গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাব কি রয়েছে?

0
604

২০১২ সালে পৃৃথিবী ধ্বংস হবে প্রতিবেদনের পরবর্তী অংশশ্রীমদ্ভাগবতের ৫ম স্কন্ধে ‘গ্রহগণের কক্ষপথ’ শীর্ষক অধ্যায় থেকে সংগৃহীত এই অধ্যায়ে বিভিন্ন গ্রহের কক্ষপথের বর্ণনা করা হয়েছে।

চন্দ্র আদি গ্রহের গতি অনুসারে, ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত অধিবাসী শুভ এবং অশুভ ফল ভোগ করে। তাকে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব বলা হয়। সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের বিভিন্ন বিষয়ের নিয়ন্তা সূর্যদেবকে নারায়ণের অংশ বলে মনে করা হয়। তিনি বিশেষ করে তাপ, আলো, ঋতুর পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন। নারায়ণের ঋক্, যজু এবং সাম-এই তিনটি বেদ সূর্যরূপে অবস্থিত। তাই সূর্যকে ত্রয়ীময় বলা হয়। কখনও কখনও সূর্যদেবকে সূর্যনারায়ণও বলা হয়। সূর্যদেব নিজেকে বারোটি ভাগে বিভক্ত করে ছয়টি ঋতু এবং শীত, উষ্ণ, বর্ষা আদি ঋতুর গুণসমূহের বিধান করেন। যোগী এবং বর্ণাশ্রমী কর্মীরা অষ্টাঙ্গযোগ এবং অগ্নিহোত্রাদি যজ্ঞের দ্বারা সূর্যের অভ্যন্তরস্থ নারায়ণের উপাসনা করে নিজেদের কল্যাণ সাধন করে। সূর্যদেব সর্বদা পরমেশ্বর ভগবান নারায়ণের সান্নিধ্যে থাকেন। ভূলোক এবং ভূবলোকের মধ্যবর্তী অন্তরীক্ষে অবস্থান করে, সূর্যদেব কালচক্রস্থ বিভিন্ন রাশিতে অবস্থিত হয়ে, রাশির নামানুসারে দ্বাদশ মাসে ভোগ করেন। চান্দ্রমাস দুই পক্ষে বিভক্ত। তেমনই সৌর গণনানুসারে, এক একটি নক্ষত্রে সূর্য যে পরিমাণ সময় থাকেন তা এক-একটি সৌর মাস। দুই অর্ধাংশ মাসে এক ঋতু হয় এবং এক বছরে বারোটি মাস রয়েছে। নভোমণ্ডল দুই অর্ধাংশে বিভক্ত এবং তাদের বলা হয় অয়ন, অর্থাৎ ছয় মাসে সূর্যের ভ্রমণপথ। সূর্য কখনও মন্তর গতিতে, কখনও দ্রুত গতিতে এবং কখনও সমান গতিতে ভ্রমণ করেন। এইভাবে সূর্য স্বর্গ, ভূমণ্ডল এবং নভোমণ্ডলে ভ্রমণ করেন। সেই কালকে পণ্ডিতেরা সংবৎসর, পরিবৎসর, ইড়াবৎসর, অনুবৎসর এবং বৎসর নামে অভিহিত করেন। সূর্যমণ্ডলের ১,০০,০০০ যোজন উপরিভাগে চন্দ্রগ্রহ। চন্দ্রের হ্রাস এবং বৃদ্ধি অনুসারে স্বর্গলোক এবং পিতৃলোকের দিবা-রাত্রির বিধান হয়। চন্দ্রম-লের ২,০০,০০০ যোজন উপরে কতকগুলি নক্ষত্র রয়েছে এবং সেই নক্ষত্রের উপরে শুক্রগ্রহ, যার প্রভাব সর্বদাই সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের প্রাণীদের পক্ষে শুভ। শুক্রগ্রহের ২,০০,০০০ যোজন উপরে বুধগ্রহ, যার প্রভাব কখনও শুভ এবং কখনও অশুভ। বুধগ্রহের ২,০০,০০০ যোজন উর্ধ্বে অঙ্গারক গ্রহ, যার প্রভাব প্রায় সর্বদাই অশুভ। অঙ্গারকের ২,০০,০০০ যোজন উর্ধ্বে বৃহস্পতি গ্রহ, যার প্রভাব যজ্ঞ ব্রাহ্মণদের উপর সর্বদাই অত্যন্ত অনুকুল। বৃহস্পতি গ্রহের ঊর্ধ্বে শনৈশ্চর গ্রহ, যার প্রভাব অত্যন্ত অশুভ। শনির ঊর্ধ্বে সপ্তর্ষিমণ্ডল অবস্থিত। এই সপ্তর্ষিমণ্ডল সর্বদা সমগ্র জগতের চিন্তা করতে করতে, এই ব্রহ্মাণ্ড বিষ্ণুর পরম পদ ধ্রুবলোককে প্রদক্ষিণ করেন। শ্রী শুকদেব গোস্বামী আরো বললেন-কুমোরের ঘুর্ণায়মান চক্রে ছোট ছোট পিপীলিকাদের যেমন চক্রের ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে চক্রের গতি থেকে ভিন্ন ভিন্ন গতিবিশিষ্ট হতে দেখা যায়, তেমনই, নক্ষত্র এবং রাশিগণ সুমেরু এবং ধ্রুবলোককে দক্ষিণে রেখে কালচক্রে ভ্রমণ করে এবং ক্ষুদ্র পিপীলিকা সদৃশ সূর্য ও অন্যান্য গ্রহগুলিও তার সঙ্গে ভ্রমণ করে। কিন্তু সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাশিতে এবং নক্ষত্রে দেখা যায়। তা ইঈিত করে যে, তাদের গতি রাশি এবং কালচক্রের গতি থেকে ভিন্ন। (স্কন্ধ-৫, অধ্যায়-২২, শ্লোক-২)
শুক্লপক্ষে প্রতিদিন চন্দ্রের কলা বর্ধিত হয় এবং তখন দেবতার দিন এবং পিতৃদের রাত্রি হয়। চন্দ্রের কৃষ্ণপক্ষে দেবতাদের রাত্রি হয় এবং পিতাদের দিন হয়। এই ভাবে চন্দ্র ত্রিশ মুহূর্তে (সারাদিন) এক এক নক্ষত্র অতিক্রম করেন। চন্দ্র শস্য বৃদ্ধিকারী অমৃতময় শীতল কিরণের উৎস এবং তাই চন্দ্রদেবকে সমস্ত জীবের প্রাণ বলে মনে করা হয়। ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত জীবেদের মধ্যে প্রধান বলে তাকে বলা হয় জীব। (স্কন্ধ-৫, অধ্যায়-২২,শ্লোক-৯)
চন্দ্র সমস্ত শক্তিতে পূর্ণ হওয়ার ফলে ভগবানের প্রভাবের প্রতীক। চন্দ্র মনের অধিষ্ঠাতা বলে মনোময়। তিনি সমস্ত ঔষধি এবং বৃক্ষ-লতাকে শক্তি প্রদান করেন বলে অন্নময় এবং তিনি সমস্ত জীবের জীবনস্বরূপ বলে তিনি অমৃতময়। চন্দ্র সমস্ত দেবতা, মানুষ, ভূত,পশু, পক্ষী, সরীসৃপ, বৃক্ষ, লতা আদি সমস্ত জীবের প্রসন্নতা বিধান করেন। চন্দ্রের উপস্থিতিতে সকলেই পরিতৃপ্ত হয়, তাই চন্দ্রকে বলা হয় সর্বময়। (স্কন্ধ-৫, অধ্যায়-২২, শ্লোক-১০)
চন্দ্রমণ্ডলের ২,০০,০০০ যোজন উপরে অনেকগুলি নক্ষত্র রয়েছে। ভগবানের ইচ্ছাক্রমে তারা কালচক্রে যোজিত। তাঁরা সুমেরুর দক্ষিণ দিকে ভ্রমণ করে, এবং তাদের গতি সূর্যের গতি থেকে ভিন্ন। অভিজিৎ আদি এই রকম আটাশটি গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্র রয়েছে। (স্কন্ধ-৫, অধ্যায়-২২, শ্লোক-১১)
সেই নক্ষত্রমণ্ডলের ২,০০,০০০ যোজন ঊর্ধ্বে শুক্রগ্রহ বর্তমান। সূর্যের দ্রুত, মন্থর এবং সমান গতি অনুসারে ঐ গ্রহ কখনও সূর্যের সঙ্গে সমানভাবে, কখনও পশ্চাতে কখনও বা অগ্রে গমন করেন। যে গ্রহ বৃষ্টির প্রতিবন্ধক, শুক্র সেই গ্রহের প্রভাব নাশ করেন। তাই তার উপস্থিতির ফলে বৃষ্টি হয়, এবং তাই তিনি এই ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত প্রাণীদের পক্ষে সর্বদা হিতকর বলে মনে করা হয়। পণ্ডিতেরা সেই কথা স্বীকার করেছেন। (স্কন্ধ-৫, অধ্যায়-২২, শ্লোক-১২)
বুধকে শুক্রেরই মতো বলে বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ বুধও কখনও কখনও সূর্যের পিছনে, কখনও সামনে এবং কখনও একসঙ্গে ভ্রমন করেন। শুক্রগ্রহের ১৬,০০,০০০ মাইল ঊর্ধ্বে , অর্থাৎ ভূতল থেকে ৭২,০০,০০০ মাইল ঊর্ধ্বে চন্দ্র তনয় বুধ বিরাজ করেন। ইনি প্রায় সর্বদাই ব্রহ্মা-বাসীদের মঙ্গল বিধান করেন, কিন্তু যখন সূর্যের সঙ্গ পরিত্যাগ করেন, তখন প্রবল ঝড়-ঝঞ্ঝা, জলশূন্য মেঘ, অর্থাৎ অনাবৃষ্টি অথবা অতিবৃষ্টিজনিত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। (স্কন্ধ-৫, অধ্যায়-২২, শ্লোক-১৩)
বুধের ১৬,০০,০০০ মাইল ঊর্ধ্বে অর্থাৎ ভূতল থেকে ৮৮,০০,০০০ মাইল ঊর্ধ্বে মঙ্গলগ্রহ অবস্থিত। এই গ্রহের গতি যদি বক্র না হয়, তাহলে ইনি তিন তিন পক্ষে এক একটি করে বারোটি রাশি অতিক্রম করেন। এই গ্রহ সর্বদাই দুঃখজনক অশুভ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। (স্কন্ধ-৫, অধ্যায়-২২, শ্লোক-১৪)
মঙ্গলগ্রহের ১৬,০০,০০০ মাইল ঊর্ধ্বে, অর্থাৎ পৃথিবীর ১,০৪,০০,০০০ মাইল ঊর্ধ্বে বৃহস্পতিগ্রহ অবস্থিত, যিনি এক পরিবৎসরে এক একটি রাশি অতিক্রম করেন। তাঁর গতি যদি বক্র না হয়, তা হলে তিনি প্রায়ই ব্রাহ্মণকুলের শুভাকাক্সক্ষী হন। (স্কন্ধ-৫, অধ্যায়-২২, শ্লোক-১৫)
ধান মাড়াই করার সময় বলদদের যেমন মেটীস্তম্ভে, একটি স্তম্ভের নিকটে, একটিকে মধ্যে এবং তৃতীয়টিকে দূরবর্তী স্থানে সংযোজিত করা হয় এবং সেই পশুগুলি তাদের নিজ নিজ স্থান অতিক্রম না করে স্তম্ভের চতুর্দিকে মণ্ডলাকারে পরিভ্রমণ করে, তেমনই, শত সহস্র গ্রহ- নক্ষত্র ঊর্ধ্ব ও অধঃস্থান বিভাগ অনুসারে তাদের নিজ নিজ কক্ষপথে ধ্রুবলোকের চতুর্দিকে পরিভ্রমণ করেন। তারা তাদের কর্মফল অনুসারে ভগবানের দ্বারা জড়া প্রকৃতিরূপ যন্ত্রে সংযোজিত হয়ে, ধ্রুবকে অবলম্বনপূর্বক বায়ুর দ্বারা সঞ্চালিত হয়ে কল্পান্ত কাল পর্যন্ত ধ্রুবলোকের চতুর্দিকে পরিক্রমা করেন, ঠিক যেমন আকাশে শত শত টন জল সমন্বিত মেঘ ভেসে বেড়ায় অথবা বিশাল শ্যেন পাখি তাদের কর্ম অবলম্বন করে নভোম-লে বিচরণ করে অথচ কখনও পতিত হয় না। (স্কন্ধ-৫, অধ্যায়-২৩, শ্লোক-৩)
তাৎপর্য: আধুনিক বৈজ্ঞানিকেরা যে বলে শত সহস্র নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র, শুক্র, বুধ, মঙ্গল, বৃহস্পতি আদি বিশাল গ্রহেরা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে একত্রে স্তবকের মতো পুঞ্জীভূত হয়ে রয়েছে, এই শ্লোকের বর্ণনা অনুসারে, সেই কথা ঠিক নয়। এই সমস্ত গ্রহ- নক্ষত্রেরা সকলেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবক এবং তার আদেশ অনুসারে তারা তাদের কক্ষপথে বিচরণ করছেন। এই কক্ষপথগুলিকে প্রকৃতি প্রদত্ত যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্রের অধিষ্ঠাতারা ধ্রুবলোকের চারর্দিকে পরিভ্রমণ করে ভগবানের আদেশ পালন করছেন। সেই কথা ব্রহ্মসংহিতায় (৫/৫২) এইভাবে প্রতিপন্ন হয়েছে-
যচ্চক্ষুরেষ সবিতা সকলগ্রহাণাং
রাজ্য সমস্তুরমূর্তিরশেষতেজাঃ।
যস্যাজ্ঞয়া ব্রমতি সংভৃতকালচক্রো
গোবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ॥
“গ্রহসকলের রাজা, অশেষ তেজোবিশিষ্ট, সূরমূর্তি সবিতা বা সূর্য জগতের চক্ষুস্বরূপ, তিনি যার আজ্ঞায় কালচক্রারূঢ় হয়ে ভ্রমণ করেন, সেই আদি পুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজনা করি।” ব্রহ্মসংহিতার এই শ্লোকটি প্রতিপন্ন করে যে, সব চাইতে বৃহৎ এবং সব চাইতে শক্তিশালী গ্রহ সূর্য এক নিষ্টি কক্ষে বা কালচক্রে ভগবানের আজ্ঞায় ভ্রমণ করছেন। জড় বৈজ্ঞানিকদের কল্পিত মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বা অন্য কোন নিয়মের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। জড় বৈজ্ঞানিকেরা ভগবানের শাসনকে অস্বীকার করতে চায়, এবং তাই তারা গ্রহ-নক্ষত্রের গতির কারণ সম্বন্ধে নানা রকম উদ্ভট কল্পনা করে। কিন্তু, একমাত্র কারণ হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের আদেশ। বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্রের অধিষ্ঠাতা দেবতারা হচ্ছেন এক একজন ব্যক্তি এবং ভগবানও হচ্ছেন একজন ব্যক্তি। ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি অধঃস্তন ব্যক্তিকে আদেশ দেন। ঠিক তেমনই পরম পুরুষ তার অধঃস্তন বিভিন্ন দেবতাদের তার পরম ইচ্ছা পালনের আদেশ দেন। সেই সত্য ভগবদগীতাতেও (৯/১০) প্রতিপন্ন হয়েছে, সেখানে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-
ময়াধ্যক্ষেণ প্রকৃতিঃ সূয়তে সচরাচরম্।
হেতুনানেন কৌন্তেয় জগদ্ বিপরিবর্ততে ॥
“হে কৌন্তেয়, আমার অধ্যক্ষতার দ্বারা ত্রিগুণাত্মিকা মায়া এই চরাচর বিশ্ব সৃষ্টি করে। প্রকৃতির নিয়মে এই জগৎ পুনঃ পুনঃ সৃষ্টি হয় এবং ধ্বংস হয়।”
গ্রহ-নক্ষত্রের কক্ষগুলি জীবের দেহের মতো, কারণ উভয়েই ভগবানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের মতো। এই সম্বন্ধে ভগবদ্গীতায় (১৮/৬১) শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-
ঈশ্বর সর্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জুন তিষ্ঠতি।
ভ্রাময়ন্ সর্বভূতানি যন্ত্রারূঢ়ানি মায়য়া ॥
“হে অর্জুন, পরমেশ্বর ভগবান সমস্ত জীবকে দেহরূপ যন্ত্রে আরোহণ করিয়ে মায়ার দ্বারা ভ্রমণ করায়।“  জড়া প্রকৃতি কর্তৃক প্রদত্ত যন্ত্র, তা সে দেহরূপ যন্ত্র হোক অথবা কক্ষরূপে যন্ত্র হোক অথবা কালচক্র হোক, তা সবই ভগবানের নির্দেশ অনুসারে কার্য করে। এই বিশাল ব্রহ্মা- পালনের জন্য ভগবান এবং প্রকৃতি যৌথভাবে কার্য করেন। সেই সূত্রে মনে রাখা উচিত যে, এই ব্রহ্মাণ্ড ছাড়াও কোটি কোটি ব্রহ্মাণ্ড রয়েছে। হরে কৃষ্ণ

[মাসিক  ৈচতন্য সন্দেশ মার্চ ২০১১ সালে প্রকাশিত]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here