কম কথা বলার ৮টি উপকারিতা

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২২ | ১:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২২ | ১:২৭ অপরাহ্ণ

এই পোস্টটি 380 বার দেখা হয়েছে

কম কথা বলার ৮টি উপকারিতা

একজন মহান ব্যক্তি বলেছেন যে, একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তখনই বলেন যখন তার কাছে বলার কিছু থাকে। অপরদিকে; একজন মূর্খ ব্যক্তি এজন্যই বলেন কারণ তিনি বলতে চান। কম কথা বলার অর্থ এই নয় যে, আপনি কম ভাবেন অথবা আপনি কম বোঝেন। কম কথা বলার অর্থ এও নয় যে, আপনি পরিশ্রম করতে চান না।
কম কথা বলার ৮টি উপকারিতা:

১. তারা বেশি প্রতিভাবান: যখন আপনি চুপ থেকে বোঝেন তখন সামনের ব্যক্তি তার কথা বলার সুযোগ পায়। এতে সামনের ব্যক্তি ভাবেনা যে, আপনি মূর্খ ব্যক্তি। আপনি শোনেন বলেই তিনি বলতে ভালোবাসে। কারণ এই পৃথিবীতে ভালো শ্রোতার সংখ্যা খুবই কম। যেহেতু আপনি ভালো শ্রোতা তাই সামনের ব্যক্তি মনে করেন যে, আপনি তার কথায় গুরুত্ব দিচ্ছেন।

২. তারা খুব বুদ্ধিমান
তারা একবারেই তাদের সম্পূর্ণ কথাকে বোঝায়। সে ব্যক্তি খুব সংক্ষিপ্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বক্তৃতা রাখতে পারবে। আমাদের ভাবনাগুলো হলো অনেকটা ঘনীভূত এসিডের ন্যায়। আমাদের কথা অনেকটা জলের মতো। আপনি ঘনীভূত এসিডে যতটা জল মেশাবেন তা ততটা পাতলা হবে। যতই আপনি বেশি কথা বলবেন আপনার ভাবনা বোঝা অপর ব্যাক্তির পক্ষে ততই কঠিন হবে। যদি আপনি আপনার মনের কথা কাউকে বোঝাতে চান, তবে যত সম্ভব কম কথা বলার চেষ্টা করুন। কারণ লোকেরা কম কথা বলা লোকদের কথা বেশি শুনতে চান।

৩. তারা অনেক বন্ধুভাবাপন্ন
আপনি হয়ত ভাবছেন কম কথা বলা লোকের সাথে কে বন্ধুত্ব করবে? কিন্তু বাস্তবতা হলো এরাই বেশি সহজলভ্য হয় কারণ তারা কথা শুনতে ও বুঝতে জানে। তারা যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই বলে। তাই সে অন্যকে বিরক্তও করে না এবং সময়ও নষ্ট করে না। তাই তারা বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ।

৪. সফলতার হার বেশি
যারা কম কথা বলে তাদের সহ্য ক্ষমতা বেশি থাকে। তারা ফালতু কথায় সময় নষ্ট করে না। তাই তাদের সময় ব্যবস্থাপনাও সবোর্চ্চ স্তরের। এরা বলার চেয়েও কাজ করে দেখাতে পছন্দ করে। যতটা সে বলে অপচয় করত ততটা সে কাজ করে দেখতে চায়। ফলে তারা কোন ঝামেলায় জড়ায় না।

৫. বিশ্বাসযোগ্য
এদের আরেকটি গুণ হলো এরা অন্যদের চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য। কোন গোপন কথা ততক্ষণই গোপন থাকবে যতক্ষণ এটি মনের মধ্যে থাকে। কম কথা বলা লোকদের গোপনীয়তা খুব বেশি থাকে। তাদের মনে কি চলছে তা জানা সাধারণ লোকের পক্ষে খুব কঠিন কাজ। কারণ তারা কখনোই এমন কথা বলে ফেলে না যাতে তাদের গোপনীয়তা নষ্ট হয়। তারা কখনোই এমন কথা বলে না যাতে তাকে পরবর্তীতে আফসোস করতে হয় এই গুণটি তাদের সবচেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। কারণ তারা ধৈর্য্য সহকারে আপনার কথা শুনবে, সমাধানও খুজঁবে আবার কথাও গোপন রাখবে।

৬. এরা কারো সাথে তর্কে জড়ায় না
এরা নিজেদের আত্মসম্মান সবর্দা বাচিঁয়ে রাখে। কখন আমরা লোকের সাথে তর্কে জড়ায়? যখন আমরা না ভেবে-চিন্তে লোকের সাথে পাগলের প্রলাপের মতো কথা বলতে শুরু করি অথবা না ভেবে-চিন্তে এমন কথা বলে ফেলি যার সুযোগ তারা পরবর্তীতে নিতে শুরু করে। আসলে যখন কোনো ব্যক্তির সাথে আপনার চেনা পরিচিতি বাড়তে শুরু করে তখন এমন হয় যে, আপনি এমন কথা বলে ফেলেন যে, আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধা কমে গেল। কিন্তু যায় কম কথা বলে তারা কখনো কারো সাথে তর্কে জড়ায় না। তাই অন্যরাও তাদের সম্মান দেয়। কারণ তারা না ভেবে কাউকে এমন কথা বলে না যাতে তাদের আত্মসম্মান কমে যায়।
৭. এরা একা থাকতে ভয় করে না
এদের ব্যক্তিত্বে সর্বদা এক ইতিবাচক দিক থকে। এরা মানুষের সাথে বেশি যোগাযোগ করে না। ফলে তাদের যেটুকু অতিরিক্ত সময় থাকে তা সম্পূর্ণ তারা নিজেদের জন্য ব্যয় করে। এরা একা থেকে নিজেদের একাকীত্ব নির্জনতায় রূপান্তর করে নেয়। অর্থাৎ এরা একা থাকার কৌশলে এতটা দক্ষ হয়ে যায় যে আপনি তাদের ১০০০ লোকের মাঝে অথবা একটি নির্জন দ্বীপে ছেড়ে দেন তবে তাদের কোন সমস্যা নেই।

৮. এরা শান্তিপ্রিয়
এদের শত্রুর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। যত কম কথা আপনি বলবেন তত কম প্রতিজ্ঞা আপনি করবেন। তত আপনি তাদের প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গবেন। ফলে আপনি শান্তিতে থাকবেন। এই পৃথিবীতে যত ক্ষতি কম কথা বলে হয়েছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বেশি কথা বলে। মুখ থেকে ভুল করে কোন কথা বেরিয়ে গেলে সামনের ব্যক্তি আপনাকে ছেড়ে কথা বলবে না। এতে আপনার শান্তি নষ্ট হবে। তাই যত কম কথা আপনি বলবেন তত আপনি নিজে শান্তিতে থাকবেন আর অন্যদেরও শান্তিতে রাখবেন।


মাসিক চৈতন্য সন্দেশ জুলাই ২০২২ হতে প্রকাশিত
সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।