দিই। হয়ত মেক্সিকোতে উপযুক্ত ঢেউ মিলবে। কিন্তু যাবার কালেও আমার বন্ধুরা আমায় বিদ্রুপ করেছিল যখন বলেছিলাম যে, “কিন্তু চিরকাল এমনটা থাকবে না।” সান ব্লাসে এক-একটি ঢেউ যখন মাইল প্রায় দূরত্ব লম্বা ভাসিয়ে নিয়ে যেত, আমরা স্কৃর্তিতে মেতে উঠতাম। কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জটি ছিল রােজার উপসাগরের কাছে যেখানে ঢেউগুলি নিখুঁত গঠনে ভেঙে পড়ত। ঢেউয়ের পাকগুলি এতই মসৃণ ছিল যেন কারখানার টিউব! তবে একটা সমস্যা ছিল-ঢেউগুলি একটি প্রবাল ঢিবিতে আছড়ে পড়ত। আমি সত্য জানি না, সেদিন কিসের তাড়না আমায় ঐ ঢিবির দিকে চালিত করেছিল। কিছু ছেলে আমায় চ্যালেঞ্জ জানাল, অন্যরা আমাকে না যাওয়ার জন্য অনুরােধ করতে লাগল। হয়ত যাওয়ার জেদ আমাকে পেয়ে বসেছিল। ঢেউতে সহজেই নিজেকে ভাসিয়ে নিলাম। বিশালকার, সুন্দর আর লম্বা ছিল ঢেউটি। চট করে বাঁয়ে ঘুরে, সামনে ঝুঁকে গেলাম, আর হঠাৎ দেখলাম ঢেউয়ের নলের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছি। চমৎকৃত, উৎফুল্ল লাগছিল-এই তাে! কিন্তু উত্তেজনার বশে মনােযােগ হারিয়ে ফেললাম এবং পিছলে একেবারে সেই মারাত্মক ঢিবিতে গিয়ে পড়লাম। মনে পড়ে প্রবালে যেই আমার চামড়া ছিড়ে যাচ্ছিল, আমি সাহায্যের জন্য চেঁচিয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু মনের গহনে আবার ভাবলাম, “এখন আমাকে কে সাহায্য করতে পারে?” পাথরগুলির ওপর দিয়ে গড়িয়ে ধাক্কা খেয়ে তীরের কাছাকাছি গিয়ে পড়লাম। জনাকয়েক

গ্রামবাসী এসে আমায় টেনে তুলল। আমার সৌভাগ্য ছিল, বাঁ পায়ে একটা বড় কাটা ছাড়া আর কয়েকটা ছােটখাটো কাটাছিড়া আর কালশিরা মাত্র পড়েছিল। কিন্তু আমার সার্কবাের্ডটা খতম হয়ে গিয়েছিল, সেই সাথে নিখুঁত ঢেউয়ের পেছনে ছােটাটাও। যুক্তরাষ্ট্র ফিরে, আমার মনে হল যে, যদি নিজেকে নিজে বাঁচাতে নাও পারি, হয়ত অন্যদের বাঁচাতে পারব। তাই আমেরিকার এক নম্বর যােদ্ধা সংস্থা। মেরিন কর্পস্-এ নাম লেখালাম। সাম্যবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে আমার দেশ ভিয়েতনামের সাথে যুদ্ধরত ছিল। আমি ভাবলাম যদি আমরা ভিয়েতনামে জিততে পারি, পৃথিবীতে আমরা সুখ শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারব। হয়ত বলা হয় যে, এই জীবনেই আমরা স্বর্গ ও নরক দুই-ই দেখতে পেতে পারি। সেই বছর যখন আমি ঘাতক হবার যুক্তি বহন করে চলেছিলাম, আমি নরক দেখলাম। কিন্তু প্রায়ই যখন আমরা অনুশীলনের জন্য আমাদের বেয়ােনেটগুলি তাক করতাম আমার মন অসমর্থন করে উঠত, “সত্যি তুমি তাে যুদ্ধে বিশ্বাস কর না, কর কি? নিজের কাছে সততা রাখ-এখানে এসেছ শুধু নাম ও খ্যাতির জন্য। আর তার জন্য অনায়াসেই জীবনটাও হারাতে পার। একদিন আমি কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হলাম এবং যুদ্ধ করতে অসম্মতি পেশ করলাম। পরের বেশ কয়েকটা দিন জেলে বসে ভাববার সুযােগ পেলাম। “মেরে ফেলাটা সহজ কাজ, কিন্তু কি জন্য বেঁচে থাকা-সেইটা জানাও কত শক্ত।” যতদিনে আমার বরখাস্তের কাগজপত্র পেলাম, জানতাম না কোথায় যাব-ডাইনে না বাঁয়ে। দিশেহারা হয়ে ঘুরছিলাম আর ভাবছিলাম, প্রতিবার জীবনে যে পদক্ষেপই নিই কিভাবে হতাশা আর হতােদ্যমেরই সম্মুখীন হই। একদিন নিজের ঘরের একান্তে, আমি ঈশ্বরকে ডেকে বলে উঠলাম, “হে প্রভু আমি এক দুঃখময় জগতে পড়ে আছি! তুমি যদি সত্যিই থাক দয়া করে আমায় আশ্রয় দাও। পরদিন বিকেল বেলায় নিজেকে ভুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে ঘুরতে ঘুরতে এক প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালায় গিয়ে ঢুকলাম। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক প্রদর্শনী আমার নজর কাড়ল। ছবি ও শিল্পকলাগুলি দেখতে দেখতে চোখ পড়ল এক অতি মনােহর ছবির উপর, নাম লেখা “কৃষ্ণ ও তাঁর গােয়ালিনী গােপীরা। দৃশ্যটি আমাকে আকর্ষণ করল, কাছে গিয়ে পড়তে চেষ্টা করলাম ছবির নিচে লেখার অংশটি ও “এটি স্বর্গের দৃশ্য, যেখানে ভগবান নিত্য আনন্দময় জীবন যাপন করেন।” মনে ভাবলাম, “হ্যাঁ, এটিই সেই আমি যা খুঁজছি-নিত্যময় জীবন, যে জায়গাটা এই জগতের দ্বন্দ্বভাবের উর্ধ্বে। কিন্তু সেটা কি এই রকমই? কৃষ্ণ কে, আর ‘গােয়ালিনী গােপী’ জিনিসটাই বা কি?” চারদিকে তাকিয়ে খুঁজলাম যদি কেউ ছবিটার একটা গভীর ব্যাখ্যা আমায় দিতে পারে। কিন্তু সংগ্রহশালার রক্ষক তখনি ঘােষণা করল যে, সংগ্রহশালা বন্ধ হবার সময় হয়ে গেছে। হতাশ হয়ে ফটক দিয়ে বাইরে আসতেই এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ল। সামনের খােলা চাতালে গেরুয়া বসনধারী এক সন্ন্যাসী বসে ছিলেন হাতে তার লম্বা একটা দণ্ড। তার চারপাশে জড়াে হওয়া জনসমাবেশকে উদ্দেশ্য করে তিনি গভীরভাবে কিছু আলােচনা করছিলেন।

আমি এক ইঞ্চি এগিয়ে গেলাম ভাল করে শােনার জন্য এবং চমকে উঠলাম যখন শুনলাম সেই লম্বা সন্ন্যাসীটি সমবেতদের কাছে কৃষ্ণ ও দিব্য জগতের কথা বলছেন। পরে জেনেছিলাম, তিনি যা বলছিলেন তা প্রাচীন বৈদিক গ্রন্থ ব্রহ্মসংহিতায় লেখা আছে ও কৃষ্ণই হলেন পরম পুরুষােত্তম ভগবান। জড় জগতের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে নিত্য পারমার্থিক জগতে তাঁর চিরবাস। তাঁর দিব্য চরণভূমি বৃন্দাবনধাম হল সৌভাগ্যের দেবীগণদের বাসস্থান, যাঁরা গােয়ালিনী রূপে আবির্ভূর্তা এবং যাঁরা সবকিছু ছাড়িয়ে একমাত্র শ্রীকৃষ্ণকেই ভালবাসেন। সেখানকার গাছগুলি সবই কল্পবৃক্ষ এবং বাসনা পূরণকারী প্রস্তরখণ্ড দিয়ে তৈরি। স্থলভূমির ওপর দিয়ে বয়ে যায় জীবনদায়ী জলরাশির ধারা। সেখানে সব বাক্যই মধুর সঙ্গীত, সব হাঁটাচলাই নৃত্যময় এবং বাঁশিটিই হচ্ছে ভগবানের নিত্যসঙ্গী। গাভীরা দুধের প্রাচুর্যে ভূমি ভাসিয়ে দেয় এবং সব কিছুই সূর্যের মতাে দীপ্তিময়। যেহেতু বৃন্দাবনের প্রতিটি মুহূর্তই কৃষ্ণের ভালবাসায় অতিবাহিত হচ্ছে, তাই সেখানে না আছে অতীত, না ভবিষ্যৎ। “এই তাে সেই!” আমি চেঁচিয়ে উঠলাম। অবাক হয়ে সন্ন্যাসীটি আমার দিকে ফিরে চাইলেন, বললেন, “এই তাে কি?” আমি বললাম, “এই তাে সেই যা আমি খুঁজছি! গত রাতে প্রার্থনা করলাম। তারপর যাদুঘরে ঐ ছবিটা দেখলাম…আর এখন আপনাদের পেয়েছি!” পাশের এক ভদ্রমহিলা মন্তব্য করলেন, সম্ভবত লােকটি এল.এস.ডি-তে বিভাের হয়ে আছে।” আমি নিজেকে সামলে নিলাম, সমবেত সকলে যে আমার দিকে তাকিয়ে আছে তাতে একটু বিমর্ষবােধ জাগল। কিন্তু আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। আগে কখনও এমন জ্ঞানের সন্ধান পাইনি এবং এত গুছিয়ে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা পাইনি। সন্ন্যাসীকে নিজের পরিচয় দিলাম । “আমি হলাম বিষ্ণুজন স্বামী,” তিনি বললেন, “আমরা এসেছি আপনাদের স্বগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। আর সেই শুরু হল-এই নতুন জীবন, শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত হিসাবে আমার জীবন-সেই ১৯৭১ সালে। তখন থেকে যা যা ঘটেছে, সব যদি আমি দেখাতে পারতাম তাে এই পৃষ্ঠায় অনেক ছবি দেখা যেত-দিব্য নাম গান কীর্তন করতে করতে নাচা, ভােজের ছবি ও অগুণতি উদ্ভাসময় আলােচনা সমাবেশের ছবি। এইটুকুই বলে ইতি টানি যে, সেই দিন আমি স্বগৃহের দিকে শুভযাত্রা শুরু করেছি-জন্ম ও মৃত্যুর দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে, নিত্য শাশ্বত বাস্তব আশ্রয়ের অভিমুখে। ১৯৯০ সাল থেকে শ্রীমৎ ইন্দ্রদ্যুম্ন স্বামী পােল্যান্ডে লক্ষ্মী-নৃসিংহ’ নামে একটি ভ্রমনের আয়ােজন করতেন, যেটি পরবর্তীতে ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া’ নামে সুপরিচিত হয়। পােল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে তিনি বর্তমানে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করছেন। সেসাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রচার করছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে তার এই ভ্রমণকাহিনী নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রচিত ডায়েরী অব ট্রাভেলিং মংক’ সারাবিশ্বে খুবই বিখ্যাত।

 

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ, মার্চ ২০২১ সংখ্যা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here