কিভাবে প্রার্থনা করতে হয়?

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:০২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:০২ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 190 বার দেখা হয়েছে

কিভাবে প্রার্থনা করতে হয়?

প্রার্থনার মাধ্যমে কখনো ভগবান সাড়া দেন কখনো বা সাড়া দেন না । এই বিভ্রান্তির ফলে কি প্রার্থনা থেকে বিরত হওয়া উচিত?

দ্বারকাদীশ দেবী দাসী


ভগবান একজন ব্যক্তি এবং তাঁর অপরিসীম কৃপায় তিনি আমাদের জড় বদ্ধ অবস্থায়ও তাঁর প্রতি সেবা নিবেদনের অনুমোদন দেন।
শ্রীমদ্ভাগবতে (৭/৫/২৩-২৪) ভগবানের এক মহান ভক্ত প্রহ্লাদ মহারাজ বলেন, “ভগবানের দিব্য নাম, রূপ, গুণ, পরিকর এবং লীলাসমূহ শ্রবণ এবং কীর্তন, তাদের স্মরণ, ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের সেবা, ষোড়শোপচারে শ্রদ্ধা সহকারে ভগবানের অর্চনা, ভগবানের বন্দনা, তার দাস হওয়া, ভগবানকে প্রিয়তম বন্ধু বলে মনে করা এবং ভগবানের কাছে সর্বস্ব সমর্পণ করা (অর্থাৎ কায়মনোবাক্যে তাঁর সেবা করা) এগুলি শুদ্ধ ভক্তির নয়টি পন্থা। যিনি এই নবধা ভক্তির দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের সেবায় তাঁর জীবন অর্পন করেছেন, তিনিই সর্বশ্রেষ্ট বিদ্বান, কারণ তিনি পূর্ণজ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছেন।”
নিম্নে ধারাবাহিকভাবে ভক্তিযোগের নয়টি পন্থা তুলে ধরা হল। প্রার্থনা বা বন্দনম হল নববিধা ভক্তির ৬ষ্ঠ অঙ্গ। সারাবিশ্বের ধর্মীয় ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রার্থনা হলো একটি সুগভীর ব্যক্তিগত পন্থা এবং এটি বিশ্বজনীনও হতে পারে। এটি সম্ভব হয় সুপ্রাচীন বন্ধন ও সাধারণ ভাষার মাধ্যমে। শাস্ত্রে অসংখ্য প্রার্থনার কথা উল্লেখ রয়েছে যেগুলো আমাদের সুহৃদ ও জীবনসঙ্গী স্বরূপ। প্রায় প্রত্যেকেই শৈশবের কোন প্রার্থনা কিংবা কোন সুপ্রচলিত প্রার্থনা শ্রবণ করলে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে থাকে।
শিশুরা ভগবান সম্পর্কে সবচেয়ে দ্রুত পন্থায় জানতে পারে প্রার্থনার মাধ্যমে। অনেক পিতা-মাতারা তাদের সন্তানদের নিদ্রা ও ভোজনের পূর্বে সাধারণ কিছু প্রার্থনার শিক্ষা দিয়ে থাকেন। অনেক ধরনের প্রার্থনা রয়েছে যেমন-কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের জন্য প্রার্থনা, প্রিয়জনদের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা এবং অবশ্যই কোন সুনির্দিষ্ট বাসনা পূরণের জন্য প্রার্থনা, শৈশবের বিশেষত কোন বিপদে ভয় বা ভগবান নারাজ হয়েছেন এই ভয়ে অধিকাংশ সময় প্রার্থনা করা হয়। শুভ ও অশুভ কর্মের জন্য স্বর্গ বা নরকে যেতে হবে এরকম একটি দর্শন সমাজে প্রচলিত রয়েছে, যেটি সামগ্রিক বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্কৃতির কার্যকলাপ গঠন করে থাকে।
এই জড়জগতে যখন আমরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হই, তখন প্রার্থনা জাগতিক যে কোন অবস্থারও ঊর্ধ্বে উচ্চতর শক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে গভীর ভালোবাসার সহিত যে প্রার্থনা তা আমাদের সুগভীর ও সবচেয়ে মূখ্য আবেগগুলোর পুনর্জাগরণ করে। প্রার্থনা জ্ঞানের সঞ্চার করে যেগুলো জীবনের অভিজ্ঞতারও ঊর্ধ্বে কোন একট উৎস থেকে উত্থিত হয়। এই কারণে অনেক শতাব্দী পূর্বে রচিত এরকম অনেক প্রার্থনা আমাদের মাঝে পারমার্থিক স্তরের সবচেয়ে আন্তরিক প্রকাশের অনুভূতির সঞ্চার করে।

দুঃখদুর্দশার প্রার্থনা

অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুঃখদুর্দশা প্রার্থনার মনোভাব নিয়ে আসে। শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা অনুসারে ভগবান সেরকম প্রার্থনা গ্রহণ করেন, এমনকি সে প্রার্থনাগুলোতে ভগবানের আনন্দের চেয়ে নিজেদের আনন্দ প্রাধান্য পেলেও। এর কারণ শ্রীমদ্ভাগবতে উল্লেখিত একটি কাহিনিতে প্রদর্শিত হয়েছে।
একবার গজেন্দ্র নামে এক বৃহদাকার হস্তী তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করছিল। একসময় সে ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত অনুভব করে। তারা তখন একটি সরোবরে এসে জলক্রীড়ায় মেতে উঠে। সেই সরোবরে বৃহদাকার ও শক্তিশালী একটি কুমির বাস করত। কুমিরটি গজেন্দ্রের পা কামড়ে ধরে রাখে। গজেন্দ্র তার প্রবল শক্তি ও সঙ্গীদের সহায়তায়ও সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেনি।
দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকে। একসময় গজেন্দ্র দুর্বল হয়ে আসলে কুমির আরো প্রবল শক্তি নিয়ে গজেন্দ্রকে আঁকড়ে ধরে। গজেন্দ্র দেখে যে তার মৃত্যু সন্নিকটেই, তখন সে উপলব্ধি করল এমতাবস্থায় প্রকৃতপক্ষে ভগবান ব্যতিত আর কেউই তাকে রক্ষা করতে পারবে না। তখন গজেন্দ্র অসহায় হয়ে ভগবানের উদ্দেশ্যে আকুল প্রার্থনা জানায়। শরণাগত ভক্তের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে ভগবান সেখানে আবির্ভূত হয়ে কুমিরটিকে হত্যা করেন।
গজেন্দ্রের প্রার্থনায় যে আশ্চর্য বিষয়টি ছিল তা হল শুধু উপলব্ধি সহকারে প্রার্থনা। গজেন্দ্র উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে হস্তীদের প্রধান হিসেবে তার যে আধিপত্য তা আসলে ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃতপক্ষে তার প্রধান কর্তব্য হল ভগবানের সাথে নিত্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা এবং গজেন্দ্র তখন সেটি উপলব্ধি করেছিল। এভাবে তার হৃদয়ে অণুপ্রেরণার উদয় হয়েছিল। এখানে তিনি সে প্রার্থনা পূর্ব থেকেই জানতেন কিংবা শুধুমাত্র তা বর্তমান বিরূপ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্যই কেবল এই প্রার্থনা নিবেদন করেছিলেন তা নয়, বরং সে এই প্রার্থনা উপলব্ধি সহকারে পূর্ণ ভালোবাসার সহিত প্রেমময়ী ভগবানের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেছিল।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের প্রার্থনার সঙ্গে অনেক প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকে। অন্যথা সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধিপতি ভগবানের সঙ্গে প্রার্থনার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের কি প্রয়োজন রয়েছে, যদি আমরা স্বাধীনভাবে আমাদের বাসনাগুলোই প্রকাশ করতে না পারি? আমরা যদি ভগবানের সর্বশক্তিমত্তার চেতনার মধ্যে বাস করি, তখন নির্দিষ্ট বাসনার জন্য প্রার্থনা স্বাভাবিক মান হবে, কিন্তু তৎক্ষণাৎ একই সাথে অনেকগুলো প্রার্থনা যেমন ভালো পরিবেশ, অর্থ কোন অলৌকিক আরোগ্য প্রদানের মত বাসনা পূরণ অসম্ভব বিষয়। যেরকম শ্রীল প্রভুপাদ উল্লেখ করেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সৈনিকদের স্ত্রীরা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছিল যাতে তাদের স্বামীরা যেন নিরাপদে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সৈনিকদের সহধর্মিনীরাও অনুরূপ প্রার্থনা করছিল। এমতাবস্থায় এরকম যুদ্ধে কিভাবে প্রত্যেককে সন্তুষ্ট করা যেতে পারে?

মিশ্র ফলাফল

মাঝে মাঝে আমরা প্রার্থনার ইতিবাচক ফল পেয়ে খুশী হই, আবার মাঝে মাঝে প্রার্থনা নেতিবাচকের মাধ্যমেও আমরা আশীর্বাদ পেতে পারি। এক্ষেত্রে ভগবানের উদ্দেশ্য কি সেটি আমরা উপলব্ধি করতে পারি না । কোন অনুরোধে তিনি সাড়া দেবেন সেটি কৃষ্ণ কিভাবে সিদ্ধান্ত নেন? যখন চরম অবস্থায়ও প্রার্থনার কোনো সাড়া না মেলে তখন আমাদের প্রতিক্রিয়া কি হয়?
এক্ষেত্রে উত্তরটি জটিল। যেটি কর্মফলের সঙ্গে এবং সে সাথে আমাদের কল্যাণের জন্য কোন শিক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। যেরকম কোন পিতা-মাতা বিপদ বা দুরবস্থা জেনে সন্তানের কোন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এমন কিছু ভাবুন তো, পূর্বে এমন কোন ঘটনা ঘটেছে যে ভগবানের কাছে প্রার্থনার সাড়া না পাওয়ায় আপনি বরং লাভবান হয়েছেন এবং এজন্য আপনি ভগবানের প্রতি কৃতজ্ঞ। সাড়া না পাওয়ার ফলে আপনার ভালো কিছু হয়েছে। যাকে আমরা ভালোবাসতাম সে আমাদেরকে প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসেনা। এরকম অনেক ক্ষুদ্র দূরদর্শিতার হাত থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছিলাম, ভগবান আমাদের প্রার্থনা গ্রহণ না করার মাধ্যমে আমাদের উদ্ধার করেছিলেন। কিন্তু মাঝে মাঝে আমাদের এমন কিছু ক্ষতি হয় যে, এর কোন সদুত্তর কিংবা কৃষ্ণের প্রত্যুত্তর না দেওয়ার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় না। কারো সন্তান হারিয়ে গেলে বা মৃত্যু হলে কিভাবে তা সঠিক হতে পারে? কোন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিঃশেষিত হওয়ার মধ্যে কি সঠিক থাকতে পারে? যখন এরকম মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের জীবনে প্রবেশ করে, সেগুলো অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে আসে। ফলে আমরা প্রায়ই ভগবানের কাছে তখন অকল্পনীয় গভীর প্রার্থনায় নিমগ্ন হই এবং প্রায় ক্ষেত্রেই এ ধরনের দুর্দশা থেকে আমরা পরিত্রাণ পাই না। যেন কৃষ্ণ আমাদের কথা শুনছেনই না বা গুরুত্বই দিচ্ছেন না। এরকম পরিস্থতিতে কৃষ্ণের প্রতি ক্রোধ প্রদর্শন না করা কিংবা ভগবানের সাথে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ না করে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। যেন মনে হয় তিনি তার প্রতি আমাদের ভালোবাসাকে এভাবে যেন ধ্বংস করে দিচ্ছেন। কিন্তু এটিই হল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা চারপাশের মানুষগুলো ও বিষয়গুলোকে গভীরভাবে ভালোবাসি। যেহেতু ভালবাসা প্রদর্শন স্বাভাবিক, তাই এটি নির্দিষ্ট পরিপ্রেক্ষিতেই প্রদর্শন করতে হবে। ভালোবাসা, সবচেয়ে শুদ্ধ ও প্রসন্নতার রূপ, প্রকৃতপক্ষে কৃষ্ণের প্রতিই প্রদর্শিত হয়। যখন ভগবানের প্রতি ভালোবাসা আমাদের মধ্যে পুনঃজাগরিত হয়, তখন আমরা ভগবানকে ভালোবাসার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে বা তাকে সবকিছুর কেন্দ্রে রেখে অপরকে ভালোবাসা প্রদান বা অপরের নিকট থেকে ভালোবাসা গ্রহণ করতে পারি। তখন আমাদের প্রকৃত সত্তার পরিচয় প্রকাশ পায় এবং আমরা সর্বদা সবচেয়ে আনন্দিত হয়ে উঠতে পারি। এটি অবশ্যই কোন ক্ষুদ্র উপলব্ধি নয় এবং তা কৃত্রিমভাবে প্রদর্শন করাও অসম্ভব। কিন্তু মাঝে মাঝে ভগবান এরকম মর্মান্তিক দুঃখ দুর্দশার মাধ্যমে সেই প্রকৃত উপলব্ধির পথে আমাদেরকে পরিচালিত করতে পারেন । অনেকের জন্য এরকম দুর্দশা নিশ্চিতভাবে আশীর্বাদ হিসেবে অনুভূত হয় না, পক্ষান্তরে যিনি আমাদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন সেই ভগবানের প্রতি প্রার্থনা নিবেদন করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়।
রাণী কুন্তীদেবীর মতো দুঃখ-দুর্দশা ও প্রার্থনার সঙ্গে সম্বন্ধীয় এমন কিছু পূর্বে আমি কখনো অধ্যয়ন করিনি । এক্ষেত্রে তিনি এবং তার পরিবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভ করায় অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ছিল। যিনি তাদেরকে প্রিয়জনদের মৃত্যু ও বিচ্ছেদ-বিরহ অর্থনৈতিক ও সম্মান হানির মতো দুরাবস্থা সহ্য করার জন্য সহায়তা প্রদান করেছিলেন। এভাবে সহায়তা প্রদানের পর যখন কৃষ্ণ তাদের ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন, তখন কুন্তীদেবী ভগবানের প্রতি প্রার্থনা নিবেদন করলেন।

বিপদঃ সন্তু তা শশ্বতত্র তত্র জগদ্‌গুরো।
ভবতো দর্শনং যৎ স্যাদপুনর্ভবদর্শনম্ ॥

(ভাগবত-১/৮/২৫)

হে জগদীশ্বর, আমি কামনা করি যেন সেই সমস্ত সঙ্কট বারে বারে উপস্থিত হয়, যাতে বারে বারে আমরা তোমাকে দর্শন করতে পারি। কারণ তোমাকে দর্শন করলেই আমাদের আর জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে হবে না বা এই সংসার চক্র দর্শন করতে হবে না।
আমাদের অনেকেই হয়তো এমন প্রার্থনা নিবেদনে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু নির্ভীক কুন্তীদেবী নয়।
এভাবে প্রার্থনা হলো আমাদের উপলব্ধি ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে আমাদের অদ্বিতীয় সম্পর্কের প্রতিফলন। প্রার্থনা হলো সামগ্রিকভাবে হৃদয়ের অভ্যন্তরে বিরাজমান ভগবানের সঙ্গে সবচেয়ে অন্তরঙ্গ কথোপকথন থেকে শুরু করে বিশ্বজনীন প্রার্থনা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ যা শুধু সময়ের আবর্তে প্রতিধ্বনিত হয়। এটি শুধুমাত্র কিছু শব্দসম্বলিত ভাষা নয়, বরং এটি হল হৃদয়ের ভাষা। অনুভূতি শূন্য খুব সুন্দর প্রার্থনার কোন মূল্য নেই; প্রার্থনার সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে প্রকৃতপক্ষে প্রার্থনার আন্তরিকতা বা একনিষ্ঠতার ওপর।
আপনার সবচেয়ে সুন্দর প্রার্থনাগুলো অনুসন্ধান করুন এবং উৎসাহের সহিত সেগুলো ভগবানের প্রতি নিবেদন করুন। ওহে নন্দনন্দন! আমি তোমার নিত্য কিঙ্কর (দাস) হয়েও স্বকর্ম বিপাকে বিষম ভব সমুদ্রে পড়েছি। তুমি কৃপা করে আমাকে তোমার পাদপদ্মস্থিত-ধূলিসদৃশ চিন্তা কর। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রার্থনা ।

শিক্ষাষ্টকম ৫

শ্রীমতী কুন্তীদেবী বললেন, হে কৃষ্ণ; আমি তোমাকে সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। কারণ তুমি আদি পুরুষ এবং জড়া প্রকৃতির সমস্ত গুণের অতীত । তুমি সকলের অন্তরে ও বাহিরে অবস্থিত; তথাপি তোমাকে কেউ দেখতে পায় না ।

(ভাগবত-১/৮/১৮)

“হে সর্বশক্তিমান, আপনার শ্রীপাদপদ্মের সেবা বিনা অন্য কোন বাসনা নেই….. হে হরি, কোন ব্যক্তি বন্ধন থেকে জর্জরিত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করে থাকেন।”

(রাজা মুচুকুন্দের প্রার্থনা)

“হে আমার প্রভু, আপনার শ্রীপাদপদ্মের আঘ্রান যারা গ্রহণ করেছেন, কর্ণের মাধ্যমে বৈদিক শব্দ গ্রহণ করেছেন, তারা আপনার ভক্তিমূলক সেবা গ্রহণ করেন………

(ব্রহ্মার প্রার্থনা)

“হে বসুদেব পুত্র কৃষ্ণ, যিনি সবার হৃদয়ে অবস্থান করছেন……হে মন ও ইন্দ্রিয়সমূহের প্রভু…. আমাকে কৃপা করে রক্ষা করুন, আমি আপনার শরণাগত।”

(অক্রুরের প্রার্থনা)

জানুয়ারী-মার্চ  ২০১৮ ব্যাক টু গডহেড
সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।