গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক

0
202

শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী: পারমার্থিক জীবনে সিদ্ধিলাভের যথার্থ উপায় হচ্ছে শ্রীল গুরুদেবের সন্তোষবিধান এবং এরফলে তাঁর আন্তরিক আশীর্বাদ লাভ করা। শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত গুর্বষ্টকমে বলেছেন-

যস্য প্রসাদাদ্ ভগবৎপ্রসাদো
যস্যাপ্রসাদান্ন গতি কুতোহপি।
ধ্যায়ন্‌স্ত্রবংস্তস্য যশস্ত্রিসন্ধ্যং
বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম্ ॥

অর্থাৎ, ‘যিনি প্রীত হলে পরমেশ্বর ভগবান সন্তুষ্ট হন এবং যিনি অসন্তুষ্ট হলে জীবনে আর কোনো গতি থাকে না, আমার সেই পরমারাধ্য গুরুদেবের শ্রীপাদপদ্মে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।’ তাই শিষ্যের কর্তব্য হচ্ছে অত্যন্ত বিনীতভাবে সদ্গুরুর সেবা করা। শ্রীল সূত গোস্বামী আদর্শ শিষ্যের এই সমস্ত গুণাবলী প্রদর্শন করেছিলেন এবং তাই শ্রীল ব্যাসদেব আদি সমস্ত তত্ত্বদ্রষ্টা গুরুদেবের নিকট থেকে বিশেষ কৃপাধন্য হয়েছিলেন। নৈমিষারণ্যের ঋষিরা নিশ্চিতভাবে জানতেন যে, শ্রীল সূত গোস্বামী হচ্ছেন এক যথার্থ সদ্‌গুরু। তাই তাঁর শ্রীমুখের বাণী শ্রবণ করার জন্য তাঁরা উদ্‌গ্রীব হয়েছিলেন। এই শ্লোকটি কতকগুলি গূঢ় রহস্য উদ্‌ঘাটন করছে। শ্রীল প্রভুপাদ এখানে বলেছেন যে, পারমার্থিক জীবনে সার্থকতার রহস্য হল, পারমার্থিক দীক্ষাগুরুর সন্তোষবিধান এবং তাঁর আন্তরিক আশীর্বাদ অর্জন। এক সময়ে যখন শ্রীমায়াপুর ধামে বিশাল এবং অতি মনোরম মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রীল প্রভুপাদ এক পারমার্থিক মহানগরী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শ্রীমায়াপুর প্রকল্পটি প্রবর্তনের কাজ করছিলেন, তখন শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের তিরোভাব তিথিতে শ্রীল প্রভুপাদ পারমার্থিক দীক্ষাগুরুর তিরোভাব তিথির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তখন তিনি উল্লেখ করেছিলেন কিভাবে সেসময়ে এককালে জগন্নাথ দাস বাবাজী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সঠিক জন্মস্থান নির্ধারণে সাহায্য করেন এবং কিভাবে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করতেন আর সেখানেই প্রথম মন্দিরটি গড়ে তুলেছিলেন। এভাবে শ্রীল প্রভুপাদ গুরুশিষ্য পরম্পরার ধারা নির্ণয়ের প্রয়াস লাভ করে বলতেন, কিভাবে সমস্ত আচার্যবর্গই শ্রীধাম মায়াপুর উন্নয়নের জন্য কিছু না কিছু করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর দীক্ষাগুরু শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পুণ্য জন্মস্থানটিকে গড়ে তোলার জন্য এবং তার আরো উন্নতি সাধনের জন্য কাজ করেছিলেন। তারপর শ্রীল প্রভুপাদ বলেন, “আমিও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কিছু করবার চেষ্টা করছি।” আর তিনি বলেন যে, “সার্থকতার রহস্যই হল পূর্বতন আচার্যবর্গের প্রীতিসাধন।” তারপরে তিনি বলেছিলেন যে, পূর্বতন আচার্যবর্গ শ্রীধাম মায়াপুরের উন্নতি সাধনের জন্য যে বিশেষ অভিলাষ পোষণ করে গিয়েছেন, তার উন্নতিকল্পে তাঁর যে সমস্ত অনুগামীরা তাঁর সাথে সহায়তা করছেন, তাঁদের প্রতি তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞ। তারপরে কেমন করে যেন শ্রীল প্রভুপাদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে আসে এবং তিনি আর কোনো কথা বলতে পারেননি। তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রুধারা নেমে আসে আর খানিক পরে তিনি শুধুই প্রত্যেককে হরেকৃষ্ণ কীর্তন করতে বলেন। সেখানেই প্রবচন সভা শেষ হয়ে যায়।
কতবার শ্রীল প্রভুপাদ ব্যক্ত করেছেন কিভাবে তিনি নিয়ত পূর্বতন আচার্যবর্গের সন্তোষ বিধানের চেষ্টায় ভাবিত হয়ে থাকতেন। আচার্য নিজেকে নতুন এক কর্তা মনে করেন, আর সমস্ত পূর্বতন আচার্যবর্গের কথা ভুলে যান, তা নয়। মায়াবাদী প্রথায় তা হতেও পারে। আমরা শুনেছি, মায়াবাদীরা যখন সন্ন্যাসী বা গুরু হয়, তারা ঐরকম মনে করে। ওরা ভাবে ওরা ভগবান হয়ে গেছে, আর যাই ইচ্ছা তাই করতে পারে। “গুরু ব্রহ্মা, গুরু বিষ্ণু, গুরু দেবো মহেশ্বরঃ”-এধরনের মন্ত্র ওদের পূর্বতন গুরু দরজার গোড়ায় পাপোষের মতো, তুমি যেন তাঁর মাথার ওপর পা দিয়ে নির্বাণ অর্থাৎ ব্রহ্মজ্যোতির পথে ঢুকে পড়তে পারো।
কিন্তু আমাদের বৈষ্ণব ঐতিহ্যে, আমরা সবিশেষবাদী এবং সর্বদাই আমরা গুরুপরম্পরা-ক্রমে পূর্বতন আচার্যবর্গের স্মরণ করে থাকি আর তাঁদেরই অভিলাষ বাসনাদি আমাদের ভাবনা-চিন্তার ঊর্ধ্বে অধিষ্ঠিত রাখার চেষ্টা করে থাকি
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বিশেষ দৃঢ়ভাবে এর দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করেছিলেন । শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম যিনি ভাষ্যকার শ্রীধর স্বামী, তিনি এ সম্পর্কে একটা সুন্দর ভাষ্য প্রদান করেন, যদিও সেটা সম্পূর্ণ বিশদ ব্যাখ্যাকারী ভাষ্য না মনে হতেও পারে (বাস্তবিকই পরবর্তীকালে অন্যান্য ভাষ্যকারেরাও শ্রীমদ্ভাগবতের আরো বিশদ তাৎপর্য ব্যক্ত করেন।) যদি কেউ আদি ভাষ্যকারের প্রতি সম্মানজ্ঞাপন না করতেন, তাহলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাতে সায় দিতেন না। যখন এক ভাষ্যকার শ্রীধর স্বামীর ভাষ্যের মর্যাদা কিছুটা হানি করে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাতে বলেন, “তোমার স্বামীর প্রতি তুমি অনুগত নও।” পরোক্ষভাবে তিনি ‘স্বামী’ কথাটির বিশেষ শব্দব্যঞ্জনা বোঝাতেই চেয়েছিলেন যে কথাটির অর্থ সন্ন্যাসী এবং পতি বা প্রভু দুই-ই বোঝায়। কোনো মহিলাকে যদি বলা হয় যে, সে তার স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত নয়, তা হলে তার পরোক্ষভাবে অর্থ হয়, এই যে, সেই মহিলাটি নষ্টচরিত্রা, কিংবা হয়ত বারনারী হতেও পারে।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই বিষয়ে ছিলেন বিশেষ কঠোর। তিনি সদাসর্বদাই তাঁর পূর্বতন আচার্যবর্গের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। উৎসর্গ করতে পারেন এমন যেকোনো অনুদান তিনি গ্রহণ করতেন। তা তিনি রেখে দিতেন, পারলে তাকে বাড়িয়ে তুলতেন আর তার উন্নতি সাধন করতেন। সেটাই তো ঠিক। তাদের নামের খাতিরে নয়, তাদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা এবং যথাযোগ্য ভক্তি সহকারেই তা করতে হয়। একাজে কেবল আমাদেরই আধিপত্য রয়েছে তাও নয়, বরং বলতে হয়, আমরা তাঁদের সেবারই চেষ্টা করছি এবং তাঁদের উদ্দেশ্য-লক্ষ্য পরিপূরণের প্রয়াস করছি। তাঁরা যে উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছিলেন, যদি আমরা তার আরো প্রসার ঘটাতে পারি, তাতেই তাঁরা হবেন বেশি সন্তুষ্ট। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের চেয়ে আরো বিশাল মন্দির শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর গড়ে তুলেছিলেন বলে সেটা শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের প্রতি অপরাধ করা হয়েছে, তা নয়। বরং আরো বিশাল মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে, তাতে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর আরো কতই না সন্তুষ্ট হবেন। ঠিক তেমনই, ইস্‌কনে, পুণ্য শ্রীধাম মায়াপুরে যদি আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আরও সুন্দর আর মহিমামণ্ডিত মন্দির গড়ে তুলতে পারি, নিশ্চয়ই তাতে পূর্বতন আচার্যবর্গের আরও বেশি প্রীতিসাধন হবে।
একবার শ্রীমায়াপুরের কিছু সমসাময়িক প্রচারকবর্গ শ্রীল প্রভুপাদকে জানিয়েছিলেন যে, যদি তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থানের মন্দিরটির চেয়ে আরও বিশাল একটা মন্দির করতে চান, তা হলে তাতে পূর্বতন আচার্যবর্গ অসন্তুষ্ট হবেন। এসমস্তই কূটনৈতিক কথায় একবার শ্রীল প্রভুপাদ উল্লেখ করেন যে, কেউ যদি মায়াপুরে ত্রিশতলা একটা আকাশছোঁয়া অট্টালিকা গড়ে তুলতে পারে তো তাদের চিন্ময় জগতে প্রত্যাবর্তন ঘটবে। কেউ একবার শ্রীল প্রভুপাদের কাছে জানতে চায়, “মায়াপুরে বিশাল মন্দিরটি উদ্বোধন করবার জন্য যদি আমরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আর ইংল্যাণ্ডের রানীকে আনতে পারি, তবে কী সেটা পূর্বতন আচার্যবর্গের প্রীতি সাধন করবে বা ঐ ধরনের কিছু একটা করলে কেমন হয়?” তখন শ্রীল প্রভুপাদ বলেন, “যদি তোমরা তা করতে পার তাহলে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর চিন্ময় জগৎ থেকে এসে তোমাদের হাত ধরে সোজা বৈকুণ্ঠধামে নিয়ে চলে যাবেন।” সেইভাবেই শ্রীল প্রভুপাদ ব্যক্ত করতেন তাঁর হৃদয়ের মাঝে পূর্বতন আচার্যবর্গের অতীব প্রীতিপ্রদ যা কিছু করণীয়, তা তিনি নিয়ত কিভাবে জাগরূক রাখতেন।
এখানে এই শ্লোকটিতে, মহানমুনিবর্গ শ্রীল সূত গোস্বামীর গুণগান করছেন, “আপনার গুরুদেববর্গের প্রতি আপনি নম্র, বিনয়ী, শ্রদ্ধাশীল এবং তাই তো তাঁরা আপনার ওপরে তাঁদের সমস্ত আশীর্বাদ প্রদান করেছেন।” যারা দুর্বিনীত, তারা পূর্বতন আচার্যবর্গ যা বলে গেছেন, তা মানতে চায় না। তাদের নিজস্ব ধ্যান ধারণাগুলিকেই তারা অকাট্য বা উত্তমোত্তম একটা কিছু বলে চালাতে চায়। এইভাবে তারা বাস্তবিকই গুরুশিষ্য পরম্পরাক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে থাকে । প্রভুপাদ যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, তা হল এই যে, শ্রীল সূত গোস্বামী যে যথার্থ সদ্গুরু ছিলেন, সে সম্পর্কে নৈমিষারণ্যের ঋষিকুল দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন আর তাই তাঁর কাছ থেকে তাঁরা তত্ত্বকথা শ্রবণে উৎসুক হন ।
যথার্থ সদ্গুরু হওয়ার যোগ্যতা কি? যদি কেউ তার গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাবান না হয়, কি করে সে গুরুর প্রতিভূ হবে? কেউ যদি গুরুদেবের কাছ থেকে সবকিছু বিনয়, নম্রতা সহকারে না শেখে, কিভাবে ঐসব ধ্যানধারণার কথা সে যথাযথভাবে উপস্থাপন করবে, কেমন করে গুরুপরম্পরার ধারা অক্ষুন্ন থাকবে? শ্রবণ মাধ্যমে, গুরুকৃপার মাধ্যমে মানুষ কৃষ্ণভাবনাময় দার্শনিক তত্ত্ব বুঝতে পারে আর তা থেকেই পালাক্রমে সে অন্যের কাছে তা পৌঁছে দিতে পারে।
মানুষ যদি শ্রদ্ধাসহকারে না শোনে আর নিজের ধ্যানধারণা আরোপিত করে, তাহলে তো মূল ধ্যানধারণা বংশানুক্রমে পৌঁছে দেওয়া যাবে না। সেটা বিকৃত হয়ে যাবে আর অন্যরকমের একটা কিছু হয়ে পড়বে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ছিলেন এরই বিরোধী, আর তাই তিনি মহাপণ্ডিতকে বলেন, “তুমি খুব বিদ্বান হতে পার, কিন্তু যেহেতু তুমি আদি ভাষ্যকারকে অবহেলা করেছ, তাই তুমি বিচ্যুত।” তাঁরা যা করেছেন, তা আমাদের রক্ষা করতে হবে, আর তার পরে তার বেশি আমরা যা কিছু ব্যাখ্যা করলেও করতে পারি। কিন্তু তাঁদের মর্যাদা হানির মাধ্যমে তা করা যাবে না।
যদি পূর্বতন আচার্যবর্গের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হওয়ার চেষ্টা করি এবং তাঁদের ধ্যান-ধারণার পরিপন্থী আমাদের ধ্যান-ধারণাগুলি উপস্থাপন করি, তাহলে আমরা যথাযথ হলাম কি করে? শ্রীল সূত গোস্বামীর পিতা রোমহর্ষণের হয়েছিল সেই সমস্যা। তিনি ছিলেন অতীব বিদগ্ধজন, কিন্তু কোনক্রমে তিনি লক্ষ্যে উপনীত হতে পারছিলেন না, সারমর্ম হৃদয়ঙ্গম হচ্ছিল না। খানিকটা বিনয়-নম্রতার অভাব ছিল। যখন আদিগুরু শ্রীবলরাম প্রভু এলেন, তার দাড়িয়ে উঠে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত ছিল।
ব্যাপারটা সামান্য নয়, বিশেষত যখন পরমেশ্বর প্রভু নিজেই আগমন করেন। ব্যাস আসন মানে আপনি শ্রীব্যাসদেবের আসনে উপবেশন করে রয়েছেন, আপনি শ্রীব্যাসদেবের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আর স্বয়ং ব্যাসদেব যখন আসেন, নিশ্চয়ই আপনি উঠে দাঁড়াবেন আর তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তিনি যদি বলেন, “এখন বসো, প্রবচন সভা হোক।” তাই তখন করতে হয়। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবলরাম স্বয়ং এসেছিলেন, কিন্তু তিনি ভাবছিলেন, “আমি আসনে বসে আছি। কাউকে আমার শ্রদ্ধা দেখাতে হবে না।” কোনোক্রমে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি কলুষিত হয়ে পড়েছিল। তা না হলে কেন শ্রীবলরাম তাঁর কাছে এগিয়ে এসে একটি ছোট্ট কুশাঘাত করে তাঁর প্রাণবায়ু হরণ করে নিয়েন ছিলেন? নিঃসন্দেহে রোমহর্ষণ ছিলেন মহাপণ্ডিত, তা না হলে সমস্ত মহর্ষিদের সামনের সারিতে বসতেন না। কিন্তু তাঁকে কেন আসন থেকে দূর করে দেওয়া হল? কেন তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল? কারণ তিনি শ্রীবলরামকে তাঁর দণ্ডবৎ প্রণাম বা শ্রদ্ধা নিবেদন করেননি। শ্রীবলরামের সামনে আভূমি প্রণত হতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল।
এখানে আমরা বুঝতে পারি যে, কৃষ্ণভাবনা সম্পর্কে কিছু বলবার ক্ষমতা অর্জনের জন্য যদিও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাগ্রহণ খুবই প্রয়োজন, তবু তার চেয়েও যেটা বেশি করে দরকার, তা হল পারমার্থিক দীক্ষাগুরুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং তাঁর বাণী অনুসরণে বিশ্বস্ত হয়ে থাকা। যদি কোনও মতপার্থক্য থাকে, কিংবা যদি অশ্রদ্ধাভরে কেউ বলে, “আমার গুরু আমাকে যা শিখিয়েছেন, তার থেকে ভিন্ন কিছু আমি জানি”, তাহলে সেই লোকটির মহত্ত্বের লক্ষণ সেটা নয়, বরং সে যে রোমহর্ষণের মতো অযোগ্য, তারই লক্ষণ হলো সেটা। বিনয়ী, নম্র শিষ্য হল সে, যে শিষ্য পারমার্থিক দীক্ষাগুরুর নির্দেশ শ্রদ্ধা সহকারে প্রতিপালনে জীবন উৎসর্গ করে।


 

চৈতন্য সন্দেশ জানুয়ারি-২০২২ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here