অন্যের মনের কথা জানার গোপন রহস্য!

0
66

আপনি হয়ত হিপ্নোটাইজ সম্পর্কে জানেন। এটি এমন একটি পদ্ধতি যার দ্বারা কোনো ব্যক্তিকে সম্মোহিত করা যায়। আমাদের মনের কয়েকটি স্তর আছে। যেমন- কন্‌সিয়াস মাইন্ড, সাব-কন্‌সিয়াস মাইন্ড, সুপার কন্‌সিয়াস মাইন্ড, কালেক্টিভ কন্‌সিয়াস মাইন্ড ও কস্মিক কন্‌সিয়াস মাইন্ড। আমাদের প্রতিটি কাজ সাধারণত কন্‌সিয়াস মাইন্ড স্তরে হয়ে থাকে। কিন্তু সাব-কন্‌সিয়াস মাইন্ড এটির চেয়েও হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। সাব-কন্‌সিয়াস মাইন্ড এর চেয়ে শক্তিশালী স্তর হলো কালেক্টিভ কন্‌সিয়াস মাইন্ড। এটি খুবই সূক্ষ্ম স্তর। অন্যের মনের কথা জানতে পারার বিষয়টি এই কালেক্টিভ কন্‌সিয়াস মাইন্ড এর

সাথে জড়িত। আপনি যখন এই স্তরে আসবেন তখন অন্যের মনের কথা জানতে পারার সক্ষমতা অর্জন করবেন। অনেক সময় এমন হয় যে আমরা কোনো ব্যক্তির মুখের দিকে তাকিয়ে অনুমান করে নিই, সে কি ভাবছে। কিন্তু একজন ব্যক্তি আসলেই কি ভাবছে তা জানতে হলে আপনাকে কালেক্টিভ কন্‌সিয়াস মাইন্ড স্তরে পৌঁছাতে হবে। এর চেয়েও উন্নত স্তর হলো কস্মিক কন্‌সিয়াস মাইন্ড। এটি হচ্ছে সর্বোচ্চ স্তর। কন্‌সিয়াস মাইন্ড বা অবচেতন মনকে এই স্তরে পৌঁছাতে পারলেই মানুষ তার মনকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
কন্‌সিয়াস মাইন্ড বা অবচেতন মন হতে সাব-কন্‌সিয়াস মাইন্ড এর স্তরে পৌঁছাতে একমাত্র উপায় হলো আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে দমন করে মনকে স্থির করার মাধ্যমে ‘যোগ পন্থায়’ অক্ষিদ্বয়কে ভ্রু-যুগলের মাঝখানে সুস্থির করা। এই পর্যায়ে মন কিছুই ভাববে না। আপনি জানতে পারেন অন্যের মাথায় কি চলছে। এই স্তরে আসার মাধ্যম হলো বর্তমান অবস্থাকে অনুভব করা। অথবা

পুরোপুরিভাবে নিজের অস্তিত্বকে অনুভব করা। এরপর নিজের অস্তিত্বকে অনুভব করুন। যখন আপনি নিজের উপর মনোনিবেশ করবেন তখন আপনার দেহজ্যোতির পরিমাণ বেড়ে যাবে। এরপর আপনি নিজের মধ্যে এক আলাদা শক্তিকে অনুভব করতে পারবেন। এভাবে আপনি ধাপে ধাপে কালেক্টিভ কন্‌সিয়াস মাইন্ড-এ পৌঁছে যাবেন। এখন প্রশ্ন হলো আমরা কিভাবে বুঝতে পারবো উন্নতি হচ্ছে? আপনি যখন এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করবেন, তখন আপনি নিজের মধ্যে এক অপ্রাকৃতশক্তি অনুভব করবেন। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, এই কলিযুগে এভাবে ‘যোগপন্থায়’ মনকে বশ বা সুস্থির করা একে বারেই অসম্ভব। ভাগবতমে (১/১/১০) বলা হয়েছে, ‘‘হে মহাজ্ঞানী! এই কলিযুগের মানুষেরা প্রায় সকলেই অল্পায়ু। তারা কলহপ্রিয়, অলস, মন্দমতি, ভাগ্যহীন এবং সর্বোপরি তারা নিরন্তর রোগাদির দ্বারা উপদ্রুত।”
তাই কলিকালের মানুষকে কি করা কর্তব্য সেই সম্পর্কে শুকদেব গোস্বামী (ভা:১২/৩/৫১) বলেছেন, “হে রাজন্! দোষের নিধি এই কলিযোগের একটি মহৎ গুণ আছে। কলিযুগে ভগবানের নাম কীর্তনের প্রভাবে জীব জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করবে।”
চৈতন্য চরিতামৃতেও (আদি ১৭/২২) সে কথা বলা হয়েছে-

কলিকালে নাম রূপে কৃষ্ণ-অবতার।
নাম হৈতে হয় সর্বজগৎ-নিস্তার ॥

সুতরাং, কেবলমাত্র ‘হরেকৃষ্ণ মহামন্থের’ মাধ্যমে আমাদের দুর্দমনীয় মনকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণে আত্মসমর্পন করতে হবে


মাসিক চৈতন্য সন্দেশ আগস্ট ২০২২ হতে প্রকাশিত

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here