আগামী ১৭মার্চ রবিবার আমলকী একাদশী ব্রত

0
994

আগামী ১৭/৩/১৯ ইংরেজি রোজ রবিবার আমলকী একাদশী ব্রত  পারন পরদিন ভোর ৫:৫৯মিনিট হতে ১০:০০ পর্যন্ত

আমলকী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য
ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে মান্ধাতা-বশিষ্ঠ সংবাদে
ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষীয়া একাদশী মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। মহারাজ মান্ধাতা একদা মহামুনি বশিষ্ঠকে বললেন, ”হে মুনিবর! আপনি যদি আমার প্রতি প্রসন্ন হন, তবে কৃপাপূর্বক বলুন, কোন ব্রতাচরনে অতি সুলভে প্রকৃত মঙ্গল হয়।“

বশিষ্ঠ মুনি বললেন, “হে রাজন! রহস্য ও ইতিহাস সহ এক শ্রেষ্ঠ ব্রত মহিমা তোমাকে বলব, যার দ্বারা শুভফল পাওয়া যায়।

হে রাজন! এই ব্রতের নাম আমলকী ব্রত।এই ব্রত ঘোরতর পাপেরও বিনাশক এবং মোক্ষ তথা এক সহস্র গো দানের পূন্য ফল প্রদায়িনী।

পুরাকালে চারবর্ণস্থ সকল শ্রেনীর মানবের স্বাস্থ্যকর ‘বৈদিশ’ নামক এক সুরম্য নগর ছিল।সেই রাজ্যে বেদধ্বনি নিরত শোনা যেত। চন্দ্র বংশীয় রাজা পাশবিন্দুকের বংশধর চিত্ররথ নামক মহাধার্মিক ও সত্যাগ্রহী নৃপতি জন্মগ্রহন

করেছিলেন। সেই রাজা শৌর্য- বীর্য, ঐশ্বর্যশালী ও শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত ছিলেন। রাজাররাজত্বকালে রাজ্যে কোনরূপ অমঙ্গলকর ঘটনা-চুরি, ডাকাতি কিছুই হত না। প্রজাগণ সকলেই বিষ্ণুভক্তি পরায়ন ছিলেন এবং একাদশী ব্রত পালন করতেন।

বৎসরান্তে ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষীয়া দ্বাদশীযুক্ত আমলকী একাদশী ব্রত উপস্থিত হলে, সেই একাদশী মহাফল

প্রদায়িনী জেনে রাজা প্রজাদের (আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা) বললেন, আজ আমলকী একাদশী। প্রাত স্নানান্তে ভগবদ সমীপে স্তব-

স্তুতি-প্রণতি ও ধূপ-দীপ-চন্দন- মাল্য ও নৈবেদ্যাদি দ্বারা পূজার্চনাপূর্বক অনাহারে সাধুসজ্জন পরিবেষ্ঠিত ভগবদকথা প্রসঙ্গে ও রাত্রে জাগরণ করতে বলেছিলেন।

উক্ত সংকল্প অনুসারে রাজা প্রাতস্নান সমাপনান্তে সকল প্রজা সহ নদীতটস্থিত ভগবান বিষ্ণু মন্দিরে উপস্থিত হলেন এবং মন্দির প্রাঙ্গন সুবাসিত

জলপূর্ণ কলস, ছত্র, বস্ত্র পাদুকা, পঞ্চরত্নাদি দ্বারা সুসজ্জিত করলেন। তারপর মুনিগণসহ

দীপমালা সংযুক্ত শ্রীপরশুরাম সমন্বিত আমলকীর পূজা করলেন। প্রজাদের নিয়ে বিষ্ণুমন্দিরে হরিকীর্তনে ব্যস্ত থাকায় ঐ রাতে হঠাৎ এক ব্যাধ সেই মন্দিরে এসে উপস্থিত হল।

এই ব্যাধ প্রতিদিন বহু জীবহত্যা করত।সেইদিন কোন জীব জন্তু হত্যা করতে পারেনি, কিন্তু এই পরিবেশ দেখ ঐ ব্যাধ চিন্তা করছে “এরা সকলে কেন এখানে জেগে আছে? এর কারণ কি?” সেই ব্যাধ মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত

ভগবানকে দেখল, সারারাত ভক্তসঙ্গে জাগরণ করে কৃষ্ণকথা শুনলো। ঘুম ও খাওয়া তার আর হল না। প্রাতকালে রাজা ও তাঁর প্রজাগণ

রাজ্যাভিমুখে গমন করলেন, ব্যাধও নিজগৃহে ফিরে এল। বহুবছর পর ব্যাধের মৃত্যু হল। একাদশী ব্রত পালন, ভগবদ মন্দিরে রাত্র জাগরণ ও ভগবদ কথা শ্রবণের ফলে পরবর্তী জন্মে অশ্ব-গজ-রথ ও পদাতিক সৈন্যযুক্ত জয়ন্তী নগরে বিদুরথ রাজার পুত্র ‘বসুরথ’ নামে সেই ব্যাধ জন্মগ্রহন করেন। বহু সদগুণে পরিপূর্ন রাজা বসুরথ শান্ত, ক্ষমাশীল, ধৈর্যশীল, সত্যনিষ্ঠ ও বিষ্ণুভক্তিপরায়ন ছিলেন।

এই ধর্মপরায়ন সদগুন সম্পন্ন রাজা একদা মৃগয়া করতে গিয়ে বনের মধ্যে এক তৃণগুল্মমণ্ডিত কূপের মধ্যে পড়ে যায়। ক্ষুধায় পীড়িত রাজা বাহুর উপর

মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। এমন সময় ম্লেচ্ছরাজ তাকে আক্রমন করে, নানা অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা তাকে প্রহার করছে আর বলছে “ এই দুষ্ট রাজা আমার বাবা, ঠাকুরদাদা ও অন্যান্য বংশধরদের বধ করেছে, আজ ওকে শেষ করবোই।” কিন্তু

আশ্চর্যের বিষয় রাজার অঙ্গে কোনরূপ অস্ত্রের আঘাত লাগেনি। সেই ম্লেচ্ছরাজ ও সৈন্যগণ একে একে নির্জীব হয়ে গেল, অস্ত্রশস্ত্র সব নিঃশেষ হয়ে গেল। এমন সময় রাজার শরীর থেকে এক দিব্যা জ্যোতির্ময়ী, দিব্যগন্ধযুক্তা

নানা অলংকারে বিভূষিতা পরমা সুন্দরী রমণী উদ্ভূত হলেন। তখন সেই ম্লেচ্ছ ও তার সঙ্গীগণদের প্রতি ক্রোধান্বিতা হয়ে চক্রহস্তে ম্লেচ্ছের মস্তক ছেদন করে অন্তর্হিতা হলেন। রাজা কিন্তু তখনও নিদ্রিত ছিল,

হঠাৎ ঘুম থেকে সদ্যেত্থিত রাজা এই হত্যাকাণ্ডে বিস্মিত হলেন। রাজা বলতে লাগলেন, অহো! কে আমায় প্রবল শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করলেন? কে এমন পরম হিতৈষী আছেন দেখা দিন।

আমি তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। এমন সময় আকাশ বাণী হল “ভগবান কেশব ছাড়া শরণাগতকে কে রক্ষা করতে পারেন?”

রাজা ঐ দৈববাণী পেয়ে গৃহে ফিরে গেলেন। সেই দিন হতে আরও শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে ভগবদ চিন্তায় দিনাতিপাত করতে লাগলেন। অবশিষ্টকাল ইন্দ্রের ন্যায় নিষ্কন্টক রাজ্য

পালন করে দেহত্যাগান্তে বৈকুন্ঠধামে গমন করেন। মহর্ষি বশিষ্ঠ মহারাজ মান্ধাতাকে বললেন, “হে রাজন! যে মানব পরমোত্তম এই আমলকী একাদশী ব্রত পালন করেন তাঁর বিষ্ণু লোকে স্থান হয়।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here