আপনি কি মানসিক চাপে ভুগছেন? পর্ব – ২

0
55
মানসিক চাপের সামগ্রীক সমস্যাগুলো সৃষ্টি কিভাবে সফলভাবে রক্ষা পাওয়া যায়। হয় মনের অবচেতন ধ্যান ধারণা বা একটি মন যখন বুদ্ধির দ্বারা অনিয়ন্ত্রিত ভুলবুঝাবুঝির কারণে। ভগবদ্গীতা থেকে হয় তখন একটি বন্যা সবকিছু ধ্বংস করে আমরা শিক্ষা পায় কিভাবে মনের প্রকৃতিকে ফেলার মত অবস্থা হয়। এমন অনেক বোঝা যায় এবং মানসিক চাপ থেকে লোক আছে যারা মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে যার জন্য তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ Stress থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ব্যবহারিক টিপস এখানে তুলে ধরা হল।

১। অপ্রয়োজনীয় আকাঙ্খাগুলোকে ত্যাগ করুন : আপনার মনে বিভিন্ন দাবি, আকাঙ্খা ইত্যাদি রয়েছে এবং আপনি চান আপনার চারপাশের পরিবেশে এসব চাওয়াগুলো পূরণের মাধ্যমেই অতিবাহিত হোক। আমাদের অনেকেই রয়েছে যাদের অবচেতনভাবে বিভিন্ন দাবি রয়েছে যেমন আমরা ভাবি ঃ

● লোকজনের উচিত সবসময় আমাদেরকে ভালোবাসা, আমাদেরকে পছন্দ করা।

● কাউকে আমাদের প্রয়োজন সম্পর্কে বলা ছাড়ায় তারা যেন আমাদের প্রয়োজন সম্পর্কে অভিহিত থাকে     এবং সে প্রয়োজন মেটাতে পারে।
● প্রত্যেক কিছুই যেন আমাদের সফলতা নিয়ে আসে, আমি সবসময় সফলতা চাই কখনো ব্যর্থ হতে চাই     না। আমি সবসময়ই সফল হব।
● আমি কখনো কোন অবস্থায় ভুল করব না বা উচিত নয়।
● প্রত্যেকেরই বলা উচিত যে আমরা সবসময় সঠিক অবস্থানে রয়েছি, আমরা খুব ভালোভাবেই রয়েছি।

১. আপনি অনুভব করেন যে, প্রত্যেকেই যেন আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ এবং অপছন্দের কাছে মাথা নত করে। এ ধরনের অনাকাঙ্খিত আকাঙ্খা আপনার জীবনে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াই। আর এ হতাশা থেকেই মানসিক চাপ বা Stress এর সূচনা হয়। যদি আপনি ভালোবাসা চান তাহলে আপনাকে ভালোবাসা দিতে হবে। যদি আপনি শ্রদ্ধা চান, তাহলে আপনাকে শ্রদ্ধা দিতে হবে, আপনি যদি অন্যের মাঝে গোলাপের সুগন্ধিময় জল ছিটান, তারা হাসবে এবং আপনার মাঝে সে একই ধরনের প্রক্রিয়ার সৃষ্টি করবে। আপনি যদি অন্যের মাঝে নোংরা জল ছুঁড়ে মারেন তাহলে সেও একইভাবে তার জবাব দিবে। জীবন হল একটি আয়না। ভগবানকে ভালবাসার মাধ্যমে আমাদের অনাকাঙ্খিত আখাঙ্খাগুলো প্রশমিত করা উচিত। 1 আমাদের জানা উচিত যে, এ জড় জগতে একমাত্র ভগবান ছাড়া আর কেউ যথাযথ নয়। আমরা আমাদের মনের আকাঙ্খা পূর্নরূপে মেটাতে পারি না, কারণ আমরা পরমেশ্বর ভগবান নয়, অপরপক্ষে আমরা অপরের জন্য শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, দয়া এবং ভালোবাসা বুদ্ধির মাধ্যমে তাদের থেকে আমরা সেগুলো পেতে পারি। আপনি এ ধরণের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখতে পারেন তাদের মধ্যেই যারা পারমার্থিকভাবে তাদের মনকে গড়ে তুলেছেন। তারা অন্যোর অনুভূতির প্রতি খুবই সংবেদনশীল এবং পরমেশ্বর ভগবান তাদের জন্য যা বরাদ্দ করে রেখেছেন তারা সেটুকুতেই সন্তুষ্ট।

২. পরমেশ্বর ভগবানের উপর নির্ভরশীল : পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপর নিজের জীবনকে নির্ভরশীল করে তুলুন আর তার ফলে আপনি একটি সুখ দায়ক জীবন যাপন উপভোগ করতে পারবেন। একটু ভেবে দেখুন সেই সব লোকের কথা যাদের কোন হাত, পা এবং চোখ নেই। আপনার কি সে সমস্যা রয়েছে? তাদের কথা ভাবুন যারা দিনে একবার খেয়ে অতি নিম্নভাবে জীবন যাপন করছে। আরো ভাবুন যারা এতই গরীব যে স্কুলে পর্যন্ত যেতে পারে না, আর তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে একটা ছোট শিশু কি অমানবিক পরিশ্রম করছে। এখন ভগবান কৃপা করে আপনাকে যা দিয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকুন। সে সব মানুষের সাথে নিজেকে তুলনা করুন যারা আপনার চেয়ে অতি নিম্নভাবে জীবন যাপন করছে। পরমেশ্বর ভগবানের উপর নির্ভরশীল হলে আপনার মন সব সময় মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হবে এটা নিশ্চিত।
৩. সফলতার সঠিক সংজ্ঞা : ভগবদ্গীতায় পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ শিক্ষা দিয়েছেন পরমেশ্বরের উপর সব কর্মের ফলাফল সমর্পন করে কিভাবে কর্তব্যকর্ম করা উচিত ভারতীয় কিছু ক্রিকেট প্রেমিক আছেন যারা ভারতীয় খেলোয়াড়দের পূজা করে থাকেন কোন এক বিশেষ খেলার আগে। যদি ভারতীয় দল হেরে যায় তখন ঐ সব ভক্তরা তাদের কুশপুত্তলিকা বানিয়ে পোড়ানোসহ তাদের বাড়িতে হামলা করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। তারা ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়ে মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সফলতা এবং ব্যর্থতা এ জড়জগতে আসবে আর যাবে। আমরা ভগবান নয় যে সব সময়ই জয়ী হব। সফলতার সঠিক সংজ্ঞা আপনার জীবনের অপ্রয়োজনীয় হতাশা, দুঃখ, উদ্বিগ্নতা, মানসিক চাপ ইত্যাদি নিরসন করবে। সফলতার সঠিক সংজ্ঞা হল পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণকে অনুসন্ধানের পর অবশেষে লাভ করা। প্রতি বছর হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার দৌড় প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করে। আমরা যদি ব্যর্থ দেখা যায় তারা তাদের জীবন সম্পর্কে প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছে। এখানে প্রশ্ন হল এ জড়জাগতিক সফলতার মূল্যই কি ? যখন আমাদের মৃত্যু হয় তখন আমাদের সব ডিগ্রি, কম্পিউটার, বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন, ব্যাংক ব্যালেন্স, বন্ধু-বান্ধব সব রয়ে যায়। তাহলে কেন আমরা আমাদের না পাওয়ার বিষয় নিয়ে হতাশায় আর মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাবো। তাই আমরা সবাইকে কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানাই দয়া করে এ কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করুন আপনার জীবন সফল হবে এবং জড়জগতিক তথাকথিত এ Stress বা মানসিক চাপ তখন আর আপনাকে আক্রান্ত করবে না। “এ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও আচার্য্য শ্রীল প্রভুপাদ বলতেন” “Please Join in Krishna Consciousness, Your life will be success”

চৈতন্য সন্দেশ জুন ২০০৮ প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here