আত্মবিশ্বাস

0
180

পরমেশ্বরের মহিমা ও কৃপাশক্তির উপর আস্থা রাখার চেয়ে, বৃহত্তর কোনাে আত্মবিশ্বাস আর নেই।

-শ্রীমৎ রাধানাথ স্বামী

এটি সবারই জানা যে, আত্মবিশ্বাস হল জীবনের সফলতার পথে একটি প্রয়ােজনীয় উপাদান। আত্মবিশ্বাস ছাড়া আমরা ঝুঁকি নিতে ভয় পাই এবং এই বিশ্বজগতে আমাদের কর্ম সম্পাদনের সময় উচ্চতর দিগন্তের অনুসন্ধানে উৎসাহ পাই না। প্রকৃত আত্মবিশ্বাস এই বিশ্বজগতে আমাদের অর্জন বা সফলতার ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। পক্ষান্তরে আমরা কে? আমাদের উদ্দেশ্য কি? এবং নিজেদেরকে অন্যের সম্মুখে, পরিবারের সম্মুখে এবং সর্বোপরি আমাদের চারপাশের বিশ্বজগতের সম্মুখে কিভাবে তুলে ধরি, এসব বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যদি একজন ব্যক্তির এ প্রকার আত্মবিশ্বাস থাকে, তখন তিনি অন্যদের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি করতে পারেন ।প্রকৃতপক্ষে ব্যর্থ হলেও সেরকম হারানাের কিছু নেই, কিন্তু কারাে চরিত্র এবং সততা হারিয়ে গেলে, তবে তার জীবনে প্রধান অভ্যন্তরীণ শক্তি হারিয়ে যায়। একজন ব্যক্তি, যার যথাযথ মনােভাব রয়েছে, তিনি বিশ্বজগতের সমস্ত ব্যর্থতা গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকেন। আর এটি তিনি এজন্যই করে থাকেন, কেননা তিনি যে উচ্চ মূল্যবােধে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, তা যেন সংরক্ষিত থাকে। যদি আমরা আদর্শ, নৈতিকতা, চরিত্র, সততা এবং আত্মাকে এ জড়জগতের জন্য বিক্রি করে দিই, তবে আমাদের তথাকথিত আত্মবিশ্বাস বেড়ে উঠবে শুধুই অস্থায়ী বালির কাঠামাের মত। এর কোনাে প্রকৃত অস্তিত্ব নেই এবং এটি কোনাে প্রকৃত পরিপূর্ণতা নিয়ে আসতে পারে না।

নিম্ন আত্মসম্মানবােধের কারণ

নিম্ন আত্মসম্মান হল এ জগতের অন্যতম সবচেয়ে বড় সমস্যা। আর এ সমস্যা শুধু যে নিম্নস্তরের লােকেদের জন্যই নয় বরং যারা উচ্চ পদে রয়েছেন। তাদের জন্যও এটি একটি বড় সমস্যা। নিম্ন আত্মসম্মান বলতে এখানে বােঝানাে হচ্ছে কারাে নিজের মধ্যেই প্রকৃত সন্তুষ্টির অভাব এ ধরনের ব্যক্তিরা গালগল্প করতে পছন্দ করে। কেননা এটাই তাদের আনন্দ দান করে। অপরপক্ষে যারা আত্মবিশ্বাসী তারা জীবনে আদর্শের কথা বলে এবং অন্যের দোষ সম্পর্কে আলােচনা করে না।

যার নিম্ন আত্মসম্মানবােধ রয়েছে, সে অন্যের সমালােচনা করে। পক্ষান্তরে যাদের মধ্যে পরিপূর্ণতা বা আত্মবিশ্বাস রয়েছে তারা স্বাভাবিকভাবে অপরকে সম্মান বা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে, সে সাথে অন্যের প্রতি যত্নশীলও হয় । নিম্ন আত্ম-সম্মানধারী ব্যক্তিরা অহংকারী হয়। সে ভাবে, “আমি এটি করেছি, আমি এই দেশগুলো জয় করেছি, আমি লক্ষ লক্ষ অর্থ আয় করেছি, আমি এই টুর্নামেন্টগুলাে জয় করেছি” এবং আরাে কত কি! এ ধরনের ব্যক্তিরা অন্যদের দেখায় যে, তারা কত মহান, তারা কত সফল এবং এ বিশ্বে তারা কত কিছুই না পেয়েছে। যা হােক, একজন প্রকৃত আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি বিনয়ী হয়। কেননা সস্তা বাহবার জন্য তার অন্যদের প্রভাবিত করার প্রয়ােজন পড়ে না।

একবার হিমালয়ের এক সাধু আমাকে বলেছিলেন, যখন আপনি কোনাে ভাল কিছু করেন এবং সে সম্পর্কে অন্যদের বলতে শুরু করেন, তখন ঐ সমস্ত কিছু বলার মাধ্যমে সুনামের অনেকাংশেই আপনি হারিয়ে ফেলেন। বর্তমান বিশ্বে, আমরা কর্মের জন্য সুনাম প্রত্যাশা করি এবং এজন্যে অন্যদেরকেও দোষারােপ করি। এটি নিম্ন আত্মসম্মানধারী ব্যক্তির আরেকটি বৈশিষ্ট্য। তিনি অজুহাত খোঁজেন, অন্যদের দোষ খোঁজেন। পক্ষান্তরে, একজন আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি অজুহাত খোঁজেন না, অন্যদের দোষও দেন না এবং তিনি কি করেছেন বা করেননি তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সে সাথে উন্নতির প্রচেষ্টা করেন। তারা সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন এবং সেটি অন্যের অপ্রিয় হলেও। বিশেষত বর্তমান বিশ্বের যুবকদের ক্ষেত্রে বলা যায় তারা সঙ্গ প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে, গড্ডালিকা স্রোতের প্রবাহে গা ভাসিয়ে ধূমপান, মদ্যপান, অবৈধ সঙ্গ ইত্যাদির প্রতি ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু সত্য বলতে আমরা বুঝি, কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল। সঠিক কাজটির জন্য যদি আমাদেরকে লােকেরা সমালােচনা, হাসি ঠাট্টাও করে তবুও নিজের অবস্থান থেকে চ্যুত হওয়া যাবে না।

শৈশবের প্রভাব

আত্মসম্মানের ব্যাপারটির সঙ্গে যে সমস্ত সমস্যা জড়িত তার অন্যতম কারণ হল শৈশবে আমাদের সাথে কিরুপ আচরণ করা হয় তার উপর। যদি মা-বাবা সর্বদা সন্তানের সমালােচনা করেন, কটুক্তি করেন এবং যথেষ্ট যত্ন ও উৎসাহ কোনটিই প্রদান না করেন, তবে সে সন্তান নিজেকে গুরুত্বহীন বলে অনুভব করে। সে ভাবে তার কোনাে মূল্যই নেই। মা বাবাদের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হল তাদের সন্তান যদি ভুলও করে, তবুও তাদের প্রতি ভালােবাসা প্রদর্শন করা। স্নেহ ভালবাসার মধ্য দিয়ে তাদের শৃঙ্খলতা শিক্ষা দেওয়া উচিত। তাদের উৎসাহমূলক কথা বলুন, তখন তারা মূল্যবােধ অর্জন করবে। কিভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং কোনাে কিছুর জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে না হয় এসব বিষয় শিক্ষা দেওয়া উচিত।

আস্থা, এতই গুরুত্বপূর্ণ যে যখন ভগবানের শক্তির উপর আমাদের বিশ্বাস থাকে, আমরা তখন পূর্ণ আত্মবিশ্বাস, উৎসাহ এবং অধ্যবসায় নিয়ে অসাধ্যকে সাধন করতে পারি এবং এমনকি যদি আমরা লক্ষ লক্ষ বারও ব্যর্থ হই, তা কোনাে বিষয় নয়। কেননা আমরা জানি আমাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করছি।

প্রাচীন বৈদিক শাস্ত্রে, ধ্রুব নামে পাঁচ বছরের এক বালকের একটি সুন্দর কাহিনী রয়েছে। তার পিতা রাজা ছিলেন এবং একদিন ধ্রুব পিতার কোলে উঠতে চাইলে, তার সৎ মা খুব ভরৎসনা করেন।ফলে ধ্রুব এর প্রতিশােধ নিতে চাইলে তার মাকে বলেন, “আমি আমার পিতার রাজ্যের চেয়েও অনেক বৃহৎ রাজ্য চাই।” তার মা খুব সরল, নিষ্পাপ, শুদ্ধ হৃদয়ের নারী ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি শুনেছি যে, মহান মহান সাধুরা তাদের অভিষ্ট সিদ্ধি অর্জন করেন পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনার মাধ্যমে।”

ধ্রুব ভগবানকে দর্শনের উদ্দেশ্যে বনে গিয়ে কঠোর তপস্যা এবং ভগবানের পবিত্র নাম জপ করার ব্রত গ্রহণ করেন। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে সে শুদ্ধতার স্তরে অধিষ্ঠিত হয়ে, ভগবানকে তার সম্মুখে দর্শন করেন এবং তার সাথে কথা বলেন। একসময় ভগবান তার পিতার চেয়েও বৃহৎ রাজ্য দিতে চাইলে, ধ্রুব বলেন, “এখন আমি ঐসব কিছুই চাই না। আপনাকে দর্শন করে আমি নিজের মধ্যে পরিপূর্ণতা অনুভব করছি। আমি প্রকৃত আত্মবিশ্বাস অনুভব করছি। আমি শুধুমাত্র আপনার নীতি-আদর্শের মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করতে চাই। আমি এতদিন নাম, যশ, শক্তি, সম্পদ এবং এই বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ রুপ কিছু ভাঙ্গা কাচের টুকরাের অনুসন্ধান করছিলাম মাত্র। কিন্তু এখন আমি আপনাকে দর্শন করে, আপনার সেবা করার মাধ্যমে শান্তি, সন্তুষ্টি এবং প্রেমরূপ বিরল রত্ন পেয়ে গেছি। আমি আর কোন কিছুই চাই না।” অন্যরা কি ভাববে তিনি তার চিন্তা করেননি। তিনি সত্য, সুগঠিত চরিত্র এবং সততার মধ্য দিয়ে জীবন যাপনকেই শুধুমাত্র বিবেচনা করেছিলেন ।

বিশ্বাসের ভূমিকা

ভগবদ্গীতা থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, আমাদের কর্মফলের প্রতি আসক্ত হওয়া উচিত নয়। সফলতা বা ব্যর্থতা, সম্মান বা অসম্মান, বিজয় বা পরাজয় ইত্যাদি আসলেও অবিচল থাকতে হবে। যদি কর্মের ফলাফলের প্রতি অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়ি এবং ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে পড়ি তবে আমরা প্রকৃতপক্ষে সফল হতে পারি না।

আমেরিকার উইলমা রুডল্ফ নামে এক মহিলার একটি বিখ্যাত গল্প রয়েছে। ছােটবেলায় তার পায়ে একটি মারাত্মক আঘাত লাগে, যেটি ঔষধের মাধ্যমে উপশম করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা তাকে বলল, “সারা জীবনের জন্য তিনি মেঝেতে পা রাখতে পারবেন না। এমনকি একটি পদক্ষেপও ফেলা সম্ভব হবে না। মৃত্যু পর্যন্ত হুইল চেয়ারেই তাকে কাটাতে হবে।”

তিনি খুব ছােট ছিলেন, তবুও তিনি তার মাকে বলেছিলেন, “আমি এই পা নিয়ে দৌড়াতে চাই এবং পৃথিবীর দ্রুততম নারী হতে চাই।” ডাক্তারদের তথ্য মতে তার কোন আশাই নেই। কিন্তু তার মা তাকে বলল “ভগবানের কাছ থেকেই সকল সামর্থ্য আসে। শুধু অধ্যবসায়ী হও এবং বিশ্বাস রাখ। কখনাে নিরুৎসাহিত হবে না।” কয়েক বছরের মধ্যেই রুডলফ তার পায়ের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত মেডিকেল উপকরণগুলাে খুলে ফেলে, প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করেন। শীঘ্রই স্কুলে যাওয়া শুরু করেন প্রথম দৌড় প্রতিযােগিতায় অংশগ্রহণ করে হেরে যান। সবার শেষে তার অবস্থান হয়। সবাই তাকে উপহাস করতে লাগল, “তুমি কি করছ এই দৌড় প্রতিযােগিতায়?” পরে আরেকটি দৌড় প্রতিযােগিতা এবং এবারও শেষ স্থান।প্রতিবারই শেষ অবস্থানে, কিন্তু তাতে তিনি দমে যাননি। তার ছিল অগাধ বিশ্বাস। “যদি ভগবান সাহায্য করেন, তবে আমি বড় কাজগুলো সহজেই করতে পারব।”

কিছু বছর পর যা ঘটল সেটা বিশ্বের জন্য একটি অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত। ১৯৬০ সালে অলিম্পিকে তিনি দৌড় প্রতিযােগিতায় অংশগ্রহণ করে তিনটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন সে সাথে করেন বিশ্বরেকর্ড! অতএব, তার আত্মবিশ্বাস সফলতা বা অর্জনের উপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে ছিল না বরং তার আত্মবিশ্বাস ছিল ভগবানের উপর নির্ভরশীলতা এবং নিজের প্রতি ছিল আস্থা। হারি বা জিতি হবে একটা, কিন্তু আমি প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি।

আস্থা, এতই গুরুত্বপূর্ণ যে যখন ভগবানের শক্তির উপর আমাদের বিশ্বাস থাকে, আমরা তখন পূর্ণ আত্মবিশ্বাস, উৎসাহ এবং অধ্যবসায় নিয়ে অসাধ্যকে সাধন করতে পারি এবং এমনকি যদি আমরা লক্ষ লক্ষ বারও ব্যর্থ হই, তা কোন বিষয় নয়, কেননা আমরা জানি আমরা আমাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করছি।

উৎসাহ এবং ধৈর্য সহকারে প্রচেষ্টা

চীনে এক প্রকার বাঁশ রয়েছে যার বেড়ে উঠার জন্য জল সিঞ্চন করতে হয়। যখন আপনি এর বীজ রােপন করবেন তখন ৩৬৫ দিন সুন্দরভাবে জল দিলেও মাটি থেকে চারা গজায় না। এভাবে ঐ বীজ বপন স্থানে জল দিতেই হবে নিয়মিত পাঁচ বছর এবং অবিশ্বাস্যভাবে ঐ পঞ্চম বছরেই ৬ সপ্তাহের মধ্যেই এটি বেড়ে দাড়ায় ৯০ ফুট!

তাই বিশ্বাসের আরেকটি লক্ষণ হল, সহনশীলতা। প্রকৃতপক্ষে উৎসাহ এবং ধৈর্য এ দুটির মধ্যে একটি সম্মিলিতভাব রয়েছে। যদি আপনার উৎসাহ না থাকে, কিংবা শুধু বিশ্বাস থাকে আবার উৎসাহ আছে কিন্তু বিশ্বাস নেই এক্ষেত্রে কোন ফলাফল আপনি আশা করতে পারেন না।

পাণ্ডবরা কৃষ্ণের উপর আস্থাশীল ছিল। যদিও তারা ১২টি বছর বনবাসে ছিলেন। এমনকি সব কিছু হারানাের পরও, কি হবে তা পূর্ব থেকেই সংরক্ষিত রয়েছে। এই ভাবনায় তারা সর্বদা কৃষ্ণের উপর আস্থা রাখত। একসময় উপযুক্ত সময় আসলে তারা কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করে রাজত্ব লাভ করে। এই হল উৎসাহ এবং ধৈর্যের অনন্য উদাহরণ। পরমেশ্বরের কৃপা এবং শক্তির উপর আস্থা রাখার চেয়ে আর কোন বৃহত্তর আত্মবিশ্বাস নেই।

কৃষ্ণ ভগবদগীতায় বলেন, “হে পার্থ, আমাকে সর্বভূতের সনাতন কারণ বলে জানবে। আমি বুদ্ধিমানের বুদ্ধি এবং তেজস্বীদের তেজ।” (৭/১০) আমরা শুধু তার খেলনার পুতুল হতে পারি, এই আশাই হল আমাদের জীবনের পূর্ণতা। যারা পরিচিতি চান না। ভগবান তাদের সর্বোচ্চ পরিচিতি দেন। এটিই পারমার্থিক যুক্তি। যদি আপনি বিখ্যাত এবং মহান হতে চান, ভগবান আপনাকে বিখ্যাত এবং মহান করবেন ঠিকই, কিন্তু তখন তিনি আপনাকে পদস্খলিত করবেন। যা হোক, যদি আপনি আন্তরিকতার সাথে ভগবানের সেবা করতে অভিলাষী হন, ভগবান আপনাকে চিরদিনের জন্য মহান ও বিখ্যাত করবেন। শুধু আপনাকে একনিষ্ঠ হতে হবে।

আমার গুরুদেব শ্রীল প্রভুপাদ পাশ্চাত্য জগতে এসেছিলেন মাত্র সাত ডলার নিয়ে। দীর্ঘ এক মাস কার্গো জাহাজে চড়ে তিনি এসেছিলেন। সেসময় তার বয়স ছিল ৭০ বছর। কয়েকবার হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল। পাশ্চাত্যে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারে এসে তিনি প্রথম এক বছর কোনাে সফলতা পাননি। যেটাই তিনি করেছেন সব কোনাে না কোনােভাবে ভেস্তে গেছে। এমন একটি ছােট ফ্ল্যাটে তিনি বাস করতেন যেখানে উন্মাদ ব্যক্তি ছিল এবং তাকে সেখানে থেকে বিতাড়িত হতে হল। তার টাইপ রাইটার এবং গ্রন্থ ও লিখিত প্রবন্ধ সব চুরি হয়ে গেল । চরম দারিদ্রতার মধ্য দিয়ে তার জীবন অতিবাহিত হচ্ছিল।

ভারতে রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, অন্যান্য সাধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের এবং ধার্মিক ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তিনি চিঠি লিখতেন। প্রত্যেকেই একই কথা বলছিল, “এটা অসম্ভব, ওখান থেকে ফিরে এসাে”। কারাে কাছ থেকেই তিনি উৎসাহ পাননি। কি কঠিন পরিস্থিতি ছিল তখন। কিন্তু তবুও অসম্ভব মিশনটিকে স্বার্থক করার উদ্দেশ্যে তার ছিল সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস। কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, ‘তুমি জয়ী হও বা পরাজয় হও তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যেটি গুরুত্বপূর্ণ তা হল সঠিক মনােভাব নিয়ে কর্তব্য সম্পাদন করা।’ প্রভুপাদ গীতার বাণীর উপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং শীঘ্রই তিনি সারাবিশ্বে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনকে প্রসার করেছিলেন। একইভাবে প্রহাদ মহারাজও এরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

 

অতএব আত্মবিশ্বাস মানে অহংকারী হওয়া নয়। প্রকৃত আত্মবিশ্বাস হল হৃদয়ে অবস্থিত সরলতা, সততা, একনিষ্ঠতা এবং বিনম্রতার প্রকৃতরূপ। সর্বোপরি, পরমেশ্বরের শক্তির উপর পূর্ণ বিশ্বাস, যেটি আমাদেরকে উন্নীত করবে চিনায় প্রেমের এক শাশ্বত মুক্ত স্তরে এবং নিয়ে আসবে মহিমাময় সফলতা। এ হল প্রকৃত আত্মবিশ্বাসের কৌশল ।

 

জানুয়ারি-মার্চ ২০১৩ সালে প্রকাশিত ।। ১ম বর্ষ ।। সংখ্যা ১।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here