অর্থ ব্যয়ের কৌশল

0
19

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ্ত

অর্থ যখন পারমার্থিক শক্তি : “Money is honey”-“অর্থ হল মধুময়” তাই যতদূর সম্ভব এটিকে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রসারে নিযুক্ত করা উচিত। নিঃসন্দেহে এই শরীর মায়া নির্মিত একটি যন্ত্র মাত্র কিন্তু সেই মায়া নির্মিত যন্ত্র যখন কৃষ্ণভাবনামৃত প্রসারে কাজ করে তখন তা চিন্ময় হয়ে ওঠে। কৃষ্ণের কৃপায় জড় শক্তি চিন্ময় শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে এবং যা চিন্ময় শক্তি তা কখনো মন্দ হতে পারে না। কৃষ্ণভাবনামৃত হওয়া মানে পারমার্থিক বা চিন্ময় শক্তিতে স্থিত হওয়া ।
(হংসদূতকে পত্র, ১৩ অক্টোবর, ১৯৬৭)
আমরা পিতা এবং মাতার কাছে বিভিন্ন দিক থেকে ঋণী। সুতরাং যেহেতু তারা তোমার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের যতদূর সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা কর। সেই সাথে উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ কৃষ্ণের জন্যও ব্যয় কর। রূপ গোস্বামী তাঁর অর্থের ৫০ শতাংশ কৃষ্ণের জন্য, ২৫ শতাংশ জরুরি প্রয়োজনের জন্য ২৫ শতাংশ আত্মীয় স্বজনদের জন্য বরাদ্দ করে রাখতেন। তুমি সাধ্যমত এই নীতি অনুসরণ করার চেষ্টা কর। তোমার আসল কাজ হচ্ছে কৃষ্ণভাবনাময় থাকা । তুমি যদি এই দৃষ্টিভঙ্গি হৃদয়ে ধারণ করতে পার তবে তুমি সামাজিক অন্যান্য সম্বন্ধগুলোর সাথে আসক্তি রহিত হয়ে যুক্ত থাকতে পারবে।”
(গোপালকৃষ্ণকে পত্র ২১ জুন, ১৯৬৯)
বেশি অর্থের প্রয়োজন নেই। পরবর্তী বিষয় হচ্ছে, যে অপ্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের অপচয় করে সে একজন সন্ত্রাসী এবং যে তার প্রয়োজনের অধিক অর্থ উপার্জন করে সেও একজন সন্ত্রাসী। তাই প্রকৃতির আইন অনুসারে অথবা ভগবানের আইন অনুসারে এই ধরনের ব্যক্তি অবশ্যই শাস্তি প্রাপ্ত হবে এই শাস্তি হয়ত এই জন্মে পাবে না। কিন্তু জীবন যেহেতু চিন্ময় এবং এটি প্রবাহমান তাই সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই এই জন্ম বা এর পরবর্তী জন্মে শাস্তি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কেননা তারা ঝুঁকি নিচ্ছে। অতএব জীব এক দেহ হতে অন্য দেহে দেহান্তরিত হয়। এটিই হচ্ছে জীবনের সমস্যা। মনুষ্য জীবন এই সমস্যা সমাধানের জন্যই প্রদান করা হয়েছে। সমস্ত প্রাণীকূল- হরিণ, উট, গাধা, বানর এমনকি মাছি বা সাপ কারো সাথে খারাপ আচরণ করা উচিত নয়। এমনকি তারা যদি খাদ্যের জন্য গৃহে বা মাঠে প্রবেশ করে তবুও তাদের বাধা দেয়া উচিত নয়। কারণ পরমেশ্বর প্রদত্ত খাদ্যশস্য প্রাপ্তির অধিকার তাদেরও রয়েছে এবং কখনো তারা প্রয়োজনের অধিক আহার গ্রহণ করে না বা বাড়িতে নিয়ে যায় না। বরং তারা মানব সমাজের চেয়ে উন্নত। যদি একটি মানুষকে বাড়িতে অথবা শস্যক্ষেতে অথবা বাগানে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয় তখন সে চেষ্টা করবে বাইরে বিক্রির জন্য কিছু নিয়ে যেতে বা কিছু শস্য নিজের জন্য মজুদ করে রাখতে। কিন্তু পশু-পাখিরা তা করে না। তাই এই সরল অবলা প্রাণীকূলকেও নিজেদের শিশু অথবা পরিবারের একজন বলে গ্রহণ করা উচিত।
(রায়রামকে পত্র, ১৭ অক্টোবর, ১৯৬৮)

অর্থের অপব্যবহার

নাগরিক কর্তৃক বেআইনিভাবে উপার্জিত অর্থ অনেকটা ছিনিয়ে নেয়া হয়, দেশীয় বা বৈদেশিক যুদ্ধ তহবিলের নামে। যেগুলি ব্যয় করা হয় অপচয় বা ধ্বংসাত্মক কাজে। পারিবারিক পরিচালনা ও পারমার্থিক জ্ঞান পরিচর্যার জন্য সীমিত ব্যয় নির্বাহ করা যায়, এই পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে তারা সন্তুষ্ট নয়। এখন সকলে চাই তাদের সীমাহীন চাহিদা পূরণের জন্য অপরিমেয় অর্থ উপার্জন করতে। মানুষের এই বেআইনি চাহিদার কারণে তাদের এই উপার্জিত অর্থ মায়ার শক্তি যেমন আইনবিদ, ন্যায়পাল, ডাক্তার, সামাজিক অনুষ্ঠান, তথাকথিত ধর্মীয় ব্যক্তি, দুর্ভিক্ষ, ভূকম্পন এবং অন্যান্য দুর্যোগের রূপ ধারণ করে তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেই।

কৃষ্ণের ওপর নির্ভরশীলতা

আমাদের সংগঠনের উন্নয়নের জন্য লক্ষ লক্ষ ডলারের প্রকল্পের কাজ প্রয়োজন কিন্তু কৃষ্ণ আমাদের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে রেখেছেন। আমি মনে করি সবসময় অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতায় থাকা ভাল, কারণ এটি আমাদেরকে কৃষ্ণের প্রতি প্রার্থনার মনোভাব পোষণে সক্ষম করে তোলে। দৈন্যতার সাথে তাঁর সেবা করতে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা সহজ হয়। যদি হঠাৎ করেই আমরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠি তাহলে মায়া আমাদের ইন্দ্রিয়তৃপ্তির পথে পরিচালিত করবে এবং আমরা তখন মায়ার ফাঁদে আটকা পড়ব।
অতএব, দরিদ্র থাকাও কৃষ্ণভাবনায় অগ্রসর হবার একটি যোগ্যতা। আমাদের পূর্বতন আচার্যগণ, গোস্বামী, সন্ন্যাসী সকলে কৃষ্ণভাবনায় অগ্রগতির জন্য স্বেচ্ছায় সমস্ত কিছু পরিত্যাগ করেছিলেন। আমাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসেবের প্রয়োজন নেই। আমরা যে কোনো কিছুতেই সর্বদা আনন্দিত থাকব। কৃষ্ণ আমাদের পরিচালনার রসদ যোগান দিতে অত্যন্ত উৎসাহী। কিন্তু শুধুমাত্র প্রচারের নিমিত্তেই এই বিশ্বের সকল অর্থ-সম্পদ গ্রহণ করা উচিত। তাই অত্যন্ত কঠোরভাবে এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং কৃষ্ণ অবশ্যই আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃতে প্রগতির ব্যাপারে সাহায্য করবেন।
(তমাবতীকে পত্র, ১৮ জুন, ১৯৬৮)

অর্থের উদ্দেশ্য

অর্থের মূল উদ্দেশ্য সঞ্চয় করা নয়। বরং এটি ব্যয় করার জন্য আমাদের নীতি হওয়া উচিত যে, আমরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ডলার সংগ্রহ করব এবং প্রতিদিনই খরচ করব। এটিই আমাদের নীতি হওয়া উচিত। প্রত্যেক দিন সকলে আমরা শূন্য হাতে থাকব। দিনের বেলায় লক্ষ লক্ষ ডলার সংগ্রহ করব, সন্ধ্যার মধ্যেই সব অর্থ ব্যয় করে ফেলব। এটিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত । কিন্তু যেহেতু আমাদেরকে দৈনন্দিন ব্যয়ও নির্বাহ করতে হয় অতএব আমাদেরকে জরুরি প্রয়োজনের জন্য কিছু অর্থ বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই যদি তুমি লেগুনা বিচে একটি প্রচার কেন্দ্র খোলার সুযোগ পাও তাহলে তা কর। যখন আমরা লস্এঞ্জেলস্ একটি বড় মন্দির পেয়ে যাব তখন কৃষ্ণ আমাদের প্রয়োজনীয় তহবিলের ব্যবস্থা করে দেবে।
(তমাল কৃষ্ণকে পত্র, ১৭ জুন ১৯৬৯)
বিভিন্ন উৎস হতে অর্থের যোগান দিয়ে কৃষ্ণ তোমাকে সাহায্য করছে। অর্থই আমাদের দরকার, কিন্তু তা শুধু প্রয়োজন নির্বাহ করার জন্য। আমাদের ইন্দ্রিয় তৃপ্তির উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যয় করার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমাদের প্রয়োজনে আমরা জানি সব-সুবিধাদি দিয়ে কৃষ্ণ আমাদের সাহায্য করবেন।
(বৃন্দাবনেশ্বরীকে পত্র, ২৬ এপ্রিল, ১৯৬৯)

নারায়ণ-লক্ষ্মীর যুগল

প্রচার কাজকে প্রনোদনা দেয়াও একটি প্রচার। তুমি যদি আমাদের প্রচার কার্যক্রম প্রসার করার জন্য অর্থ পাও, তবে সেটিও একটি প্রচার। আমাদের অর্থের প্রয়োজন। লক্ষ্মী হচ্ছে নারায়ণের প্রধান সেবিকা। নারায়ণ-লক্ষ্মী দ্বারা সেবিত হয়। মায়াবাদি দার্শনিকেরা অর্থ স্পর্শ করে না। কিন্তু আমরা অর্থ গ্রহণ করি শুধু কৃষ্ণসেবার জন্য। আমাদের মানসিকতা রাবণের মত নয় যে, নারায়ণের কাছ থেকে লক্ষ্মীকে হরণ করে এবং নিজের বিনাশ ডেকে আনা । নারায়ণ ও লক্ষ্মীকে এক সাথে রাখ এবং তুমি হনুমানের মত শক্তিশালী ভক্ত হও। তিনি সর্বদা নারায়ণ-লক্ষ্মী যুগলের বা রাম-সীতার সেবা করেছিলেন।                        করন্ধরকে পত্র ১৮ই জুন, ১৯৭৫

অর্থের ভোক্তা

যেখানেই টাক৷ পাবে সেটি নারায়ণের সেবায় নিযুক্ত করবে। সবার উচিত এই অপ্রাকৃত আন্দোলন কৃষ্ণভাবনামৃত প্রসারে অর্থ ব্যয় করা। যদি কেউ এই উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যয় না করে কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে তাহলে বেআইনিভাবে উপার্জিত অর্থের দণ্ডে সে অহঙ্কারী হয়ে পড়বে। ভগবদ্‌গীতায় কৃষ্ণ বলেছেন-
ভোক্তারং যজ্ঞতপসাং সর্বলোকমহেশ্বরম্ ।
সুহৃদং সর্বভূতানাং জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমৃচ্ছতি ॥ ২৯ ॥
আমাকে সমস্ত যজ্ঞ ও তপস্যার পরম ভোক্তা, সর্বলোকের মহেশ্বর এবং সমস্ত জীবের সুহৃদরূপে জেনে যোগীরা জড় জগতের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত হয়ে শান্তি লাভ করেন।
এই জগতের কোনো কিছু অন্য কারো নয় সবকিছুই কৃষ্ণের। যে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করে তাহলে তার অবশ্যই এই অর্থ কৃষ্ণের জন্য ব্যয় করা উচিত। অন্যথায় সে মিথ্যে অহঙ্কারের দ্বারা দাম্ভিক হয়ে উঠবে। এবং পরবর্তী জন্মে সে শাস্তি পাবে যেমনটি ভাগবতে বর্ণিত আছে এই বর্ণনাটি ভগবদ্‌গীতার প্রথম দিকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশের অনুরূপ। তথা দেহান্তরপ্রাপ্তিঃ –এই জড় জগতে জীবকে বিভিন্ন লোকে এক দেহ থেকে আর এক দেহে দেহান্তরিত হতে হয়। ঊর্ধ্বং গচ্ছন্তি সত্ত্বস্থা—যাঁরা সত্ত্বগুণে রয়েছেন, তাঁরা স্বর্গলোকে উন্নীত হন। অধো গচ্ছন্তি তামসাঃ – তেমনই, যারা তমোগুণের দ্বারা আচ্ছন্ন, তারা নরকে প্রবেশ করে। কিন্তু তারা উভয়েই জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ । ভগবদ্‌গীতায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যারা পুণ্যবান তাদেরও স্বর্গলোকে সুখভোগ করার পর পুনরায় এই মর্ত্যলোকে ফিরে আসতে হয় (ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশন্তি)। তাই, এক লোক থেকে আর এক লোকে গমনাগমনের ফলে জীবনের প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয় না। জীবনের সমস্যার সমাধান তখনই হবে, যখন আর জড় শরীর ধারণ করতে হবে না। কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার ফলেই কেবল তা সম্ভব। সেই সম্বন্ধে শ্রীকৃষ্ণ ভগবদ্‌গীতায় (৪/৯) বলেছেন-
জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ ।
ত্যক্তা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন ॥
“হে অর্জুন, যিনি আমার এই প্রকার দিব্য জন্ম এবং কর্ম যথাযথভাবে জানেন, তাঁকে আর দেহত্যাগ করার পর পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয় না, তিনি আমার নিত্য ধাম লাভ করেন।” সেটিই হচ্ছে জীবনের প্রকৃত সিদ্ধি এবং সমস্ত সমস্যার প্রকৃত সমাধান। স্বর্গলোকে উন্নীত হওয়ার জন্য আগ্রহী হওয়া উচিত নয়, সেই সঙ্গে এমনভাবে আচরণ করাও উচিত নয় যার ফলে নরকে যেতে হতে পারে। জড় জগতে পূর্ণ উদ্দেশ্য তখনই সাধিত হবে, যখন আমরা আমাদের চিন্ময় স্বরূপ প্রাপ্ত হয়ে ভগবদ্ধামে ফিরে যাব। সেই উদ্দেশ্য সাধনের সরল পন্থাটি বর্ণনা করে ভগবান বলেছেন- সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। পাপী অথবা পূণ্যবান কোনটিই হওয়া উচিত নয়। কেবল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মে শরণাগত হয়ে তাঁর ভক্ত হওয়া উচিত। শরণাগতির এই পন্থাটিও অত্যন্ত সরল। একটি শিশুও তা করতে পারে। মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্‌য়াজী মাং নমস্কুরু। কেবল হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে / হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে— এই মহামন্ত্র কীর্তন করে সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের কথা চিন্তা করা, শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত হওয়া, তাঁর পূজা করা এবং তাঁকে প্রণতি নিবেদন করা। এভাবে জীবনের সমস্ত কার্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবায় অর্পণ করা উচিত।                                    (ভাগবত তাৎপর্য ৫.৩৬.৩৭)

অর্থের প্রেষণা

ক্রমাগতভাবে যদিও এই জগতে অর্থের কোনো অভাব নেই কিন্তু শান্তির অভাব রয়েছে। অনেক বেশি মানব শক্তি অর্থ উপার্জনের দিকে ঝুঁকে গেছে। সাধারণ জনগণ আরো বেশি সংখ্যক বা লক্ষ লক্ষ ডলার উপার্জনের জন্য তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সুদূরপ্রসারি ফল হল এই সীমাহীন ও বেআইনি প্রচেষ্টা সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে একটি সুদূরপ্রসারি নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং আমাদের প্রণোদনা দিচ্ছে এই সস্তায় অর্থলাভের প্রক্রিয়ার ওপর ধ্বংস করতে পারে এমন ব্যয়বহুল অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদনে। তাই উন্নত বিশ্বের বা অর্থনীতিতে শক্তিশালী দেশগুলো সত্যিকারভাবে শান্তি উপভোগ করতে পারছে না। বরং তারা এই পরিকল্পনা করতে ব্যস্ত যে, কীভাবে তারা বিধ্বংসী পারমাণবিক বোমার আক্রমণ হতে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।
আবার একটি বিশাল অংকের অর্থ তারা জলে বিসর্জন দিচ্ছে মৃত্যুরূপি অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ ক্ষেপনাস্ত্রগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা বা মহড়া দেয়ার নামে। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুধুমাত্র একটি বিশাল অংকের অর্থ ধ্বংস করছে না বরং বিস্তীর্ণ জলরাশিতে বাস করা বিশাল প্রাণী জীবকূলের জীবনকেও বিনষ্ট করছে। এভাবে প্রতিটি জাতি তাদের কর্মের আইনের শৃঙ্খলে বাধা পড়ছে। যখন মানুষ ইন্দ্রিয় তৃপ্তি তাড়নায় প্ররোচিত হয় তখন সে যত টাকাই উপার্জন করুক অপব্যয়িত হয়। তা বিনষ্ট হয় মানুষের ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগীতায় এভাবে প্রকৃতির আইনেই মানুষের শক্তিগুলো নিঃশেষ হতে থাকে। কারণ মানুষ সেই পরমেশ্বরের প্রতি বিমুখ হয়েছে যিনি সমগ্র শক্তির উৎস। —(কৃষ্ণভাবনামৃতই সর্বোত্তম পন্থা)।

 
 
 

ত্রৈমাসিক ব্যাক টু গডহেড, অক্টোবর – ডিসেম্বর ২০১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here