কিভাবে প্রকৃত ধনী হবেন?

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৩ | ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৩ | ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 148 বার দেখা হয়েছে

কিভাবে প্রকৃত ধনী হবেন?

ধন যে প্রাপ্ত হয় তাকেই ধনী বলা হয়, কিন্তু কি পরিমাণ ধন?

আবার ধনী হওয়ার তো অনেক পন্থা রয়েছে তবে জীবনের উদ্দেশ্য পরম সুখ লাভ করার জন্য ধনী হওয়ার প্রকৃত পন্থাই বা কি?

কমললোচন গৌরাঙ্গ দাস


 

কে না চায় ধনী হতে? সবারই জীবনের লক্ষ্য বলতে গেলে এক কথায়, ‘ধনী হতে চাই’। পিতা-মাতারা শৈশব থেকেই সন্তানদের হৃদয়ে এই বীজ বপন করে যে, “লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে।” অর্থাৎ “লেখা-পড়া করলে তুমি ধনী হতে পারবে।” শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করে ছাত্রজীবন শেষ করে ভালো চাকরী বা অর্থ লাভের আশায় অর্থাৎ ধনী হওয়ার অভিপ্রায়ে। অনেকেই আবার মানব সেবার বুলি গায় কিন্তু এর পেছনের অভিপ্রায় হল এই মানব সেবাকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে ধনী হওয়া যায়। যদিও এর ব্যতিক্রম থাকতে পারে যা বর্তমান সমাজে বিরল। অতএব, বর্তমান বিশ্বে ছোট থেকে বড় সবাই তথাকথিত সভ্যতার বিকাশের নামে গাধার মত পরিশ্রম করে ছুটে চলছে অন্যতম এই লক্ষ্যে “কিভাবে ধনী হওয়া যায়?” এখানে একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠে আসে তা হল যদি প্রশ্নটি এভাবে করা হয় “আপনি কেন ধনী হতে চান?” উত্তরটি খুবই সরল, যেটি শাস্ত্রীয় ক্রম অনুসারে বললে, আহার, নিদ্রা, ভয় ও মৈথুন চরিতার্থ করার জন্য। অর্থাৎ, ধনী হওয়ার উদ্দেশ্য হল পশুদের মত এই চারটি প্রাপ্তি যেন ঘটে। এক্ষেত্রে শাস্ত্র উদ্দেশ্য করে বলছে “হে মনুষ্যকুল এগুলো পশুর স্তরের কার্যাবলী, কিন্তু তোমরা তো পশু নও, তোমরা বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ। তোমাদের উচিত এই চারটি বিষয়ের ঊর্ধ্বে সব উন্নত বিষয় চর্চা করা।” এক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রশ্নটি উঠে আসে তবে শাস্ত্রীয় পরিপ্রেক্ষিতে “কিভাবে প্রকৃত ধনী হতে হয়?”

 

 

 

জাগতিক ও পারমার্থিক ধন

ধনী দুইভাবে হওয়া যায় যথা জাগতিক ও পারমার্থিকভাবে। তবে এই দুটি বিষয় ভিন্ন পরিমিতির উপর নির্ভর করে। জাগতিকভাবে ধনী হতে গেলে অবশ্যই আপনাকে হিসেবী, ধূর্ত ও প্রয়োজনে হিংস্র হতে হবে এবং প্রয়োজনে অর্থ উপার্জনের জন্য তার অবস্থানে অনড় হতে হবে। কিন্তু আধ্যাত্মিকভাবে ধনী হওয়ার পন্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বৈদিক জীবন আমাদের ত্যাগী, সহানুভব, উদার, দয়ালু হতে শিক্ষা প্রদান করবে, যার ফলে আপনার জীবনের সকল সমস্যা সমাধান হবে এবং আধ্যাত্মিকভাবে ধনী হয়ে উঠবেন। ধনী হওয়ার জন্য উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ৩টি  ফর্মুলা দিয়েছেন যথা- ১) অন্যের থেকে বেশি জানুন, ২) অন্যের থেকে বেশি কাজ করুন, ৩) অন্যের থেকে কম আশা করুন। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলেছেন যেটি শ্রীমদ্ভাগবতের (১১/১৯/৪৪) শ্লোকে বর্ণিত হয়েছে- “দরিদ্রো যত্ত্বসন্তুষ্টঃ কৃপণো যোহজিতেন্দ্রিয়ঃ। গুণেষসক্তধীরীশো গুণসঙ্গো বিপর্যয়ঃ ।। ”  অনুবাদ: প্রিয় সখা উদ্ধব, যে সদগুণাবলী দ্বারা ভূষিত, তাকেই বলা হয় প্রকৃত ধনী, আর যে জীবনে সন্তুষ্ট নয়, সেই প্রকৃত দরিদ্র। কেউ যদি তার পেশার দ্বারা  ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বারা অনেক ধন উপার্জন করে, তার অর্থ এই নয় যে, সে আধ্যাত্মিক উন্নতি করছে। আধ্যাত্মিক উন্নতি ধন- সম্পদ অর্জন থেকে ভিন্ন। যদিও জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে পারমার্থিক ধনে ধনী হওয়া, তবু দুর্ভাগ্যবশত মানুষেরা বিপথে পরিচালিত হয়ে, সর্বদা জড় জাগতিক ধনে ধনী হওয়ার চেষ্টা করছে। এই ধরনের বৈষয়িক কার্যকলাপ কিন্তু মনুষ্য- জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধনে সাহায্য করেনা। পক্ষান্তরে, জড়-জাগতিক কার্যকলাপ মানুষকে বহু অনাবশ্যক বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে, যার ফলে পুনরায় অধঃপতিত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করার সম্ভাবনা থাকে। (ভাগবত তাৎপর্য ৭/১৫/২৯)

 

 

কেউ ধনী কেউ গরীব কেন?

আমরা দেখি কেউ ধনী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে আর কেউ দরিদ্র পীড়িত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। এটা কে নির্ধারণ করে? কিসের ভিত্তিতে তা হয়? যেখানে আলো রয়েছে সেখানে অন্ধকার অনুপস্থিত ঠিক একইভাবে যেখানে দারিদ্রতা অনুপস্থিত সেখানে প্রতিপত্তি উপস্থিত । এ সম্বন্ধে শ্রীমৎ গৌরগোবিন্দ স্বামী মহারাজ ‘সাধু সঙ্গ’ গ্রন্থে লিখেছেন, আজকাল আমাদের রাষ্ট্রের নেতা বা শাসকগণ জনসাধারণের দারিদ্র দূর করার জন্য নানা প্রকার আইন প্রণয়ন করছেন-শিল্প আইন, অর্থনৈতিক আইন ইত্যাদি। অর্থনীতিজ্ঞগণ নানা উপায় চিন্তা করছেন, কিভাবে জনসাধারণের দারিদ্র দূর করা যেতে পারে। মুখ্য মন্ত্রীদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন, জনগণকে অধিক ঋণ দেওয়ার জন্য, আর্থিক সাহায্য করার জন্য, যার ফলে জনগণের দারিদ্র দূর হয়ে যাবে। নানা প্রকার ভৌতিক আইন করা হচ্ছে দারিদ্র দূর করার জন্য, কিন্তু পরিসংখ্যান বিভাগ প্রকাশ করেছেন যে, সব আইন ব্যর্থ হচ্ছে, জনগণ অধিক দরিদ্র হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের অধিকাংশ লোক দারিদ্র সীমারেখার তলদেশে যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? এর প্রকৃত কারণ কি? জড়বাদী স্থূলবুদ্ধি- বিশিষ্ট ভৌতিক আইন প্রণয়ণকারী ব্যক্তিগণ তা জানতে পাচ্ছে না। একজন ধনী আর একজন গরীব হচ্ছে, একজন সবল আরেকজন দুর্বল হয়ে পড়ছে, একজন খুব সুন্দর আরেকজন দেখতে কুৎসিত, একজন সুস্থ আর একজন অসুস্থ বা ব্যাধিগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। এসব কেন এমন হচ্ছে? উত্তর হচ্ছে এসব প্রারব্ধ কর্মের ফল। তা কে খণ্ডন করবে? ভৌতিক আইন গড়ে তুমি এটা খণ্ডন করতে পারবে না। কেবল ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তা খণ্ডন করতে পারেন । জীব যখন সম্পূর্ণরূপে কৃষ্ণ চরণারবিন্দে আশ্রিত হয়, তখন তার কর্মফল ভগবান ধ্বংস করে দেন।

ব্রহ্মসংহিতায় বলা হয়েছে “ইন্দ্রগোপ নাম ক্ষুদ্রকীটই হোক, কিংবা দেবরাজ ইন্দ্র হোন, সকলেই নিজ নিজ কর্মফল ভোগ করছে। ভগবান পক্ষপাতশূণ্য হয়ে সকলের নিজ নিজ কর্ম বন্ধানুরূপ ফল প্রদান করছেন, অথচ আশ্চর্যের কথা এই যে, তিনি ভক্তিমান ভক্তদের কর্মফল সমূলে দহন করে দিচ্ছেন। সেই আদি পুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজন করি।” প্রারব্ধ কর্মানুসারে জীব এই ভৌতিক জগতে নানা যোনিতে ভ্রমণ করছে ও সুখ-দুঃখ ভোগ করছে। এই ভৌতিক জগৎ অস্থায়ী ও দুঃখে পূর্ণ। এখানে কিছুই স্থায়ী নয় । তাই ভৌতিক সুখ-দুঃখ স্থায়ী নয়। আজ আছে কাল নষ্ট হবে। ধনী-দরিদ্র অবস্থা অস্থায়ী হলেও তার পরিবর্তন কেবল ভগবান শ্রীকৃষ্ণই করতে পারেন, আর কেউ নয়। তাই আপনি যদি দারিদ্র দূর করতে চান তাহলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রিত হন। তিনি কৃপা করলে আপনার দারিদ্র দূর হবে। কারণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন লক্ষ্মীপতি। ব্রহ্মসংহিতায় বলা হয়েছে-হাজার হাজার লক্ষ্মী তাঁর সেবা করছেন। লক্ষ্মী হচ্ছেন ধনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। লক্ষ্মী কৃপা করলে আপনার ধন লাভ হবে। আপনার দারিদ্র দূর হবে; কিন্তু সেই লক্ষ্মী সম্ভ্রমের সঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করছেন। তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপা যে লাভ করবে সে নিশ্চয় লক্ষ্মীর কৃপা লাভ করবে। ভগবান কৃষ্ণ যার উপর সন্তুষ্ট হবেন, লক্ষ্মী এসে তার সেবা করবেন।

এ প্রসঙ্গে আমরা সুদামা বিপ্রের দারিদ্র ভঞ্জনের কথা ব্যাখ্যা করব। সুদামা নামে এক বিষয়াসক্তি-শূণ্য, জিতেন্দ্রিয়, প্রশান্ত চিত্ত, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ যিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সখা ছিলেন। তিনি অতি দরিদ্র ছিলেন। একদিন তাঁর পত্নী স্বামীর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতে পারলেন না, কারণ ঘরে কিছু ছিল না। সেই পতিব্রতা ব্রাহ্মণী নিরস বদনে দরিদ্র পতির কাছে এসে বললেন, “হে ব্ৰাহ্মণ, ব্রাহ্মণদের হিতকারী শরণ্য সাক্ষাৎ শ্রীপতি যাদবশ্রেষ্ঠ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আপনার সখা। হে মহাভাগ, আপনি সাধুগণের পরমগতি-স্বরূপ সেই শ্রীকৃষ্ণের কাছে যান, তিনি আপনাকে বহু পোষ্যপালনে অসমর্থ হওয়া দেখলে প্রভূত ধন দান করবেন।” সুদামা ব্রাহ্মণ ঘর থেকে আসার সময় সখার জন্য কিছু চিড়া ভাজা এনেছিলেন। তিনি তা মলিন বস্ত্রে বেঁধে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ভগবান অন্তর্যামী সব জানেন। তাই তিনি ‘এটা কি’-এই কথা বলে ব্রাহ্মণের লুকিয়ে রাখা চিড়া ভাজার পুঁটলাটা টেনে বার করে আনলেন। তার থেকে এক মুঠো ভক্ষণ করে দ্বিতীয় মুঠো গ্রহণ করা মাত্রেই পতিব্রতা রুক্মিণীদেবী তাঁর হাত ধরে বললেন, “হে সর্বান্তর্যামি, একমুষ্টি ভক্ষণেই এই বিপ্রবরের ইহলোকে এবং পরলোকে আমার কটাক্ষ বিলাসভূত যাবতীয় ঐশ্বর্যের সিদ্ধি হয়েছে, এরপর দ্বিতীয় মুষ্টি ভক্ষণ করে আমাকে ঐর অধীনা করবেন না । এ থেকে সূচিত হচ্ছে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ (লক্ষ্মীপতি) সন্তুষ্ট হলে লক্ষ্মী স্বত এসে অবস্থান করেন। তুমি যদি দারিদ্র ভঞ্জন করতে চাও, তাহলে লক্ষ্মীপতি শ্রীকৃষ্ণকে সন্তুষ্ট করো । লক্ষ্মীদেবী কৃপা করলে দারিদ্র দূর হবে। বিপ্র সুদামা শ্রীকৃষ্ণের মন্দিরে অবস্থান করে পরদিন গৃহে প্রত্যাবর্তনের সময় তিনি চিন্তা করতে লাগলেন, “শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্ম সেবাই পুরুষগণের স্বর্গ, মর্ত্য, পাতালস্থ যাবতীয় ঐশ্বর্য, সর্বপ্রকার সিদ্ধি এবং মুক্তিলাভের মূল কারণস্বরূপ।” তিনি আরো ভাবলেন, “আমার মতো নির্ধন ব্যক্তি ধন লাভ করে মত্ততাবশতঃ তাঁকে আবার বিস্তৃত হয়ে যেতে পারে এই ভেবে পরম কারুণিক শ্রীকৃষ্ণ আমাকে কিঞ্চিন্মাত্র ধনও প্রদান করলেন না। কিন্তু ব্রাহ্মণ যখন এরূপ চিন্তা করতে করতে নিজ ঘরের কাছাকাছি এসে পৌঁছলেন, তখন তিনি তাঁর ঘর চিনতে পারলেন না। তিনি দেখলেন, সেখানে চতুর্দিকে অতি উজ্জ্বল বিমানসমূহ বিরাজমান, পক্ষীগণ আনন্দে কুঞ্জন করছে কুমুদ-কমল পরিশোভিত জলাশয় বিশিষ্ট বিচিত্র উপবন ও উদ্যান শোভা পাচ্ছে। আবার নানা অলঙ্কারে মণ্ডিত পুরুষ ও সুন্দরী রমণীগণ সেখানে রয়েছে। সেসব দেখে তিনি চিন্তা করতে লাগলেন, “এ কি! এ গৃহ কার? এটি কেমন করে এমন হলো?” লক্ষ্মীপতি শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় সুদামা ব্রাহ্মণের কিভাবে দারিদ্র ভঞ্জন হলো, তা ভালভাবে বোঝা উচিত । ব্রাহ্মণ নিজের পত্নীকেও চিনতে পারলেন না। কারণ তার পত্নী সেই সময় দাসীগন পরিবেষ্টিত হয়ে বিমানচারিণী দেবাঙ্গনা সদৃশ দেখা যাচ্ছিলেন। তারপর তিনি হৃষ্ট চিত্তে মণিময় শত স্তম্ভযুক্ত ইন্দ্ৰালয় তুল্য নিজের মন্দিরে প্রবেশ করলেন। সুদামা বিপ্রের কুঁড়ে ঘর আর ছিল না । তা ইন্দ্রভবন সদৃশ হয়ে গেছিল। সেই মন্দিরের মধ্যে দুগ্ধ ফেননিভ ধবল শয্যা, হস্তীদন্ত বিনির্মিত পালঙ্ক, সুবর্ণ দণ্ডযুক্ত চামর ব্যঞ্জন, সুকোমল আস্তরণ বিশিষ্ট সুবর্ণময় আসন, মুক্তামালা খচিত অতি সুন্দর চন্দ্রাতপ, মহামরকত মণিযুক্ত রত্নদীপ, নানারত্ম বিভূষিত রমণীগণ এবং সর্বপ্রকার সম্পদ ও সমৃদ্ধি দর্শন করে বিপ্র চিন্তা করতে লাগলেন, এটা কেমন করে হলো।” সুদামা বিপ্র ভাবছেন, নিরন্তর দারিদ্র্য দুঃখ পীড়িত আমার মতো হতভাগার এরকম ঐশ্বর্য প্রাপ্তি বিষয়ে মহা-বিভূতিশালী যদুত্তম শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাৎকার ছাড়া অন্য কোন কারণ সঙ্গত হয় না।” ঘরে কিছু ছিল “হে ব্রাহ্মণ, দরিদ্র সুদামার একমুষ্টি চিড়া ভাজা গ্রহণ করে সেই লক্ষ্মীপতি শ্রীকৃষ্ণ কি অতুল সম্পদ না দিলেন। কিভাবে দারিদ্র ভঞ্জন করা হয়েছে ও কিভাবে হচ্ছে-এই উপ্যাখ্যান থেকে সকলের তা শিক্ষালাভ করা উচিত।

কৃষ্ণভক্তি লাভ ও কৃষ্ণ প্রীতিবিধান ছাড়া দারিদ্র দূরীকরণ সুদূর পরাহত। তাই যে সকল শাসকবৃন্দ ও জননেতাগণ নাগরিকদের দারিদ্র দূর করতে অত্যন্ত আগ্রহী, তাঁরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধানার্থে কর্ম করুন এবং দারিদ্র ভঞ্জনের জন্য তাঁর কৃপা প্রার্থনা করুন, তাহলে অচিরেই দারিদ্র দূর হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় সুদামা ব্রাহ্মণের দারিদ্র দূর হলো। অতুল সম্পদ ও ঐশ্বর্য লাভ করেও সুদামা বিপ্ৰ অতিশয় ভক্তিযুক্ত চিত্তে অনাসক্তভাবে পত্নীসহ বিষয় ভোগ করলেন। তিনি ভাবতেন আমি যেন প্রতিজন্মে তাঁর (ভগবান শ্রীকৃষ্ণের) প্রিয় হিতৈষী উপকারক এবং সেরকরূপে জন্মগ্রহণ করতে পারি, আবার সেই মহানুভব সর্বগুণাকর পুরুষোত্তম ও তাঁর ভক্তগণের উত্তম সঙ্গ লাভ করতে পারি।” এই শ্লোকের কথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি জন্মে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবক রূপে জন্মগ্রহন করার জন্য ও ভক্তসঙ্গ লাভ করার জন্য তিনি কামনা পোষণ করেছেন। এটাই প্রকৃত কামনা । ভগবানের কৃপা প্রার্থনা করে দারিদ্র দূর করো, কিন্তু ভগবানকে বিস্মৃত হবেন না। সর্বদা ভগবানকে স্মরণ করে প্রাপ্ত ধন-সম্পদ তাঁর সেবায় লাগান। তাঁর প্রতি আসক্ত হয়ে নিজের প্রীতি বিধানার্থে তা ব্যয় না করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধানার্থে তা ব্যায় করুন । তাহলে লক্ষ্মীদেবী কখনই তোমাকে ত্যাগ করবেন না। চিরদিন ধনী হয়ে থাকতে পারবেন।

 

সাধুর কৃপাপাত্র কারা হতে পারেন?

যারা একটু ঐশ্বর্যে জীবন যাপন করে তারা মনে করে মন্দিরে বা সাধুদের সঙ্গ দরিদ্ররাই করে কিন্তু এই ধারণাটি ভুল। তাই ১০/১০/১৭ শ্লোকে বলা হয়েছে, “সমদর্শী সাধুরা দরিদ্রদেরই সঙ্গে করেন, ধনীদের সঙ্গ করেন না। দরিদ্র ব্যক্তি সৎসঙ্গের প্রভাবে অচিরেই জড় বিষয়ের প্রতি উদাসীন হয় এবং তার হৃদয় সমস্ত কলুষ থেকে মুক্ত হয়।” শাস্ত্রে বলা হয়েছে মহদ্বিচলনং নৃণাং গৃহিণাং দীনচেতসাম্ (শ্রীমদ্ভাগবত ১০/৮/৪) সাধু অথবা সন্ন্যাসীর একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা। সাধু যদিও ধনী এবং দরিদ্র উভয়েরই কাছে ভগবানের বাণী প্রচার করতে চান, তবুও দরিদ্র ব্যক্তি সাধুর প্রচারের সুযোগ ধনী ব্যক্তি থেকে অধিক গ্রহণ করেন। দরিদ্র ব্যক্তি সহজেই সাধুকে স্বাগত জানান, তাঁদের প্রণতি নিবেদন করেন এবং তাঁদের উপস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ধনী ব্যক্তির দারগোড়ায় এক বিশাল কুকুর পাহারা দেয়, যাতে কেউ তার গৃহে প্রবেশ না করতে পারে। তার দরজায় বড় বড় করে লেখা থাকে “কুকুর হতে সাবধান”। এইভাবে সে সাধুসঙ্গ বর্জন করে, কিন্তু দরিদ্র ব্যক্তির দ্বার সর্বদাই খোলা থাকে এবং তাই তাঁর সুধুসঙ্গের সুফল ধনী ব্যক্তিদের থেকে অধিক লাভ করতে পারেন। যেহেতু নারদ মুনি তাঁর পূর্বজন্মে ছিলেন এক দরিদ্র দাসীর পুত্র, তাই তিনি সাধুসঙ্গ লাভ করেছিলেন এবং পরে দেবর্ষি নারদের অতি উচ্চপদ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। সেটি ছিল তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাই, তিনি এখানে ধনী ব্যক্তির সঙ্গে দরিদ্র ব্যক্তির অবস্থার তুলনা করেছেন।

বিষ্ণুভক্তরা কেন দরিদ্র হয়?

লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ গ্রন্থের ১২ অধ্যায়ে শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করে বলেছেন, কৃষ্ণ হলেন শুভানুধ্যায়ী পিতা। তিনি তার অপরিপক সন্তানদের অর্থ দান করেন না। কিন্তু যখন তিনি বুঝতে পারেন যে তার পুত্র পরিপক্ক হয়েছে এবং এবং কীভাবে অর্থ ব্যয় করতে হয় তা বুঝতে পারে, তখন তিনি তাকে সমগ্র কোষাগারটিই দান করতে পারেন। সুদামাকে ভগবান অনেক সম্পদ দান করেছিলেন। সবকিছু প্রাসাদে রূপান্তরিত হওয়ায় তিনি তার পূর্বের গৃহ তিনতে পারেননি। সুদামা এই পরিবর্তনকে ভগবানের কৃপা বলে গ্রহণ করেন। শাস্ত্রজ্ঞ সুদামা বিপ্ৰ এভাবে সিদ্ধান্ত করলেন যে ভগবানের কাছ থেকে যে ঐশ্বর্য বৈভব তিনি পেয়েছেন, তা অসংযতভাবে ইন্দ্ৰিয়তৃপ্তির জন্য যেন ব্যবহৃত না হয়, পক্ষান্তরে ভগবানের সেবায় ব্যবহার করা উচিত। বৈরাগ্যবান হয়ে ও ইন্দ্রিয়ভোগের অনাসক্ত হয়ে ব্রাহ্মণ সেই নবলব্ধ ঐশ্বর্য গ্রহণ করলেন এবং পত্নীসহ সকল এশ্বর্য সম্পদ ও সুযোগ সুবিধাগুলো ভগবানের প্রসাদরূপে গ্রহণ করলেন। তাই আমাদের সুদামা বিপ্রের পদক্ষেপ অনুসরণ করা উচিত। আমরা যা কিছুই পাই টাকা, শক্তি, শিক্ষা, সৌন্দর্য সবকিছুই কৃষ্ণের কৃপা বা দান হিসেবে গ্রহণ করা উচিত এবং তা কৃষ্ণের সেবায় নিয়োজিত করা উচিত। “জড় প্রাচুর্য পতনের কারণ হতে পারে এবং একই সাথে উন্নতিরও কারন হতে পারে। উদ্দেশ্য অনুযায়ী সবকিছু নির্ধারিত হয়।” শ্রীমদ্ভাগবতে (৮/২২/২৮) তাৎপর্যে বর্ণনা করা হয়েছে, দেবোপাসকেরা সাধারণত ধনী হয়, অন্যদিকে বিষ্ণুভক্তরা সাধারণত দরিদ্র হয়ে থাকেন। তার অর্থ এই নয় যে, বৈষ্ণব হলে সবাইকে জড় জাগতিকভাবে গরীব হতে হবে। বলি মহারাজ অত্যন্ত সম্পদশালী ছিলেন তিনি ত্রিলোকের মালিক ছিলেন, কিন্তু তিনি সবকিছু ভগবান বামনদেবকে দান করেছিলেন । পরবর্তে ভগবান বিষ্ণু বলি মহারাজকে সমগ্র জগতের শাসনভার দান করেছিলেন। পরিশেষে তিনি ভগবান ব্রহ্মার কাছে বলেন, “কোনো মানুষ যদি সম্ভ্রান্ত পরিবারে বা উচ্চকুলে জন্ম, অদ্ভুত কর্ম, যৌবন, দেহের সৌন্দর্য, বিদ্যা এবং ঐশ্বর্য বা ধনের গর্বে গর্বিত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে সে ভগবানের বিশেষ কৃপা লাভ করেছেন।

 

নির্ধনীরা কিভাবে ভগবানকে সন্তুষ্ট করবে?

চৈ.চ. আদি ৯/৪৪ নং শ্লোকের তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করেছেন, “মানব সমাজের উপকার সাধনকল্পে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নিজেকে ধন-সম্পদহীন ব্যক্তিরূপে উপস্থান করে দেখিয়ে গেছেন যে, মানব-সমাজের কল্যাণ সাধন করতে হলে মানুষকে ধনী বা প্রভূত ঐশ্বর্যশালী হতে হবে না।… মহাভারতে বর্ণনা করা হয়েছে, কিভাবে শ্রীকৃষ্ণের আহার করার মাধ্যমে দুর্বাসা মুনির ষাট হাজার শিষ্য তৃপ্ত হয়েছিলেন। তাই আমাদের জীবেনর দ্বারা (প্রাণৈঃ) ধন- সম্পদের দ্বারা (অর্থৈ), বুদ্ধির দ্বারা (ধিয়া) অথবা বাক্যের দ্বারা (বাচা) আমরা ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারি এবং তার ফলে স্বাভাবিকভাবে সমস্ত জগৎ সুখী হবে। তাই আমাদের সুখ্য কর্তব্য হচ্ছে আমাদের কর্মের দ্বারা, অর্থের দ্বারা ও বাক্যের দ্বারা পরমেশ্বর ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করা। এটি অত্যন্ত সহজ। এমন কি কারও যদি ধনসম্পদ না থাকে, তাতে কিছু যায় আসে না, কেন না ধনসম্পদ ছাড়াই সকলের কাছে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র প্রচার করা যায়। আমরা যে কোন জায়গায় যেতে পারি, যে কোন বাড়িতে যেতে পারি এবং সকলকে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন করতে অনুরোধ করতে পারি। এভাবেই সমস্ত জগতে সুখ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি। জীব কখনই পরমেশ্বর ভগবানের মতো ভোগ করতে পারে না। সেই সূত্রে একজন ধনী ব্যক্তি এবং একজন গরীব মানুষের দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে তাদের উভয়ের মধ্যেই ভোগ করার প্রবণতা রয়েছে, কিন্তু ধনী ব্যক্তিটির মতো দরিদ্র মানুষটি ভোগ করতে পারে না। কিন্তু দরিদ্র মানুষটি যখন তার ইচ্ছা ধনী ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত করেন এবং যখন তাদের মধ্যে সহযোগিতা হয়, তখন ধনী এবং নির্ধন, অথবা বড় এবং ক্ষুদ্র ব্যক্তি-উভয়েই সমানভাবে ভোগ করেন। ভক্তিযোগ ঠিক সেই রকম পুরুষঃ পুরুষং ব্রজেৎ-জীব যখন ভগবানের ধামে প্রবেশ করেন এবং ভগবানকে আনন্দ দান করে তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেন, তখন তিনিও পরমেশ্বর ভগবানের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা অথবা সমান মাত্রায় উপভোগ করেন। (শ্রীমদ্ভাগবত ৩/২৯/৩৫) শ্রীমদ্ভাগবতের ৩/২৯/৩৫ শ্লোকের তাৎপর্যে প্রভুপাদ লিখেছেন, “জীব কখখনই পরমেশ্বর ভগবানের মতো ভোগ করতে পারে না। সেই সূত্রে একজন ধনী ব্যক্তি এবং একজন গরীব মানুষের দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে তাদের উভয়ের মধ্যেই ভোগ করার প্রবণতা রয়েছে, কিন্তু ধনী ব্যক্তিটির মতো দরিদ্র মানুষটি ভোগ করতে পারে না। কিন্তু দরিদ্র মানুষটি যখন তার ইচ্ছা ধনী ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত করেন এবং যখন তাদের মধ্যে সহযোগিতা হয়, তখন ধনী এবং নির্ধন, অথবা বড় এবং ক্ষুদ্র ব্যক্তি উভয়েই সমানভাবে ভোগ করেন। ভক্তিযোগ ঠিক সেই রকম: পুরুষঃ পুরুষং ব্রজেৎ-জীব যখন ভগবানের ধামে প্রবেশ করেন এবং ভগবানকে আনন্দ দান করে তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেন, তখন তিনিও পরমেশ্বর ভগবানের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা অথবা সমান মাত্রায় উপভোগ করেন।”

কারা ধনী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে?

ভগবদ্‌গীতায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যোগ অনুশীলনে রত ব্যক্তির যদি সিদ্ধি লাভের পূর্বে কোন না কোন কারণে যোগভ্রষ্ট হয়, তা হলে তার পরবর্তী জীবনে তিনি নিশ্চিতরূপে মনুষ্য- জন্ম লাভ করবেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেই প্রকার যোগ ভ্রষ্ট ব্যক্তির অত্যন্ত ধনী অথবা অত্যন্ত পুণ্যবান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে পুনরায় পরমার্থের পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পান। ‘ধনী পরিবার’ বলতে সম্ভ্রান্ত বৈশ্য পরিবার বোঝানো হয়েছে, কারণ সাধারণত যাঁরা ব্যবসা বাণিজ্যে যুক্ত, তাঁরা অত্যন্ত ধনী হন। যে ব্যক্তি আত্ম-উপলব্ধির পন্থায় যুক্ত হয়েছেন অথবা পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়েছেন, তিনি যদি এই জীবনে সিদ্ধি লাভ করতে পারেন, তা হলে এই প্রকার ধনী পরিবারে অথবা পুণ্যবান ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁকে জন্ম গ্রহণ করতে দেওয়া হবে; উভয় ক্ষেত্রেই তিনি তাঁর পরবর্তী জীবনে মনুষ্য-সমাজে জন্ম গ্রহণ করার নিশ্চয়তা লাভ করেছেন। (ভাগবত ৩/৩০/৩৪ তাৎপর্য)

 

কোন ধন সর্বশ্রেষ্ঠ?

প্রতিবেদনের পরিশেষে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সাথে রামানন্দ রায়ের কথোপকথন দিয়েই সমাপ্ত করতে চাই যেটি চৈতন্যচরিতামৃত মধ্য ৮/২৪৭ বর্ণিত হয়েছে, ‘সম্পত্তির মধ্যে জীবের কোন্ সম্পত্তি গণি?’ রাধাকৃষ্ণ প্রেম যাঁর, সেই বড় ধনী ॥’ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন, “জীবের সম্পত্তির মধ্যে কোন্ সম্পত্তি সর্বশ্রেষ্ঠ?” রামানন্দ রায় উত্তর দিলেন, “রাধাকৃষ্ণে যাঁর প্রেম, তিনিই সবচাইতে ধনী ।” তাৎপর্য: জড় জগতে সকলেই তাদের ইন্দ্ৰিয় তৃপ্তি-সাধনের জন্য ধন-সম্পদ আহরণের চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে ধন-সম্পদ আহরণ এবং সেগুলি আগলে রাখার চেষ্টা ছাড়া মানুষ অন্য কোন ব্যাপারেই তেমন আগ্রহী নয়। এই জড় জগতে সাধারণত ধনী ব্যক্তিদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে মনে করা হয়, কিন্তু আমরা যখন জড় জগতের ধনী ব্যক্তির সঙ্গে রাধাকৃষ্ণ- প্রেমধনে ধনী ভক্তের তুলনা করি, তখন দেখি যে, ভগবদ্ভক্তই হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী। হরে কৃষ্ণ।

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।