ইতালিতে ইস্‌কন কমিউনিকেশানস্ কনফারেন্স

0
434

সোনিয়া চোপড়া: গতমাসে ইতালির ভেনিসের ঠিক অদুরে প্রভুপাদ দেশে ১৭টি দেশের ইস্‌কন কমিউনিকেশনস্ ইউরোপিয়ান (SBS) এর নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিদল সমবেত হন। তাঁরা ইস্‌কনে নারীদের অবস্থান, নিরামিষ আহার, সামাজিক গণমাধ্যমের প্রভাবে চারপাশের পরিবেশের পরিবর্তন এবং ফেসবুক ও ইনষ্ট্রগ্রাম হতে লোকজনের মনোযোগ ফিরিয়ে আনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং একে অপরের মতামত ভাগাভাগি করেন। প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলো হল: যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তৃগাল, ইতালি, স্লোভেনিয়া, জার্মানি, সুইডেন, হাঙ্গেরি, ক্রেচ, লোভাকিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বুলগেরিয়া রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট। বেলজিয়ামের রাধাদেশ । অঞ্চলের একজন নিবেদিত প্রাণনেতা শ্রী মহাপ্রভু দাস যিনি দশ বছরের অধিক সময় ধরে ইউরোপের যোগাযোগ কর্মযজ্ঞের প্রধানরুপে দায়িত পালন করেছেন, তিনি বলেন,“আমি এবছর প্রয় ৫০ জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এ সমাবেশ দেখে আনন্দিত। আমি মনে করি সঠিক পথে এগোনোর জন্য এটিই হবে শীর্ষ পদক্ষেপ। আমাদের এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে, অনেক পথ পাড়ি দিতেহবে। আমি আশা করি আগামী বছর গুলোতে অশংগ্রহনকারীদের সংখ্যা আরো বাড়বে।” তিনি আরো বলেন,“এখনো অনেক মানুষ আমরা কি তা জানেনা, তাদের ইস্‌কন সম্পর্কে কেবল আংশিক ধারনা আছে। যদি আমরা বিশ্বে সত্যিই মতাধর সংগঠন হতে চাই, তাহলে আমাদের অনেক কিছু করতে হবে যাতে আমরা যথার্থ ভাবে আমাদের দর্শনও অবস্থান তুরেল ধরতে পারি।” মস্কো হতে আসা ওলেসিয়া বলেন, “আমি প্রতি বছর এখানে আমি সমমনা ভক্তদের সাথে মিশতে এবং পুনরায় উদ্যম লাভের জন্য আমার ব্যাটারিতে চার্জ দিতে।” ক্রোয়েশিয়া হতে আগত গোবিন্দানন্দ দাস একই অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন , “যখন ভক্তদের মাঝে যোগাযোগ সেবা ও এর সুফল সম্পর্কে সচেতনতা দেখা যায়, তখন মনে হয় আমরা একটা পরিবারেই অবস্থান করছি” নেদারর‌্যন্ডস্ থেকে সরস্বতী দাসী মাতাজী নারীবিষয়ক আলোচনা ও সমগ্র অনুষ্ঠানের সুমহান চেতনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ইস্‌কন যোগাযোগ মন্ত্রী শ্রীপাদ অনুত্তম দাস বলেন, এ যাবৎ কালের সর্বোচ্চ সম্মেলন এটি। ইস্‌কন ইউরোপে উল্লেখযোগ্য একটি গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত হবে শীঘ্রই- এ বিশ্বাসও প্রত্যয় প্রকাশ পেয়েছে এ সম্মেলন। স্পেন হতে আগত পতিত পাবন দাস বলেন, আমি সাথে করে অনুপ্রেরণা ও নতুন ধারনা নিয়ে যাচ্ছি, যা আমি সমমনা ভক্তদের কাছ থেকে পেয়েছি। ২০০৯ সালের মে তে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সম্মেলনটির আয়োজক হিসেবে মনোনীত হওয়ায় স্পেনবাসী হিসেবে ও তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। সম্মেলনে ভক্তরা নারী ও শিশু সুরক্ষা, সমসাময়িক, বিষয়াবলী, ইস্‌কনের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল, নিরামিষ আহারের প্রয়োজনীয়তা ও ইস্‌কন – নামক বৃহৎ পরিবার গঠনের বর্তমান গুরুত্ব নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও মত বিনিময় করেন। সমাপ্তি দিনে সকলে নগর ভ্রমন সংকীতন, গ্রন্থ প্রচার, বনভোজন এবং সুস্বাদু প্রসাদ আস্বাদনের মাধ্যমে দিব্য সুখ অনুভব করেন। আগামীতেও এধারা বজায় থাকবে বলে সকলের বিশ্বাস। হরে কৃষ্ণ!

(মাসিক চৈতন্য জুলাই ২০১৮ সালে প্রকাশিত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here