কেন সেলিব্রেটিরা নিরামিষাশী? (পর্ব-২)

0
514

(ফেব্রুয়ারি-২০১৪)

ডেইলি হাফিংটন পোস্ট: গত পর্বে আমরা নাটাকিয়া পোর্টম্যান, ক্যারি আন্ডারউড, এবং মাইক টাইসনের নিরামিশাষী হওয়ার গল্প জানতে পেরেছি। পরিবেশ দূষণ রোধ, পশুদের প্রতি মমত্ববোধ প্রদর্শন এবং সর্বোপরি মানবদেহের সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত খাবার হিসেবে নিরামিষ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রকৃতিগতভাবেই আমাদের দেহ আমিষ খাদ্য গ্রহণের উপযুক্ত নয়। এছাড়াও ক্রমাগত পশু মাংস গ্রহণের ফলে শরীর নানা ঝুঁকিতে পর্যবসিত হয় এবং পরিশেষে নানা গুরুতর ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। আমাদের আইকন হিসেবে আমরা যেসব সেলিব্রেটিদের অনুসরণ করি তাদের অনেকেই ব্যক্তিগত জীবনে নিরামিষাশী। তাই আজ আমরা কয়েকজন বিখ্যাত সেলিব্রেটিদের নিরামিষাশী হওয়ার কারণ সম্পর্কে অবগত হব।
জোকুইন ফোনিক্স: গ্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা জোকিন ফোনিক্স নিরামিষাশী সেলিব্রেটিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরামিষাশী। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজকে তিনি বলেন, “আমার বয়স যখন তিন তখন একটি উজ্জ্বল স্মৃতি রয়েছে। আমার পরিবার এবং আমি নৌকায় বসে মাছ ধরছিলাম।…… মাছগুলো তাদের স্বাভাবিক বেঁচে থাকার স্থান থেকে ভয়ংকর মৃত্যু থেকে রেহাই পাবার জন্য যুদ্ধ করছিল। আমি এবং আমার ভাই-বোন তা লক্ষ্য করছিলাম।” সে অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিরামিষাশীতে পরিণত হন।
আশার রেইমন্ড: আশার রেইমন্ড আটবার গ্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী বিখ্যাত আমেরিকান গায়ক, গীতিকার, নৃত্যকার, ব্যবসায়ী ও অভিনেতা। আশার ২০১২ সনে নিরামিশাষী হন। আমেরিকান মিউজিক ইতিহাসে তাঁর মিউজিক অ্যালবাম RIAA সর্বাধিক বিক্রি হয়। শুধুমাত্র আমেরিকাতেই ২৩ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল। বিশ্বব্যাপি ৬৫ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল। যা তাকে সর্বকালের সেরাদের স্থানে উন্নীত করেছে। বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে একশত আর্টিস্টদের মধ্যে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। ২০০৮ সালে যখন আশারের বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা যান, তখন থেকে তিনি নিরামিষ খাবার গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। তিনি বর্তমানে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিরামিষ খাবার গ্রহণ করে যাচ্ছেন।
এছাড়াও তিনি আর এক বিখ্যাত গায়ক জাস্টিন বিবারকেও নিরামিষাশী হওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন।

রাসেল ব্রেন্ড: রাসেল এডওয়ার্ড ব্রেন্ড একজন ইংলিশ কমেডিয়ান অভিনেতা, রেডিও হোস্ট এবং লেখক। তিনি টাইম আউট অ্যাডওয়ার্ড, লোডেড লাফটাস অ্যাডওয়ার্ড, ব্রিটিশ কমেডি অ্যাডওয়ার্ড, তেত্রিশ তম বার্ষিক টিভি এবং রেডিও অ্যাডওয়ার্ডসহ আরো বিবিধ অ্যাডওয়ার্ড অর্জন করেন। ফরকস অভার নাইভস নামক একটি ডকুমেন্টারি দর্শনের পর পরই রাসেল ব্রেন্ড নিরামিষাশীতে পরিণত হন। এই ডকুমেন্টারিতে কিছু মারাত্মক রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আমিষ গ্রহণ বর্জনের কথা বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বহু বছর যাবৎ নিরামিষাশী থাকলেও ২০১১ সাল থেকে তিনি কঠোরভাবে এই নিয়ম পালন করে যাচ্ছেন।
একসময়ে বিখ্যাত পেটার বিজ্ঞাপনে তিনি বলেছেন, “আমি এখন নিরামিষাশী, বিদায় ডিমকে চিরতরে।” হরে কৃষ্ণ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here