আধুনিক বিজ্ঞান : সাহায্য করছে না ক্ষতি করছে?

0
33

ডঃ পৌডম সিং ও কয়েকজন শিষ্যের সাথে এই আলোচনাটি হয়েছিল  লস্ এঞ্জেলেসের শোভিয়ট হিলস্ পার্কে ১৯৭৩ সালের ১৫মে

ড. সিঃ: বৈজ্ঞানিকেরা বুঝতে পারছে যে, আত্মাকে দেখতে পাওয়া কঠিন। তারা বলে যে, আত্মার অস্তিত্ব সন্দেহজনক।
শ্রীল প্রভুপাদ : তারা কেমন করে আত্মাকে দেখবে? তা এত ক্ষুদ্র যে তাকে দেখা যায় না। তাকে দেখবার মতো শক্তি কার আছে ?
ডঃ সিঃ কিন্তু তবুও কোন না কোন ভাবে তারা তাকে উপলব্ধি করতে চায় ।
শ্রীল প্রভুপাদ : তুমি যদি কোন উগ্র বিষের এক কণার একশত ভাগের এক ভাগ কারও শরীরে ইনজেকশন কর, তা হলে সে তৎক্ষণাৎ মারা যায়। সেই বিষয়টি কেউ দেখতে পায় না অথবা কিভাবে তার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে তা বুঝতে পারে না, কিন্তু তবুও তা ক্রিয়া করছে। তেমনই, বৈজ্ঞানিকেরা আত্মার কার্যকলাপের মাধ্যমে কেন আত্মাকে দর্শন করে না? এখানে তার কার্যকলাপের মাধ্যমে তাকে দর্শন করতে হবে। বেদে বলা হয়েছে যে, এই অতি ক্ষুদ্র আত্মার অস্তিত্বের প্রভাবেই সমস্ত শরীর এত সুন্দরভাবে কাজ করছে। কেউ যদি আমাকে চিমটি কাটে, আমি তৎক্ষণাৎ তা অনুভব করতে পারি; কেননা সমস্ত শরীর জুড়ে আমার চেতনা রয়েছে। কিন্তু যে মুহুর্তে আত্মা শরীরটি ছেড়ে চলে যায়, বাস্তবিক পক্ষে আমার মৃত্যুর সময় যা হয়, তখন তুমি শরীরটাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলতে পার, কিন্তু তখন আর আমি তার কোন প্রতিবাদ করব না । এই সহজ বিষয়টি বুঝতে অসুবিধাটা কোথায়? এভাবে কি আত্মার অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায় না?
ড. সিংঃ এইভাবে আমরা হয়ত আত্মার অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারি, কিন্তু ভগবানের অস্তিত্ব কিভাবে অনুভব করা যায় ?
শ্রীল প্রভুপাদ : প্রথমে আত্মাকে জানা যাক। আত্মা হচ্ছে ভগবানের একটি নমুনা। তুমি যদি নমুনাটিকে বুঝতে পার, তা হলে তুমি পূর্ণ  বস্তুটিকেও বুঝতে পারবে।
ড. সিং : বৈজ্ঞানিকেরা জীবন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
শ্রীল প্রভুপাদ : “চেষ্টা করছে!”“তৈরি করল বলে!” ঐ সমস্ত অজুহাতগুলি আমরা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করি; ওসব আমরা স্বীকার করি না। একটা ভিখারী যদি বলে, “আমি কোটিপতি হওয়ার চেষ্টা করছি”, । তখন আমরা বলব, “যখন তুমি কোটিপতি হবে, তখন কথা বলো। এখন তুমি একজন ভিখারী; সেটাই তোমার পরিচয়।” বৈজ্ঞানিকেরা বলে যে, তারা চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করি, “তুমি কি? তুমি কি তখন বলবে, “আমি চেষ্টা করছি—-?” তুমি এখন কি, সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। “আমরা চেষ্টা করছি”; সেটা যথাযথ উত্তর নয় । সুতরাং বৈজ্ঞানিকদের এইসব বিবৃতির কোন ভিত্তি নেই ।
ড. সিংঃ যদিও এখনও পর্যন্ত তারা জীবন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি, তবুও তারা বলে যে, শীঘ্রই তারা তা করবে। শ্রীল প্রভুপাদ : অতীতে মানুষ মারা যেত এবং এখনও মানুষ মারা যাচ্ছে। তা হলে বৈজ্ঞানিকেরা তা নিয়ে কি করছে ?
ড. সিংঃ সাহায্য করেছে।
শ্রীল প্রভুপাদঃ বৈজ্ঞানিকেরা  তাদের আয়ুক্ষয় করতে সাহায্য করেছে। আগে মানুষ একশত বছর বাঁচত; এখন তারা বড় জোর ষাট কি সত্তর বছর বাঁচে। এখন আণবিক শক্তি আবিষ্কার | করেছে; এখন তারা কোটি কোটি মানুষকে নিমেষের মধ্যে মেরে ফেলতে পারে । সুতরাং তারা কেবল মরতে সাহায্য করেছে, তারা বেঁচে থাকতে সাহায্য করেনি। তবুও তারা ঘোষণা করছে যে, তারা জীবন সৃষ্টি করবে।
ড. সিংঃ কিন্তু তারা এরোপ্লেন আবিষ্কার করেছে এবং………..
শ্রীল প্রভুপাদ : বৈজ্ঞানিকেরা মৃত্যুকে রোধ করতে পারে না; তারা জন্ম, ব্যাধি এবং জরাকেও রোধ করতে পারে না। সুতরাং তারা কি করেছে? পূর্বেও মানুষ জরাগ্রস্ত হত, এখনও মানুষ জরাগ্রস্ত হচ্ছে। পূর্বে মানুষ রোগাক্রান্ত হত, এখনও মানুষ রোগাক্রান্ত হচ্ছে। এখন অনেক ওষুধ সৃষ্টি হয়েছে– এবং রোগও বেড়েছে। সুতরাং তাদের কৃতিত্ব কোথায়? পৃথিবীর অবস্থার পরিবর্তনে বৈজ্ঞানিকেরা কোন রকম সাহায্য করেনি। যে সমস্ত মূর্খ বৈজ্ঞানিক বলে যে, জড়ের থেকে জীবনের উদ্ভব হয়েছে, তাদের আমরা চ্যালেঞ্জ করি। আসল সত্য হচ্ছে যে, জীবনের উদ্ভব হয়েছে জীবন থেকেই । হরে কৃষ্ণ!

মাসিক চৈতন্য সন্দেশ জানুয়ারি ২০০৯ হতে প্রকাশিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here