আমরা কিভাবে সুখী হতে পারি?

প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২০ | ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ | ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

এই পোস্টটি 599 বার দেখা হয়েছে

আমরা কিভাবে সুখী হতে পারি?
শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও আচার্য
এই আলোচনাটি হয়েছিল ১৯৬৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমেরিকার লস্এঞ্জেলেসে জনৈক সাংবাদিকের সাথে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি

সাংবাদিক: আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই আমার নিজস্ব অভিমত আছে, কিন্ত আপনাকে কি জিজ্ঞসা করতে পারি- আপনি কী বলতে পারেন কেন আজকের দিনে কম বয়সী লোকেরা প্রাচ্য ধর্মের প্রতি অধিক মাত্রায় ধাবিত হচ্ছে?
শ্রীল প্রভুপাদ: কারণ আপনাদের জড়জাগতিক জীবন ধারা তাদেরকে আর পরিতৃপ্তি প্রদান করছে না। বিশেষভাবে, আমেরিকাতে আপনাদের পর্যাপ্ত উপভোগের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনাদের পর্যাপ্ত ঘরবাড়ি- সবকিছুই পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। কিন্ত তথাপি আপনাদের মধ্যে রয়েছে বিশৃঙ্খলা এবং অসন্তোষ-  দারিদ্রপীড়িত ভারতবর্ষ অপেক্ষা আপনাদের দেশে তা অধিকতর। কিন্ত ভারতবর্ষে আপনি দেখতে পাবেন, যদিও তারা দারিদ্রপীড়িত, তবুও তাদের পুরাতন পারমার্থিক ধর্মনুশীলন করে চলেছে। সুতরাং সেখানকার জন- সাধারণ এত বিশৃঙ্খলাপরায়ণ নয়। এটাই প্রদর্শন করছে শুধুমাত্র জড়-জাগতিক উন্নতি মানুষকে পরিতৃপ্তি দিতে পারে না। সুতরাং এখন এটা প্রয়োজন জনসাধারণের উচিত পারমার্থিক জীবনধারা গ্রহণ করা। সেটাই তাদেরকে সুুুুুখী করবে। এই সমস্ত লোকগুলি- তারা সব অজ্ঞতার মধ্যে তাদের কোন আশা ভরসা নেই। তারা জানে না কোথাই তারা চলছে, তাদের কোন উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু আপনি যখন পারমার্থিক স্তরে অধিষ্ঠিত তখন আপনি জানেন আপনি কি করছেন এবং কোথায় আপনি যাচ্ছেন। সব কিছু তখন পরিষ্কার।
সাংবাদিক: অন্যান্য কথার মধ্যে, আপনি ভাবছেন যে পাশ্চাত্যের গির্জাতা একটি ইহুদিদের ধর্ম মন্দির অথবা একটি গির্জা অথবা যাই হোক- পারমার্থিক জীবন-ধারাকে উপস্থাপিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আপনি কি বলতে চান যে তাদের শিক্ষা প্রাসঙ্গিক নয়? অথবা এটা কি ঠিক তারা তাদের শিক্ষা যথার্থভাবে উপস্থাপিত করতে ব্যর্থ হয়েছে?
শ্রীল প্রভুপাদ: বাইবেল গ্রহণ করুন। বহুকাল আগে আদিম লোকদের জন্য বাইবেলে বলা হয়েছিল-যারা মরুভূমিতে বসবাস করছিল। এই সমস্ত লোকগুলি খুব একটা উন্নত ছিল না। সুতরাং সে সময়ে, বাইবেলের পূর্বভাগে… সেখানে পর্যাপ্তভাবে বলা হয়েছিল, একজন ভগবান আছেন এবং ভগবান এই জগৎটিকে সৃষ্টি করেছিলেন। সেটা সত্য । কিন্ত এখন লোকেরা বিজ্ঞান সম্মতভাবে উন্নত এবং তারা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা বাইবেলের মধ্যে নেই এবং গির্জাগুলিও তার বেশি কিছু দিতে পারে না। তাই জনগণ সন্তুষ্ট নয়। শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার্থে গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা নিবেদন করেছে যা তাদের অন্তরে অনুভূতি জাগাচ্ছে না।
তা ছাড়া, তথাকথিত ধর্মীয় নেতারা এমন কি ধর্মের বিশেষ মৌলিক নীতিগুলি পালন করছে না দৃষ্টান্ত-স্বরূপ, বাইবেলের আদি খন্ডে দশটি শাস্ত্রীয় নির্দেশ উল্লেখ আছে এবং তার একটি নির্দেশ হচ্ছে, তোমরা হত্যা করবে না। কিন্তু খ্রিস্টান জগতে হত্যাকান্ড অত্যন্ত প্রচলিত। ধর্মীয় নেতারা কসাইখানাগুলিকে অনুমোদন করছে এবং তারা একটি মতবাদ তৈরি করেছে পশুদের দেহে আত্না নেই।
সুতরাং যখন আমরা জিজ্ঞেস করি, কেন আপনারা হত্যা করে পাপকর্ম করছেন? তখন ধর্ম- যাজকেরা এ সম্বন্ধে আলোচনায় গররাজি হয়। তখন প্রত্যেকেই নীরব। তারা ঈশ্বরের এই দশটি নির্দেশই লঙ্ঘন করছে। তা হলে ধর্মের বিধি নিষেধ কোথায় ? সুষ্পষ্টভাবে উল্লিখিত আছে, তোমরা হত্যা করবে না। কেন তারা হত্যাকান্ড চালাচ্ছে? আপনি এর কী উত্তর দিবেন ?
সাংবাদিক: আমি আপনার সাথে তর্ক করছি না। আমি আর আপনার সঙ্গে একমত হতেও পারছি না। আমি সম্পূর্ণরূপে একমত যে এর কোন অর্থ হয় না- তোমরা হত্যা করবে না। তোমরা আমরা সামনে অন্য দেবতাদের পূজা করবে না। প্রতিবেশীর জিনিসের প্রতি লোভী হওয়া উচিত নয়। তোমাদের পিতা এবং তোমাদের মাতাকে তোমরা সম্মান দেবে ঐগুলি হচ্ছে চমৎকার-
শ্রীল প্রভুপাদ: তোমাদের প্রতিবেশীর স্ত্রী প্রতি লোভাতুর হওয়া উচিত নয়- কিন্ত কে এ সব মেনে চলছে?
সাংবাদিক: খুব কম লোকই।
শ্রীল প্রভুপাদ: তা হলে কীভাবে তারা বলতে পারে তারা হয়েছে ধার্মিক? এবং ধর্মহীন মানব সমাজ হচ্ছে পশু সমাজ।
সাংবাদিক: ঠিক আছে, কিন্ত আমি এ সম্বন্ধে আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি। দশটি শাস্ত্রীয় নির্দেশ সমন্বিত মৌলিক জুড়িও- খ্রিস্টান নীতিশাস্ত্রের সঙ্গে আপনার ব্যাখ্যার কী পার্থক্য আছে?
শ্রীল প্রভুপাদ: কোন পার্থক্য নেই। কিন্ত আমার বক্তব্য হচ্ছে কেউই কঠোরভাবে বাইবেলে বর্ণিত দশটি শাস্ত্রীয় বিধান মেনে চলছে না। সুতরাং আমি শুধু বলতে চাইছি, অনুগ্রহ করে ভগবানের হুকুম মেনে চলুন। সেটাই হচ্ছে আমার বক্তব্য।
সাংবাদিক: এবং পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি অথবা ধর্মেও মধ্যে এমন কিছু দেখা যাচ্ছে না যা একটি তরুণ বয়স্ক ব্যক্তিকে শিক্ষা অথবা সাহায্য করছে যাতে তার এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হয়। এ ব্যাপারে আমিও ভাবছি। আমাদের সব কিছু আছে। এখন আপনি আপনার বাণীর মাধ্যমে তরুণ জনগণকে কিছু দিন যাতে তার প্রতি তারা নাছোড়বান্দ মতো লেগে থাকতে পারে। এবং যদি তা পারেন, তবে সেটা কী?

শ্রীল প্রভুপাদ: আমি আমার শিষ্যদেরকে বলি বিবাহ করতে। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে একসাথে থাকা এ সব নোংরামিগুলি আমি অনুমোদন করিনা। তোমাকে অবশ্যই বিবাহ করতে হবে এবং একজন ভদ্রলোকের মতো বসবাস কর।
সাংবাদিক: বেশ, আমি আর একটু ভালভাবে জানতে চাই। যখন একজন চৌদ্দ-পনের-ষোল বছরে পড়বে তখন তার কী হবে?
শ্রীল প্রভুপাদ: তখন আমরা আমাদের ছেলেদেরকে শিক্ষা দিই কীভাবে ব্রহ্মচারী হতে হয়- কীভাবে ব্রহ্মচর্য জীবন-যাপন করতে হয়, কীভাবে তাদের ইন্দ্রিয়গুলিকে সংযত করতে হয়। বৈদিক সংস্কৃতি অনুযায়ী ছেলের বয়স চব্বিশ-পঁচিশ এবং মেয়ের বয়স ষোল-সতের না হলে সাধারণত বিবাহকার্য সম্পন্ন হবে না এবং যেহেতু তারা কৃষ্ণভাবনামৃতের দিব্য আনন্দ অনুভব করছে, তাই তারা শুধুমাত্র যৌন জীবনের প্রতি আগ্রহী নয়। তাই আমরা বলি না, স্ত্রীলোকদের সঙ্গে মেলামেশা করবে না, অথবা, যৌন জীবন বন্ধ কর। কিন্তু আমরা সব কিছু নিয়ন্ত্রিত করি কৃষ্ণভাবনামৃতের উন্নততর নিয়ম নীতির মাধ্যমে। এভাবে সব কিছু ভালভাবে চলতে থাকে।
সাংবাদিক: সুতরাং আপনার শিষ্যরা হয়ত তাদের জিহ্বা অথবা তাদের ঠোঁট কামড়ায় না এবং বলে, আমি তাকে স্পর্শ করি না। এটা কি একটা বিকল্প?
শ্রীল প্রভুপাদ: হ্যাঁ, একটি উন্নতর আস্বাদন। সেটাই হচ্ছে কৃষ্ণভাবনামৃত।

সূত্র: ব্যাক টু গডহেড ( এপ্রিল – জুন) ২০২০ সালে প্রকাশিত।

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ ও ব্যাক টু গডহেড এর ।। গ্রাহক ও এজেন্ট হতে পারেন

প্রয়োজনে : 01820-133161, 01758-878816, 01838-144699

সম্পর্কিত পোস্ট

‘ চৈতন্য সন্দেশ’ হল ইস্‌কন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্বাধিক পঠিত সংবাদপত্র। csbtg.org ‘ মাসিক চৈতন্য সন্দেশ’ এর ওয়েবসাইট।
আমাদের উদ্দেশ্য
■ সকল মানুষকে মোহ থেকে বাস্তবতা, জড় থেকে চিন্ময়তা, অনিত্য থেকে নিত্যতার পার্থক্য নির্ণয়ে সহায়তা করা।
■ জড়বাদের দোষগুলি উন্মুক্ত করা।
■ বৈদিক পদ্ধতিতে পারমার্থিক পথ নির্দেশ করা
■ বৈদিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচার। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।
■ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করা ।
■ সকল জীবকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা স্মরণ করানো ও তাঁর সেবা করতে সহায়তা করা।