অলৌকিক!

0
694


আগুন তাকে পোড়াতে পারে না।
সদাপূত দাস: ১৯৯৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সারাবিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বের বিস্মিত হয়েছিল বিভিন্ন মন্দিরে বিগ্রহের দুধ খাওয়া সম্পর্কিত খবর শুনে। সেই ঘটনা মতে, যখনই গণেশ, শিব এবং অন্যান্য দেব-দেবীদের মুখে দুধসহ চামচ ধরা হয় তৎক্ষণাৎ অলৌকিকভাবে দুধ অদৃশ্য হয়ে যায়। এতে মনে হয় যেন সেই বিগ্রহ সমূহ অলৌকিকভাবে প্রদর্শন করার মাধ্যমে দুধ পান করছে।
ভারতে বিড়লা মন্দিরের প্রহরী বলেছিলেন যে, সেদিন সে মন্দিরে ৫৫ হাজার দর্শনাথী আসেন এবং ১২৫ লিটার দুধ খাওয়ানো হয়। আমেরিকাতে রিচমন্ড হিল ও ওকভিলেতে হিন্দু মন্দিরেও দুধ খাওয়ানের ধুম পড়ে যায়। লন্ডনের একটি মন্দিরে গণেশ বিগ্রহ ৩০০০ চামচ দুধ গলাধঃকরণ করে। অনেক ভারতীয় জনগণের মতে যখনই দুধ ভর্তি একটি চামচ স্বচ্ছ কোন স্ফটিক বস্তুতে স্পর্শ করানো হয়, তখন এক বিশেষ আকর্ষণে দুধ আকর্ষিত হয়ে একটি ক্ষুদ্র ধারায় প্রবাহিত হতে থাকে। যেহেতু মানুষ সেই জলধারা দেখতে পাচ্ছিলেন না, তাই তারা ভেবেছেন যে, এগুলো অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। মূলত এগুলো পোশাকের অভ্যন্তরে একটি ড্রেনে চলে যাচ্ছে। একটি স্বাভাবিক ঘটনাও অতিউৎসাহীদের কারণে অলৌকিকতায় পর্যবসিত হয়।
প্রকৃত সত্য কি? প্রকৃতপক্ষে পরোক্ষভাবে প্রাপ্ত কিছু মিশ্র প্রতিবেদন বা তথ্যসমূহ থেকে বা তথ্যসমূহ থেকে বলা কঠিন যে, আসলে ২১ সেপ্টেম্বর কি ঘটেছিল? যাই ঘটুক না কেন এটি স্পষ্ট যে, সামাজিকভাবে দুধের অলৌকিকত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
অলৌকিকতা এবং রটনা মানব মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। এ সমস্ত অলৌকিকত্বসমূহ কিছু সাধারণ পর্যবেক্ষনে মাধ্যমে প্রকৃত সমাধানে পৌঁছা কষ্টসাধ্য।
আবার অনেক তথাকথিত অলৌকিকতা রীতিমত মানুষকে প্রকৃত সত্য থেকে অনেক দূরে ঠেলে দিয়ে অজ্ঞানের অন্ধকারে নিমজ্জিত করে।
ছবিতে প্রদর্শিত ফায়ার যোগী নামে এই যোগীটি ভারতের কিছু স্থানে খুবই বিখ্যাত। এই যোগীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল তিনি আগুনে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, অর্থাৎ ভয়ংকর আগুনের মধ্যে থাকলেও তার শরীর পুড়ে যায় না। ব্যাপারটি তিনি জনসমক্ষেও প্রদর্শন করেছেন। প্রায় ১২ ঘন্টার দীর্ঘ এক যজ্ঞের পর রীতিমত আগুন নিয়ে খেলা করেছেন। আর তখন ঘটনাটি অলৌকিকত্বের পর্যবসিত হয়। সাধারণ মানুষ তার অলৌকিকত্বে আকর্ষিত হয়। কেউ কেউ বলতে শুরু করেন’ ইনি কলিযুগের ভগবান’ ইনি বিপদ থেকে আমাদের অলৌকিকভাবে রক্ষ করবেন’। অলৌকিকত্ব প্রদর্শনকারী ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশে খুবই দেখা যায়। এমনকি নানাবিধ নতুন নতুন শাস্ত্রও গড়ে উঠতে দেখা যায়।

অলৌকিকতা এবং প্রকৃতি


অলৌকিকতা বা মিরাকল শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘মিরা’ থেকে যার অর্থ বিস্মিত হওয়া। ‘মিরাকল’ হল এমন আশ্চর্যময় ঘটনা যা অবলোকন করলে মনে হবে যেন তা প্রকৃতির নিয়ম অতিক্রম করেছে এবং তা কোন দৈবিক বা আধ্যাত্মিক কারণে হয়ে থাকে। অলৌকিকতাকে সাধারণ ঐশ্বরিক শক্তির প্রমাণ হিসেবে ধরা হয় যা ধর্মীয় বিশ্বাসে অনুপ্রেরণা হিসেব কাজ করে। অন্যদিকে অলৌকিকত্ব সন্দেহ এবং নাস্তিকতা সৃষ্টি করে।
অধিকাংশ ব্যক্তির মতে ‘‘প্রকৃতির নিয়ম” হচ্ছে এমন সব প্রাকৃতিক ঘটনা, যা আমাদের চোখে স্বাভাবিক। উদাহরণস্বরূপ, স্বাভাবিকভাবে তরল পদার্থ তথা দুধ সর্বদাই স্বাভাবিক ঘনত্ব এবং পরিমাণ বজায় রাখে, যদি না এটি তাপ, রাসায়নিক পদার্থে প্রভাবিত না হয়। কেউই প্রত্যাশা করে না হয়। কেউই প্রত্যাশা করে না যে, দুধ কোন পাথর বা ধাতুর সংস্পর্শে আশা মাত্রই অদৃশ্য হবে। কিন্তু যদি দুধ অদৃশ্য হয় তখন সকলেই ভাবে যে, উচ্চতর কোন শক্তিমত্তার কারণে এটি হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত অনেকেই এই ধরনের বহু অলৌকিকতার ভিন্নতর যুক্তি বা ব্যাখ্যার অবতারণা করতে পারে। যেহেতু মানুষ্য জাতির ৪টি ত্রুটি রয়েছে-আমাদের ইন্দ্রিয়সমূহ, অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিযুক্ত, আমরা ভুল করতে অভ্যস্ত। আমরা মায়ায় মোহিত এবং আমাদের অপরকে ঠকানোর সহজাত প্রবণতা রয়েছে।
যদি কখনো অস্বাভাবিক ও অলৌকিক ঘটনাও ঘটে, তবে আমাদের ইন্দ্রিয়ের অপূর্ণতার কারণে আমরা একই ধরনের মেকি ঘটনার জন্ম দিই। উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক যে, ২১ সেপ্টেম্বর কয়েকটি মন্দিরে সত্যিই দুধ অদৃশ্য হয়। কিন্তু যখনই এই ঘটনা প্রচারিত হয়, তখন সর্বত্রই একই ধরনের ঘটনার সূত্রপাত হয়ে যায়। কিন্তু নাস্তিকেরা যখনই নির্দেশ করল যে, এটি একটি বিশেষ অাকর্ষণ তথা ইংরেজিতে Capillary effect এর কারণে হয়ে থাকে, দুধের Capillary effect তত্ত্বে প্রভাব কেন এর পূর্বে পড়েনি বা বর্তমানে পড়ছে না এই যুক্তির কোন ব্যাখ্যা তারা প্রদান করেননি। কিন্তু Capillary effect কোন অলৌকিকতার কারণে নয়; তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেকেরই ভক্তি-শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে য়ায়। এছাড়াও মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা লোক ঠকানো বা প্রবঞ্চনার জন্য নানা উদ্ভট কাহিনী বা মিথ্যা ঘটনার জন্ম দেয়, যা ধর্মীয়ভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। সুতরাং বাস্তবিকই কোন অলৌকিক ঘটনা ঘটলেও চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে আমরা এর পরিণতিতে বহু মিথ্যা সংবাদ পেয়ে থাকি। এতসব উচ্চভিলাষি অতিরঞ্জিত তথ্যের কারণে মূল ঘটনাই আড়ালে পড়ে যায়, যা প্রকৃত পক্ষে আমাদের ধর্মের প্রতি বিদ্রুপ নিয়ে আসে এবং নাস্তিকতার জন্ম দেয়।

যোগী এবং সিদ্ধি

যদিও মনে হয় যেন অলৌককতা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম ভঙ্গ করে, তবু এগুলো উন্নত প্রকৃতির নিয়মের স্বাভাবিক প্রকাশ মাত্র। তাই ৪র্থ শতকে খ্রিস্টিয়ান পাদ্রী সেন্ট অগাস্টিন লিখেছেন, ‘অলৌকিক কেনা কিছুই প্রকৃতির সাথে অসঙ্গতি রেখে ঘটে না, কিন্তু প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞঅনতার সাথে শুধুমাত্র অসঙ্গতি হয়।’

শ্রীমদ্ভাগবত মতে সিদ্ধিদের শক্তির মধ্যে রয়েছে লঘিমা, যাতে সে অভিকর্ষের প্রভাব রপ্ত করতে পারে, কারো শরীরের আকার পরিবর্তন করতে পারে (অনিমা ও মহিমা), দূরবর্তী কোন স্থঅন থেকে কোন বস্তু প্রাপ্ত হওয়া (প্রাপ্তি), এই সকল সিদ্ধিসমূহকে প্রাকৃতিকভাবে অস্তিত্বশীর ধরা হয় এবঙ দৃঢ়বদ্ধ যোগীরা এই সকল প্রাকৃতিক শক্তি আয়ত্ব করতে পারেন। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, প্রাপ্তি সিদ্ধির মাধ্যমে একজন প্রকৃত যোগী চন্দ্রগ্রহকেও স্পর্শ করতে পারেন এবং তিনি এক স্থঅনে বসে হাজার হাজার মাইল দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত কোন বাগান থেকে ফল নিয়ে আসেন তখন সে বাগানের কোন ব্যক্তি অবলোকন করবেন যে, সেই ফলটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল।

অতি প্রাকৃতিক (Paranormal)

 

অলৌকিকভাবে কোন বস্তু অদৃশ্য হওয়ার পেছনে এমন অনেক ব্যক্তির সংস্পর্শ থাকতে পারে যারা কখনো যোগাভ্যাস করেনি। ভৌতিক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে কোন বিশেষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতেও। যেমন, কোন বিশেষ ব্যক্তির উপস্থিতিতে আগুন লেগে যাওয়া, অদ্ভুত শব্দ হওয়া, কোন বস্তুর অদ্ভুত নাড়াচড়া কিংবা অদৃশ্য হযে যাওয়া ইত্যাদি। সাধারণত এই সকল ক্ষেত্রে এগুলোকে ভূতের কর্ম বলে মনে করা হয়। অতি প্রাকৃত মনস্তত্ত্ববিদ ইয়ান স্টিভেনসন ভারতে সংগঠিত এই ধরনের একটি ঘটনা উল্লেখ করেন, যেখানে খাবার অদৃশ্য হয়ে যেত। মুম্বাইয়ের দক্ষিণে দেওগাঁ গ্রামে রাধিকা নামে এক মহিলা বাস করতেন। গ্রামে সবাই তাকে ডাইনি বল ডাকত, কেননা গ্রামে সকলের খঅবার অদৃশ হয়ে রাধিকার ঘরে পৌঁছে যেত। গ্রামবাসীরা ভঅবল যে, রাধিকা তার জাদুকরী ক্ষমতার মাধ্যমে সকরের খাবার চুরি করত। তাই গ্রামবাসীরা তাকে খাবার অর্পণ করত যাতে সে চুরি না করে।

স্টিভেনসনের সঙ্গী এবং সংবাদদাতা স্বামী কৃষ্ণানন্দ রাধিকার ক্ষতা পরীক্ষা করতে চাইলেন। একবার কৃষ্ণনন্দ তাঁর হাতের একটি পাত্র এবং দূরবর্তী দুধ দোহনরত একটি ব্যক্তিকে নির্দেশ করলেন রাধিকাকে এবং বললেন যাতে সে দূরবর্তী স্থান থেকে দুধ তার পাত্রে নিয়ে আসে। তৎক্ষণাৎ অবিশ্বাস্যভাবে পাত্র দুধে পূর্ণ হয়ে গেল এবং দূরবর্তী ‍দুধ দোহনকারী লক্ষ্য করলেন যে, তার পাত্র খালি হয়ে গেল। সকলেই তখন বিস্মিত হয়ে গেল। রাধিকা বিশ্বাস করত যে, তার অভ্যন্তরে থাকা একটি অতৃপ্ত আত্মাই এই কাজ করত এবং ইয়ানস্টিভেনসন এই বক্তব্য সমর্থন করেন।

সুতরাং সরাসরি ভগবান কিংবা তাঁর সেবক দেবদেবীদের সংস্পর্শ ছাড়াও প্রকৃতিতে নানা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু এই ঘটনাসমূহ কি সত্যি? এইখ আমরা অলৌককতা সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের ধারণা জানতে পারব।

বিজ্ঞান ও অলৌকিকতা

আধুনিক বিজ্ঞঅনের সূত্রপাত হিসেবে আমরা সতের শতকে সার আইজ্যাক নিউটন কর্তৃক গাণিতিক পদার্থবিদ্যঅর উন্নতি নজরে আনতে পারে। নিউটন উন্ন গাণিত ফর্মুলার মাধ্যমে প্রকৃতির নিয়মভিত্তিক তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যার নাম Laws of Physics. বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্বের কদর করতে শুরু করেন। কেননা এই তত্বের ভিত্তিতে সঠিকভাবে পরিমাপের মাধ্যমে তত্বটির প্রাসঙ্গিকতা পরীক্ষা করা যায়।

নিউটনের পর থেকে লজ অব ফিজিক্স-এ অনেকগুলো পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। কিন্তু এই তত্ত্ব অলৌকিক ঘটনাসমূহের সাথে সর্বদাই অসঙ্গতিপূর্ণ। এই তত্ত্ব মতে ত্রিমাত্রিক কোন পরিবেশে কোন শক্তিমত্তার সাহায্যে কোন বস্তু নড়াচড়া ব্যতীত অদৃশ্য হওয়া সম্ভব নয়। তাই আধুনিক বিজ্ঞঅন মত অলৌকিক কোন কিছু সম্ভব নয়। কেননা তা পদার্থবিদ্যার সূত্রকে লঙ্ঘন করে।

আঠার শতকে স্কটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউস অলৌকিকতার একটি মানদণ্ড প্রদান করেন যা এখনো বিপুলভঅবে গ্রহন করা হয়। তিনি ঘোষণা করেন – “অলৌকিকতা পর্যবসিত হবে এমন ঘটনার প্রমাণাদি ততক্ষণ পর্যন্ত পর্যাপ্ত নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত এটি প্রমাণের বিপরীত মিথ্যা যুক্তিটিও আরো বেশি অলৌকিক বলে পরিগণিত হবে।” অর্থাৎ অলৌকিকতার বিপরীত যুক্তিটি যদি গ্রহণযোগ্য না হয় তবে অবশ্য ঘটনাটি অলৌকিক বলে পরিগণিত হবে।

সুতরাং এই বাণী দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, অলৌকিকতার যথার্থতা চূড়ান্তভঅবে বিশ্বাস দ্বারা নির্ণিত হবে। অনেক বিজ্ঞানীর মতে নিউটনের পদার্ধবিদ্যার নীতি অলঙ্ঘনীয় তাই মিরাকল বলে কিছুই নেই। আবার অনেকের মতে নিউটনের তত্ত্বই সবকিছু নয়। দুই তত্ত্বই যদি সন্নিবেশিত করে তবে আমরা বুতেত পারব যে, প্রকৃতির নিয়ম সম্পর্কে আমাদের আরো অনেক জানার বাকি আছে।

ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অলৌকিকতা

এতক্ষণের বর্ণনার পর এটা ভাবা উচিত নয় যে, কেউ ধর্মীয় ক্ষেত্রে অলৌকিকতাকে অনুমোদন করবে না। গৌড়িয় বৈষ্ণব ইতিহাসে আমরা বিভিন্ন অলৌকিকত্বের ঘটনা প্রত্যক্ষ করি। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাবিলাস অলৌকিকতায় পূর্ণ। মহাপ্রভু শ্রীবাস ঠাকুরের মৃতপুত্রকে জীবন দান করেন, বাসুদেব এবং সার্বভৌম ভট্টাচার্যকে কলেররা থেকে মুক্ত করেন। রামানন্দ রায় এবং সার্বভৌম ভট্টাচার্যকে তার অপ্রাকৃত রূপ দর্শন করান, বেনারসে মায়াবাদীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের মধ্যেমে তাদের ভক্তের পরিণত করেন, বদ্ধ ঘর থেকে অলৌকিকভাবে বের হয়ে যান। জগন্নাথপুরীর রথযাত্রায় বিভিন্ন কীর্তন দলে একই সময়ে অলৌকিকভাবে অবস্থান করেন।

ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এই সমস্ত লীলা কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী বিরচিত ‘চৈতন্যচরিতামৃতে’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে। ভক্তদের উপস্থিতিতে মহাপ্রভু কিভানে িএকইষাতে বঙ্গে নৃসিংহানন্দ ব্রহ্মচারী এবং পুরীতে কৃষ্ণানন্দ দাস কবিরাজের নিবেদিত ভোগ গ্রহণ করেছিলেন তার বিশদ বর্ণনা দেওয়া হযেছে। তাই কৃষ্ণদাস পরিশেষে বলেছেন, “যে কেউ এই সকল লীলাসমূহ শ্রবণ করবেন তারা ভবানের অপ্রাকৃত ঐশ্বর্য সম্পর্কে অবগত হবেন।”

অলৌকিকতার প্রমাণ/লক্ষণ

এটি দেখে মনে হয় যেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অলৌকিক কার্যাবলী বণিৃত হযেছে তাঁর অপ্রাকৃত স্থিতি প্রমাণের জন্য। একদিকে ধরলে সেটি সঠিক। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অলৌকিকত্ব এবং অন্যান্য জনপ্রিয় জাগতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

 

প্রথমত চৈতন্যচরিতামৃতে বর্ণিত অলৌকিক ঘটনাগুলো উচ্চতর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছেন। যেমন-কৃষ্ণদাস কবিরাজ ও তার গুরুদবে রঘুনাথ দাস গোস্বামী এবং স্বরূপ দামোদর। বেশিরভাগ অলৌকিকতা গ্রহণের একটি প্রধান অন্তরায় হচ্ছে যে এগুলো সাধারণ ব্যক্তি কর্তৃক কথিত হয় এবং অগ্রহযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে জোড়পূর্বক বিশ্বাসে বাধ্য করা হয়। এভাবে ভুলকে সত্য বলে গ্রহণ করার ফলে আমাদের সত্যকে ভুল বলে স্বীকার করতে হয়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্ত হতে হরে আমাদের সর্বদা অলৌকিকতার ঘটনাগুলোকে উচ্চতর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে শ্রবণ করা উচিত। অর্থাৎ, যারা প্রকৃত উৎস থেকে তথ্য উপস্থঅপন করেন। এক্ষেত্রে রঘুনাথ দাস গোস্বামী এবং স্বরূপ দামোদর হলেন উন্নত যোগ্যতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষক। কেননা তারা সরাসরি মহাপ্রভুর বহু লীলা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং অন্যান্য বিষয়াদি ভালভাবে অবগত আছেন।

সাধারণত অলৌকিকতা প্রদর্শনকারী বিখ্যাত ব্যক্তি সদ্‌গুরু না হতে পারে। কিংবা অলৌকিকতার ভিত্তিতে সদ্‌গুরুদেব নির্বাচন করা উচিত নয়। আমাদের সর্বদা পরম্পরা, বৈদিক শাস্ত্র এবং যোগ্যতাসম্পন্ন উচ্চতর প্রতিনিধির মাধ্যমে শ্রবণ করে অলৌকিকতার চিহ্ন সম্পর্কে জানতে হবে।

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী এটি বর্ননা করেন নি যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অলৌকিক শক্তি রয়েছে বলেই তিনি অপ্রাকৃত। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাবিলাস অলৌকিকতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি গুরুত্বপূর্ণ এজন্যই কেননা এটি পরমেশ্বর ভগবান এবং ভক্তের মধ্যে প্রেমময় আদান-প্রদানের শিক্ষা প্রদান করেন, যা জীবের পরম কল্যাণ বয়ে আনে। শ্রীল প্রভুপাদ আমাদের অলৌকিকতার প্রতি আগ্রহ প্রকাশে নিরুৎসাহিত করেছেন যাতে মানুষ সেই সব জাদুকরী ক্ষমতা সম্পন্ন লুটেরাদের হাত থেকে নিস্তার লাভ করে।

সুত্র: Augustine, Against Faustus the Manichee, Book 29, Chapter 2.

2. Srimad-Bhagavatam, Canto 11, Chapter 15.

3. The Nectar of Devotion, pp. 11-12.

4. Stevenson, Ian, July, 1972, “Are Poltergeists Living or Are They Dead?” The Journal of the American Society for Psychical Research, Vol. 66, No. 3.

5. Ibid., p. 243.

6. Subatomic particles can do this by a process known as quantum-mechanical tunneling. A macroscopic object is one that is much larger than an atom, and for such objects, quantum- mechanical tunneling is ruled out.

7. Hume, David, “An Enquiry Concerning Human Understanding,” in Enquiries Concerning the Human Understanding and Concerning the Principles of Morals, Second Edition, ed. L.A. Sleby-bigge (Oxford: 1902), pp. 115- 116.

8. Sri Chaitanya-charitamrita, Antya-lila, 2.83.

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here