কেন নিরামিষভোজী হব?

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২২ | ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২২ | ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 241 বার দেখা হয়েছে

কেন নিরামিষভোজী হব?

পুরুষোত্তম নিতাই দাস: কল্পনা করুন যে, সবজি কাটতে কাটতে হঠাৎ ভুুলবশতঃ যদি আপনার আঙ্গুলটি কেটে যায় এবং রক্ত বেরিয়ে আসতে থাকে এবং আপনি কত প্রবল যন্ত্রণা অনুভব করেন। তাহলে আমাদের এখন চিন্তা করা উচিত যে, নিরীহ প্রাণীগুলি কত যন্ত্রণা পায় যখন তাদের গলা কোন ধারালো ছুরি নিয়ে কাটা হয়। তারা যন্ত্রণায় ক্রন্দন করে যখন পশুরাও আমাদের মতো। তারাও খাবার খায়, ঘুমায়, জল পান করে, শ্বাস-পশ্বাস গ্রহণ করে এবং কষ্ট ও আনন্দ অনুভব করে। শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্্গীতায় (১৪/৪) পরিষ্কার ভাবে বলেছেন যে, এই বিশ্ব¦ সংসারে তিনি সমগ্র প্রাণী কূলের বীজ প্রদানকারী পিতা যার মধ্যে মানুষ, প্রাণী এবং বৃক্ষও সম্মিলিত আছে। আত্মতত্ত্ব বিজ্ঞান গ্রন্থের চতুর্থ অধ্যায়ে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, ‘এই দেহ একটি কাপড়ের তৈরী কোট। আপনার কালো কাপড় আছে। আমি গেরুয়া রঙের কাপড় পরেছি। কিন্তু পোশাকের মধ্যে আপনি একজন মানুষ এবং আমিও একজন মানুষ। তেমনি বিভিন্ন প্রজাতির জীব বিভিন্ন প্রকারের পোশাকের মতো। তার মধ্যে আত্মা আছে যা ভগবানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মনে করুন এক ভদ্রলোকের দুই পুত্র আছে যারা সমভাবের বুদ্ধিমান নয়। একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হতে পারে এবং অন্যজন একজন সাধারণ শ্রমিক, কিন্তু পিতা দুইজনকেই তার পুত্র বলে স্বীকার করেন। তিনি কখনো এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করেন না যে, বিচারক পুত্রটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং শ্রমিক পুত্রটি তত গুরুত্বপুর্ণ নয়। যদি বিচারক পুত্রটি বলে, হে প্রিয় পিতা, আপনার অন্য পুত্রটি অর্থহীন; আমাকে ওকে কাটতে দিন এবং ভক্ষণ করতে দিন, পিতা কি এটি অনুমোদন করবেন ?’ পরমেশ্বর ভগবান অবশ্যই অসন্তুষ্ট হন যখন তিনি দেখেন যে, উন্নত চেতনা সম্পন্ন মানবজাতি নিজের রসনা এবং উদর পরিতৃপ্তির জন্য অন্য প্রাণীকে হত্যা করছে। শাস্ত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে, যদি কোন মানুষ প্রাণী হত্যায় উৎসাহী হয় তাহলে পরবর্তী জীবনে সে সেই রকম প্রাণীদেহ পাবে। যে অন্য প্রাণীদের মাংস আহার করে জীবনধারণ করে সে বাঘ, সিংহ, নেকড়ে, শৃগাল, কুকুর ইত্যাদি রূপে জন্মগ্রহণ করবে। প্রকৃতি আমাদের অফুরন্ত খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেছে সুস্বাদু ফল, পুষ্টিকর শাকসব্জী, শস্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য ইত্যাদি। তাহলে কেন আমরা নিরীহ প্রাণীদের হত্যা করব? প্রকৃতপক্ষে এটা বলা হয় যে, আমরা মানুষেরা মুলত শাকাহারী। আমাদের শরীর নিরামিষ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করার জন্য তৈরী হয়েছে, ডিম প্রভৃতি আমিষ খাদ্যদ্রব্যের জন্য নয়। মিলটন আর মিলস্, এম. ডি লেখা ‘দ্যা কমপারেটিভ অ্যানাটমি অব ইটিং’ অনুসারে আমাদের শরীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে শাকাহারীদের মিল রয়েছে মাংসাশীদের সঙ্গে নয়। সুতরাং আমাদেরকে শুধুমাত্র নিরামিষ আহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি ভগবান চাইতেন আমরা আমিষাশী হব তাহলে তিনি আমাদের মাংসাশীদের মতো শারীরিক গঠন দিতেন।


মাসিক চৈতন্য সন্দেশ অক্টবর ২০২২ হতে প্রকাশিত
সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।